Thursday, April 13, 2017

তারেকের স্ত্রীকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ: শাশুড়িকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা



দুর্নীতির মামলা বাতিলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমানের করা আবেদন খারিজ করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী ৮ সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে তাকে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন। এর আগে গত ১০ই জানুয়ারি রুলের শুনানি শেষে রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে বলে জানান আদালত। জোবাইদার বিরুদ্ধে বিগত সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ মামলা দায়ের করেছিল। জোবাইদার করা আবেদনের প্রেক্ষিতে এ মামলার বিচার কার্যক্রম উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০০৮ সালের এপ্রিলে স্থগিত হয়ে যায়।
জোবাইদা রহমানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মানবজমিনকে বলেন, দুদক তাদের যুক্তিতর্কে তাকে পলাতক হিসেবে উল্লেখ করেছিল। কিন্তু হাইকোর্ট সেটি নাকচ করে দিয়েছেন। আদালত  তাকে (জোবাইদা রহমান) বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য ৮ সপ্তাহের সময় দিয়েছেন। যেহেতু তিনি বিদেশে আছেন এবং তার বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম চলছে, তাই তার প্রস্তুতির প্রয়োজন। এছাড়া উনি যেন নির্বিঘ্নে বিচারিক কাজে অংশ নিতে পারেন সেজন্য হাইকোর্ট তাকে সময় দিয়েছেন। তবে, দুদকের কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, তিনি (জোবাইদা রহমান) পলাতক-আদালত এ বিষয়টি গ্রহণ করেননি। তবে, আদালত তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, তারেক রহমান, তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকা সমপরিমাণ সম্পদের তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় জোবাইদা রহমান ও তার মায়ের বিরুদ্ধে তারেক রহমানকে সহায়তা ও তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। ২০০৮ সালের ৩১শে মার্চ এ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। পরে জোবাইদা রহমানের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ওই বছরের ৮ই এপ্রিল এই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন। তবে, মামলা স্থগিত চেয়ে জোবাইদার আবেদনে দুদককে বিবাদী করা হয়নি। এরপর গত বছরের এপ্রিলে দুদক এ মামলায় পক্ষভুক্ত হয়। ওই রুল শুনানির জন্য গতবছরের ২রা নভেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে তোলা হলে বিচারক বিব্রত বোধ করেন। পরে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এ মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। ১৯৯৫ সালে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দিয়েছিলেন জোবাইদা রহমান। তার স্বামী তারেক রহমানের সঙ্গে আট বছর ধরে যুক্তরাজ্যে রয়েছেন। ইতিমধ্যে  দুদকের দায়ের করা অর্থপাচারের একটি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে তারেক রহমান হাইকোর্টের এক রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। ছুটি নিয়ে যাওয়ার পর কর্মস্থলে না ফেরায় ২০১৪ সালে জোবাইদাকে  বরখাস্ত করা হয়।
তারেকের শাশুড়িকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা
এদিকে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। গতকাল ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কামরুল হোসেন মোল্লা এ মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এ আদেশ দেন। এ  মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম গতকাল সাংবাদিকদের জানান, সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু এ মামলায় কখনো আদালতে আসেননি, আত্মসমর্পণ করে জামিনও নেননি। এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৪ই মে দিন ঠিক করেছেন বিচারক। সম্পদ বিবরণীর নোটিশ জারির পরও দুদকের নির্দিষ্ট সময়ে সম্পদের হিসাব দাখিল না করার অভিযোগে দুদকের উপ-পরিচালক আর কে  মজুমদার ২০১৪ সালের ৩০শে জানুয়ারি বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছর ১৪ই জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুদকের উপ-পরিচালক আবদুস সাত্তার সরকার।

No comments:

Post a Comment