
ভারতের ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের আক্রমণে প্যারামিলিটারি বাহিনী সিআরপিএফ’র ২৪ জন জওয়ান নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৭ জন জওয়ান। পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাও নিহতদের দলে ছিলেন বলে এক পুলিশ আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। স্থানীয় জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা আনন্দ ছাবরা বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল থেকে ২৩টি লাশ উদ্ধার করেছি। আরেক জওয়ান চিকিৎসা চলাকালে রায়পুরে (রাজ্য রাজধানী) মৃত্যুবরণ করেন।’ পুলিশের মুখপাত্র ভগবতী সিং জানান, সেখানে পুলিশের একাধিক দল মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ মাওবাদী অধ্যুষিত সুকমা জেলার বস্তার অঞ্চলের বুরকাপল ও চিন্তাগুফার মধ্যবর্তী কালাপাথর স্থানে মাওবাদীরা অতর্কিতে সিআরপিএফ দলটির ওপর আক্রমণ চালায়। ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে নিকটবর্তী সিআরপিএফ ক্যাম্প থেকে সংঘর্ষ মোকাবিলায় অতিরিক্ত বাহিনীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। আহত ও মৃতদের উদ্ধার করতে হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে রায়পুর ও জগদলপুরে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে। গুরুতর আহত অন্তত ৬ কমান্ডোকে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিং এ ঘটনার পরই দিল্লি সফর কাটছাঁট করে রায়পুরে ফিরে এসেছেন। ঘটনা পর্যালোচনায় তিনি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। জানা গেছে, সেখানে সড়ক তৈরির কাজ চলছিল। সেই কর্মীদের সুরক্ষা দিতেই ৭৪ ব্যাটালিয়নের সিআরপিএফ জওয়ানরা একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে টহল দিচ্ছিল। ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলে মাঝে মাঝেই মাওবাদী হানার ঘটনা ঘটে। এখানে মাওবাদীদের সংগঠনও খুব শক্তিশালী। এ বছরের ১১ই মার্চ বস্তারে মাওবাদীদের আক্রমণে ১২ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হয়েছিল। এরপর অবশ্য সিআরপিএফ জওয়ানরা অভিযান চালিয়ে দান্তেওয়াড়াতে ৬ জন মাওবাদীকে হত্যা করে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ছত্তিশগড়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও মাওবাদী বিদ্রোহীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় ভারতের প্রত্যন্ত ও গভীর বনে মাওবাদীদের আধিপত্য ব্যাপক। বিদ্রোহীদের বক্তব্য, তারা উপজাতি জনগণ ও ভূমিহীন কৃষকদের অধিকার রক্ষায় আন্দোলন করছে। চাঁদাবাজির মাধ্যমে তারা অর্থ সংগ্রহ করে প্রায়ই। চীনের বিপ্লবী নেতা মাও সেতুং-এর আদর্শ থেকে উদ্বুদ্ধ দাবিদার এই বিদ্রোহীরা প্রায় তিন দশক ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। সমপদের অধিকতর বণ্টন ও দরিদ্র্যদের জন্য অধিক চাকরির দাবি তাদের। ভারতের অন্তত ২০টি অঙ্গরাজ্যে মাওবাদীরা সক্রিয় বলে ধারণা করা হয়। তবে ছত্তিশগড়, উড়িষ্যা, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও মহারাষ্ট্রেই তারা সক্রিয় বেশি।
দু’পক্ষের মধ্যে সহিংসতায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। বিদ্রোহ-অধ্যুষিত বলে পরিচিত কথিত ‘রেড করিডোর’-এ কর্তৃপক্ষের নজর ছিল বেশি। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, কড়া নিরাপত্তা পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্রোহ দমনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তারা বলছেন, সুশাসন ও উপদ্রুত অঞ্চলের উন্নয়নই চাবিকাঠি।
No comments:
Post a Comment