রাজধানীর
গাবতলী টার্মিনাল এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে র্যাব-পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ
হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফাঁকা গুলি, টিয়ারসেল ও জলকামান
নিক্ষেপ করে। বুধবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে পরিবহন শ্রমিকরা সড়কে ব্যারিকেড
সৃষ্টি করলে আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। এরপর
থেকেই র্যাব-পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের বেশ কয়েকবার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার
ঘটনা ঘটছে। শ্রমিকরা গাবতলীর আন্ডারপাশ থেকে মাঝার রোড পর্যন্ত অবস্থান
নিয়ে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় পুলিশ
শ্রমিকদের লক্ষ্য করে বেশ কয়েকবার ফাঁকা গুলি, টিয়ারশেল ও জলকামান নিক্ষেপ
করেছে। শ্রমিকরা জানিয়েছে, পুলিশ তাদের বেশ কয়েকজন শ্রমিককে আটক করে নিয়ে
গেছে। তারা তাদের মুক্তি দাবি করেন। এদিকে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে
শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনায় ওই এলাকার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানা
বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাবতলী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও
র্যাব সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। ট্রাকচালক ইউনিয়নের সভাপতি তাজুল
ইসলাম জানান, তাদের আন্দোলন যৌক্তিক।
শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে।
কিন্তু কিছু কিছু জায়াগায় আইন-শৃংখলা বাহিনী শ্রমিকদের উপর হামালা করছে।
তিনি আরো বলেন, আন্দোলনে শ্রমিকরা কতটুকু ছাড় দেবে, তা নির্ভর করছে সরকারের
আচরণের ওপর। পুলিশের দাবি, গাবতলী বালুর মাঠের পাশের পুলিশ বক্স ও একটি
রেকারে আগুন ধরিয়ে দেয় শ্রমিকরা। পরে তাদের নির্বৃত্ত করতে গেলে তারা
পুলিশের ওপর হামলা করে। সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও
সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহতের মামলায় বাস চালক জামির হোসেনকে গত ২২
ফেব্রুয়ারি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। এই রায়ের প্রতিবাদে প্রথমে
চুয়াডাঙ্গা, পরে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় আঞ্চলিকভাবে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক
দেয় শ্রমিকরা। এরই মধ্যে সাভারে ট্রাকচাপায় এক নারী নিহতের দায়ে চালকের
বিরুদ্ধে সোমবার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত। এরপরই মঙ্গলবার থেকে সারা
দেশে আকস্মিক ধর্মঘট ডাকা হয়। এদিকে গত দুদিন হঠাৎ করে পরিবহন ধর্মঘটে
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে এক দুর্বিসহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গন্তব্যমুখী
মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment