Saturday, March 4, 2017

বিএনপির না থাকলে কোনো দলেরই নিবন্ধন থাকবে না: মোশাররফ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, নির্বাচন কমিশন তার দলের নিবন্ধন বাতিল করলে দেশের অন্য কোনো দলেরই নিবন্ধন থাকবে না। তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এদেশের জনগণ হলো দেশের মালিক-মোক্তার, আপনারা (সরকার) কেউ না। নির্বাচনের সময়ে নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করেই আমরা ইনশাল্লাহ নির্বাচন করবো সেখানে নিবন্ধন বাতিলের প্রশ্ন উঠবে না।' শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জাতীয়তাবাদী নাগরিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় খন্দকার মোশাররফ এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে ওই সভার আয়োজন করা হয়। খন্দকার মোশাররফ বলেন, আপনারা ইদানিং বলছেন, বিএনপির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে সেজন্য নাকি নির্বাচনে আসবে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে একটি নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা করবো ইনশাল্লাহ। সেই সরকারের অধীনেই স্বাধীনমুক্ত পরিবেশে দেশনেত্রীর নেতৃত্বে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহন করবো। খালেদা জিয়াকে কোনো মামলায় শাস্তি দেয়া সম্ভব হবে না দাবি করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাগুলোর তথ্য-উপাত্ত-যুক্তি নেই। ওইসব মামলা সবটাই বানোয়াট ও মিথ্যা, কোনটাই প্রমাণ করতে পারবে না সরকার।
তিনি বলেন, যারা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শাস্তি দিয়ে, বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার স্বপ্ন দেখছেন এবং নানা অপপ্রচার করছেন তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনারা এই চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন। আপনারা সহজ পথে আসুন, গণতন্ত্রের পথে আসুন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের বার্ষিক প্রতিবেদনের বরাতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে, বিচার বিভাগ দুর্বল এবং বিচার ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, দুর্বল বিচার বিভাগকে আজকে এই সরকার জুজুর ভয় হিসেবে জনগনের সামনে দাঁড় করিয়েছে। বিচারালয়ে নাটক হচ্ছে। দেশনেত্রীকে বিশেষ আদালতে নিয়ে সারাদিন বসিয়ে রাখা হচ্ছে, মানসিকভাবে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সুপরিকল্পিতভাবে সরকার গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে অপপ্রচার করছে যে, বেগম জিয়ার সাজা হয়ে যাবে। খন্দকার মোশাররফ বলেন, আমি বলতে চাই, বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এরকম মামলা ১/১১ সময়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও দেয়া হয়েছিল। শেখ হাসিনার চাঁদাবাজি মামলার যদি সাজা না হয়, তাহলে বেগম জিয়ার মামলাটিতেও সাজা দেয়া সম্ভব হবে না। নাগরিক দলের সভাপতি সৈয়দ মো. ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম  খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য খালেদা ইয়াসমীন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, নিপুণ রায় চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

No comments:

Post a Comment