Sunday, March 5, 2017

সিলেটে কলেজছাত্রী খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলার রায় ৮ মার্চ

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে হত্যাচেষ্টা মামলার রায় আগামী ৮ মার্চ। রোববার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা মামলাটির যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার এই তারিখ নির্ধারণ করেন। অতিরিক্ত সরকারি কৌসুলি মাহফুজুর রহমান যুগান্তরকে এ তথ্য জানান। আদালত সূত্র জানায়, যুক্তিতর্কের সময় মামলার একমাত্র আসামি ছাত্রলীগ ক্যাডার বদরুল আলম আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত রোববার সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে সাক্ষ্য দেন খাদিজা। সাক্ষ্য দেয়ার সময় খাদিজা বলেন, আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে, আমি তার বিচার চাই। সেদিন আদালতে দেয়া সাক্ষ্য শেষে জেরা করা হয় খাদিজাকে। গত ২৯ নভেম্বর এই মামলার একমাত্র আসামি বদরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর আগে ৮ নভেম্বর শাহপরাণ থানার এসআই হারুনুর রশিদ আদালতে অভিযোগপত্র দেন। পরবর্তীতে ১৫ নভেম্বর শুনানি শেষে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। গত ৫ অক্টোবর বদরুলকে আদালতে হাজির করা হলে হামলার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। ওইদিন আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বদরুল চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘আমার ফাঁসি হোক।
খাদিজার জয় হোক।’ উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর এমসি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর হামলার শিকার হন স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিস। শাহজালাল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ ক্যাডার বদরুল আলম চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে খাদিজাকে। বর্বর হামলার ভিডিও আকারে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে দেশ-বিদেশে তোলপাড় শুরু হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে খাদিজাকে সিলেটের ওসমানী হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরবর্তীতে পুনর্বাসনের জন্য সাভারের সিআরপিতে পাঠানো হয় খাদিজাকে। প্রায় ৫ মাস চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা ছাড়পত্র দিলে সিলেটের গ্রামের বাড়ি ফেরেন খাদিজা। এদিকে খাদিজার ওপর বর্বর হামলাকারী ছাত্রলীগ ক্যাডার বদরুল গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন। হামলার ঘটনার পর ছাত্রলীগ বদরুলকে বহিষ্কার করে। বর্তমানে তিনি কারাবন্দি।

No comments:

Post a Comment