সরকারের
মন্ত্রীর নেপথ্য মদদে ডাকা পরিবহন ধর্মঘটের ফলে জনদুর্ভোগে ক্ষমতাসীন
আওয়ামী লীগের ভেতর-বাইরে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। খোদ সরকারি দলের সহযোগী
ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা মন্ত্রিসভা থেকে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান
খানের অপসারণ দাবি করেছেন। সরকারের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও ক্ষুব্ধ।
এ ধর্মঘটে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে বলে তারা মনে করেন। আওয়ামী লীগ
নেতারা শাজাহান খানের বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ খোলেননি। নাম প্রকাশ না করে তারা
চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শাজাহান খানের
সমালোচনায় মুখর হয়েছেন সরকারি দল আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম
সংগঠনের নেতারা। এতে উঠে এসেছে তার অতীত কর্মকাণ্ড। তারা বলছেন, আদালতের
রায়ের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ডাকা ধর্মঘটে শাজাহান
খানের প্রত্যক্ষ মদদ ছিল। এজন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এদিকে
বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, জামায়াতে ইসলামী এ অপসংস্কৃতিটা
(হরতাল-অবরোধ) শুরু করেছিল। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, আমাদের দু’জন মন্ত্রীর
নেতৃত্বাধীন শ্রমিক সংগঠনগুলো জামায়াতে ইসলামীর শুরু করা সেই অপসংস্কৃতি
চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ রায় পছন্দ না হওয়ার ফলে সারা দেশে হরতাল ডাকা হয়েছে।
জামায়াতের হরতালে যে জনদুর্ভোগ হয়নি, এ হরতালে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি
জনদুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এটা একেবারেই সম্পূর্ণ দায়িত্বহীনতার পরিচয়,
জনগণকে জিম্মি রাখার একটা অপচেষ্টা। এর নিন্দার ভাষা খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
সরকারের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা
যুগান্তরকে বলেন, এটা অন্যায় এবং অপরাধমূলক ধর্মঘট। এতে লাখ লাখ মানুষের
ভোগান্তি হয়েছে। যাদের ইন্ধনে এ অন্যায় ধর্মঘটে নামেন শ্রমিকরা তাদের
বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
বুধবার মিরপুরে এক অনুষ্ঠানে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে
বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি আমরা চলতে দিতে পারি না। পুলিশের একটা রেকার ভেঙে
ফেলেছে। একটা জিপের ওপর আক্রমণ করতে গেছে। সেই সময় একজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
জাসদ (আম্বিয়া) সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া নৌপরিবহনমন্ত্রী
শাজাহান খানের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ইঙ্গিত করে যুগান্তরকে বলেন, বেশি কথা
বলা মন্ত্রীদের অভ্যাস। তারা যদি অতিকথন থেকে বিরত থাকেন তাহলে মঙ্গল হবে।
তিনি বলেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকা অযৌক্তিক। এতে মানুষের চরম
ভোগান্তি হয়েছে। জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সাধারণ
সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বুধবার সচিবালয়ে
সাংবাদিকদের বলেন, মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন। এ সম্পর্কিত মন্ত্রী হিসেবে আমি দায়
এড়াতে পারি না। আগের দিন মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আদালত রায়
দিয়েছেন, জনগণ দেননি। তাহলে জনগণকে কেন দুর্ভোগ পোহাতে হবে। যত দ্রুত
সম্ভব এ অযৌক্তিক ধর্মঘট প্রত্যাহার করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আওয়ামী লীগ প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এ ধর্মঘট অযৌক্তিক এবং
আদালত অবমাননা। বিশেষ কারও জন্য রাষ্ট্র ভিন্ন আইন করতে পারে না। শাজাহান
খানকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে বাদ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুবলীগ সহ-সম্পাদক
রফিকুল ইসলাম। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, শাজাহান খানকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে বাদ
দেয়া হোক। আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হোক। তাহলে বাংলাদেশে এ ধরনের অবৈধ
আন্দোলন ও ধর্মঘট বন্ধ হবে। ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী
নাজমুল আলম ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আওয়ামী লীগের হাজার হাজার
নেতাকর্মীর রক্তের দাগ আপনার হাতে এক সময় ছিল মাননীয় মন্ত্রী। আমরা সবাই
ভুলে যাচ্ছিলাম। আপনি আবার শেখ হাসিনার শান্তির দেশে অবরোধ ডেকে মনে করিয়ে
দিলেন আপনার অতীত। ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব লেখেন, শেখ হাসিনার
হাতে দেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখন দালাল শ্রেণীর শ্রমিক নেতারা
দেশকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য ব্যস্ত।

No comments:
Post a Comment