
প্রেসিডেন্ট হিসেবে উপহার নিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে তা জমা না দেয়া সংক্রান্ত দুর্নীতির একটি মামলায় নিম্ন আদালতের দেয়া ৩ বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আপিলের রায় জানা যাবে আগামী ৯ই মে। বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওইদিন এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন। এ মামলায় নিম্ন আদালতের দেয়া তিন বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেছিলেন এরশাদ। অন্যদিকে সাজা বাড়াতে রাষ্ট্রপক্ষও আপিল করে। শুনানি শেষে গতকাল রায়ের এ দিন (৯ই মে) নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট। আদালতে এরশাদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। এর আগে গত ৯ই মার্চ শুনানি শেষে ২৩শে মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট। তবে, এ মামলায় এরশাদের আপিল ছাড়াও সরকারের করা দুটি আপিল বিচারাধীন থাকায় ওই দিন রায় ঘোষণা না করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশের জন্য তিনটি আপিল আবেদনের নথি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কাছে পাঠিয়ে দেন বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুসের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ। এরপর প্রধান বিচারপতি তিনটি আপিল একসঙ্গে নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর বেঞ্চে নথিপত্র পাঠিয়ে দেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ১৯৮৩ সালের ১১ই ডিসেম্বর থেকে ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকাকালে বিভিন্ন উপহার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে এরশাদ এক কোটি ৯০ লাখ ৮১ হাজার ৫৬৫ টাকার আর্থিক অনিয়ম করেছেন। এ অভিযোগে ১৯৯১ সালের ৮ই জানুয়ারি এরশাদের বিরুদ্ধে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো (বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন) এ মামলা দায়ের করেছিল। বিচারিক কার্যক্রম শেষে ১৯৯২ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। রায়ে এরশাদকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে এরশাদ ওই রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছর হাইকোর্টে আপিল করেন। শুনানি শেষে দণ্ড স্থগিত হয়ে যায়। দুই দশক পর দুদক ২০১২ সালের ২৬শে জুন এ মামলায় পক্ষভুক্ত হয়। পরে গত বছরের আগস্টে আবারো এই আপিল শুনানির উদ্যোগ নেয় দুদক। দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুসের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রথমে গত বছরের ১৫ই নভেম্বর এ মামলায় শুনানির দিন ধার্য করেন। পরে এরশাদের আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩০শে নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত। গত ৯ই মার্চ শুনানি শেষ হয়।
No comments:
Post a Comment