
দ্বিতীয়
দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য সংবিধান সংশোধন করার প্রতিবাদে লাতিন
আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ের কংগ্রেসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। দূর
থেকেও সেই আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, প্যারাগুয়ের সংবিধান অনুযায়ী
একজন প্রেসিডেন্ট একবারই ৫ বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ৩৫ বছরে
স্বৈরশাসনের পর ১৯৯২ সালে সেখানে নতুন সংবিধান প্রণয়ণ করা হয়। তাতে এ বিধান
রাখা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট হোরাকটিও কার্টেস সংবিধানের এই
অংশটি সরিয়ে ফেলে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছেন, যাতে তিনি দ্বিতীয় দফায়
নির্বাচন করতে পারেন। কিন্তু তার এ উদ্যোগে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে
দেশে। বিক্ষোভকারীরা কংগ্রেসের ভিতরে প্রবেশ করে সেখানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
ভেঙে ফেলেছে জানালা, বেষ্টনি। শুক্রবার রাতে আসুনসিওয়নে অবস্থিত কংগ্রেস
ভবনের জানালা ভাঙচুর করতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। ভিতরে দেখা যায় আগুন
জ্বলছে দাউ দাউ। বার্তা সংস্থা এএফপি বলেছে, যেসব কর্মকর্তা সংবিধান
সংশোধনী বিলে সম্মতি দিয়েছেন তাদের অফিস তছনছ করেছে বিক্ষোভকারীরা। এ সময়
তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ব্যবহার করেছে রাবার বুলেট, জলকামান। স্থানীয়
মিডিয়ায় বলা হয়েছে, এ সময় প্রতিবাদকারী, পুলিশ সহ আহত হয়েছে কয়েক ডজন
মানুষ। আসুনসিয়নের একজন সাংবাদিক সান্তি কারনেরি বলেছেন, অগ্নিসংযোগের ফলে
কংগ্রেস ভবন এক থেকে দুই ঘন্টা জ্বলেছে। রাস্তায় পড়ে ছিল প্রচুর পরিমাণ
পানির বোতল। বলা হচ্ছে, ১৯৯২ সালে গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত হওয়ার পর
প্যারাগুয়েতে এত বড় সহিংস বিক্ষোভ আর দেখা যায় নি। ওদিকে টুইটারে জনগণকে
শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট কার্টেজ। এতে তিনি বলেছেন,
গণতন্ত্রে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। তাই সরকার প্রজাতন্ত্রের আইন শৃংখললা
রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। এটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে বলা হয়েছে, তারা
নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সব। সহিংসতারও তদন্ত করছে তারা। এর আগে
পার্লামেন্টের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠ ২৫ জন সিনেটর বেসরকারি এক বৈঠক করেন।
তারা সংবিধান সংশোধন অনুমোদন করেন। এরপরই ওই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিলটি ২৫ জন
সিনেটর অনুমোদন করলেও তা এখন পার্লামেন্টের অন্যান্য কক্ষ থেকে অনুমোদন
পেতে হবে। বিশেষ করে চেম্বার অব ডেপুটি’র। এর মধ্যে চেম্বার অব ডেপুটির
প্রেসিডেন্ট হলেন হুগো লেভাজকুয়েজ। তিনি বলেছেন, তারা এ নিয়ে আলোচনায়
বসবেন। তবে শনিবার কোনো সিদ্ধান্ত জানা যাবে না। ওদিকে বিরোধীরা বলছেন, এ
বিলটি দুর্বল করে দেবে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে। বিরোধী দলের
সিনেটর দেসিরি মাসি বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে (সরকার) অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। আমরা
তা প্রতিহত করবো। আমাদের সঙ্গে সেই লড়াইয়ে জনগণকে যোগ দিতে আহ্বান জানাই।
উল্লেখ্য, সেনা শাসক জেনারেল আলফ্রেডো স্ট্রোয়েজনার দেশটি শাসন করেন ১৯৫৪
থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত। তিনি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিলেন।
১৯৯২ সালে নতুন সংবিধানের মাধ্যমে গণতন্ত্রে ফেরে দেশটি। বর্তমান
প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছর।
No comments:
Post a Comment