
সারা দেশে ৫৬০ মডেল মসজিদসহ ১৩ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ হাজার ৪০২ কোটি ৭৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। এরমধ্যে সরকারি ও সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৯ হাজার ৬৭২ কোটি ৭৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম এবং ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, একনেকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রত্যেক জেলায় আইটি পার্ক তৈরি করতে হবে। যাতে তথ্য প্রযুক্তিতে মানুষ আরো বেশি জ্ঞানী হতে পারে। এছাড়া এলএনজি টার্মিনাল এখন থেকে সমুদ্রে না তৈরি করে মাটিতে তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী আরো বলেন, নগর দারিদ্র্য সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন না দিয়ে ফেরত দেয়া হয়েছে। এর কারণ হচ্ছে বস্তির সংখ্যা বাড়ুক এটা প্রধানমন্ত্রী চান না। তিনি বলেছেন বস্তিবাসীদের জন্য সুউচ্চ ভবন নির্মাণ করতে হবে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প, এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৬২ কোটি ৪১ লাখ টাকা। জেলা পর্যায়ে আইটি প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৯৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পটুয়াখালী ও গোপালগঞ্জে ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৯৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন সমান্তরাল পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১০৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৭৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, এর ব্যয় ৭৯৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। কক্সবাজার-টেকনাফ-মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প তৃতীয় পর্যায় প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। সিলেট শহর বাইপাস-গ্যারিসন লিংক টু শাহপরাণ সেতুঘাট সড়ক ৪ লেন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। খালিশপুর-মহেশপুর-দত্তনগর-জিন্নানগর-যাদবপুর মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৭ কোটি ২২ লাখ টাকা। ঢাকা শহরে ৩টি পাইকারি কাঁচাবাজার নির্মাণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা। থ্রিজি প্রযুক্তিকরণ চালু এবং ২ দশমিক ৫ জি নেটওয়ার্ক সমপ্রসারণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭৫ কোটি টাকা।
No comments:
Post a Comment