Wednesday, April 26, 2017

উত্তেজনা বাড়ছে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন সাবমেরিন



উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে সৃষ্ট উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। দেশটি ক্রমেই মুখোমুখি অবস্থানে চলে যাচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণ কোরিয়া ও এর মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী নিজেদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের পূর্বাঞ্চলে ‘বড় মাত্রা’র আর্টিলারি অনুশীলন সম্পন্ন করেছে। অপরদিকে একই দিন কোরিয়ান উপদ্বীপের পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনী যৌথ মহড়া ও অনুশীলন চালিয়েছে। এ খবর দিয়েছে সিএনএন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলেছে, উত্তর কোরিয়ার গোলাগুলির অনুশীলন মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত চলছিল। তবে কী ধরনের সমরাস্ত্র সেখানে ব্যবহৃত হয়েছে ও সামরিক বাহিনীর কোনো ইউনিট সেখানে অংশ নিয়েছে সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হয়নি দক্ষিণ কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের সামরিক বাহিনী উত্তর কোরিয়ার সামরিক তৎপরতার দিকে ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। প্রস্তুত রয়েছে একনিষ্ঠভাবে।’ একই দিন দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়েছে ইয়েলো সাগরে। তার আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় থেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবমেরিন। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এই পদক্ষেপ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিপ্রদর্শনের অংশ।
উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ৮৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। দেশটিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ এক দিবস। এ উপলক্ষে আর্টিলারি প্রশিক্ষণ শুরু করে দেশটি। উত্তর কোরিয়াতে অবস্থানরত মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন’র একটি দল বলেছে, সামরিক বাহিনী দিবস উদযাপনে নাগরিকরা সড়কে নেমেছে। দৃশ্যত, উত্তেজনার কোনো চিহ্ন নেই। এদিকে উত্তর কোরিয়ার এই অনুশীলনের নিশ্চিত খবর পাওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরিস্থিতি আলোচনায় একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। আলাদাভাবে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগের অস্বীকৃতির বিষয়ে জাপানের রাজধানী টোকিওতে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের প্রতিনিধি দল আলোচনা করেছে।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্যাটেজিক স্টাডিজ এশিয়ার জ্যেষ্ঠ ফেলো অ্যালেক্স নিল বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার এই অনুশীলন সম্ভবত সিওলের প্রতি দেশটির বার্তা। তিনি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া ভাবছে, দক্ষিণ কোরিয়াকে এটি মনে করিয়ে দেয়া গুরুত্বপূর্ণ যে, তারা উত্তরের আর্টিলারির পরিসীমার মধ্যে রয়েছে।’ তিনি জানান, গোলন্দাজ হামলায় পারমাণবিক ও রাসায়নিক অস্ত্রও ব্যবহার করা সম্ভব। তিনি বলেন, বিশ্বে রাসায়নিক অস্ত্রের যত মজুত রয়েছে, তার অন্যতম বৃহৎ একটি মজুত আছে উত্তর কোরিয়ার কাছে। আর সারিন গ্যাস নিক্ষেপ করতে হয় না।

No comments:

Post a Comment