কক্সবাজারের
মহেশখালী উপজেলায় তরুণী নাহিদা আক্তারের ওপর হামলাকারী সেই প্রেমিক
জাহেদুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে একটি বন্দুক ও
দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার ভোরে কালারমারছড়া পাহাড়ি এলাকা
থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত জাহেদুল (২৬) ইসলাম একই উপজেলার
হরিয়ারছড়া এলাকার মৌলানা লোকমান হাকিমের ছেলে । তিনি কক্সবাজার হাসেমিয়া
মাদ্রাসার অনার্সের ছাত্র। মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ যুগান্তরকে
জানান, শনিবার রাতে মহেশখালী উপজেলায় প্রেমিকের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে
গুরুতর আহত হয় তরুণী নাহিদা আক্তার। এ ঘটনাটি ঘটলেও তা প্রকাশ পায় সোমবার
রাতে।এরপরই অপরাধীকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়। বুধবার ভোরে কালারমারছড়া
পাহাড়ি এলাকা থেকে জাহেদুলকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরও জানান, আহত নাহিদা
মহেশখালী উপজেলার অফিসপাড়ার আহমদ হোসেনের মেয়ে ও কালারমারছড়া আদর্শ দাখিল
মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। সে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ
ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতালে উপস্থিত নাহিদার
স্বজনরা জানান, নাহিদা ও জাহেদ সম্পর্কে একে অপরের বেয়াই-বেয়াইন। তাদের
মধ্যে প্রেমের সর্ম্পকও ছিল।
বিষয়টি উভয় পরিবারের লোকজন জানতেন। নাহিদার
চাচী লুৎফুন্নেছা শেলী জানান, কয়েকদিন আগে নাহিদার অন্যত্র বিয়ের প্রস্তাব
আসে। এনিয়ে তৈরি হয় বিরোধ। তিনি জানান, জাহেদের পরিবারের এইচএসসি পাসের পর
তাদের বিয়ে দেয়ার কথা বলে। কিন্তু তা নাহিদার পরিবার মানতে রাজি ছিল
না।শনিবার নাহিদার অন্যত্র বিয়ের কথা পাকা করে তার পরিবার। এর জের ধরে
শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে নাহিদার সঙ্গে কথা বলে জাহেদ। এক পর্যায়ে ধারালো
অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায় জাহেদ। এতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে নাহিদা।
এসময় নাহিদাকে উদ্ধার করে প্রথমে মহেশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে সোমবার
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় নাহিদার চাচা হেলাল উদ্দিন
বাদী হয়ে জাহেদুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ছয় জনের বিরুদ্ধে মহেশখালী
থানায় মামলা দায়ের করেছেন। হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)
এর প্রোগ্রাম কর্মকর্তা মো. শাহজালাল জানান, নাহিদা বর্তমানে সুস্থ আছে।
তার শরীরে ব্লেড জাতীয় ধারালো অস্ত্রের ৫টি আঘাত রয়েছে।

No comments:
Post a Comment