Saturday, April 22, 2017

পানামাগেট কেলেঙ্কারির রায় জাতির সঙ্গে মস্করা- বিলাওয়াল ভুট্টো



পাকিস্তানের উত্তেজনাপূর্ণ রাজনীতিতে শেষ পর্যন্ত মুখ খুলেছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে সে বিষয়েও মন্তব্য করেছেন তিনি। বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট যা পারে নি সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম (জেআইটি)। এ রায়ের মাধ্যমে জাতির সঙ্গে মস্করা করা হয়েছে। দেশে এখন দুই ধরনের আইন চলছে। একটি হলো নওয়াজ শরীফ পরিবারের জন্য। অন্যটি গরিব মানুষের জন্য। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। উল্লেখ্য, পানামা পেপারস ফাঁস হওয়ার পর জানা যায় প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও তার পরিবারের সদস্যরা আয়কর ফাঁকি দেয়ার জন্য পানামার আইনি প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার মাধ্যমে অফসোর কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন। এ বিষয়টি গোপন ছিল। পানামা পেপারস ফাঁস হওয়ার পর এ নিয়ে তোলপাড় হয় পাকিস্তানের রাজনীতি। অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেয়ার কথা ছিল সুপ্রিম কোর্টের। যদি নওয়াজ শরীফকে দোষী সাব্যস্ত করতো আদালত তাহলে তিনি ক্ষমতা হারাতেন। এ নিয়ে ওইদিন পাকিস্তান সহ ভারতীয় উপমহাদেশে এক ভিন্ন মাত্রার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সময় বিকাল ২টায় আদালত রায় দেন। তাতে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায় নি বলে আদালত স্থির হয়। ফলে দ্বিধাবিভক্ত রায় দেন ৫ জন বিচারক। তারা জেআইটি গঠনের নির্দেশ দেন। এ নিয়ে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি শুক্রবার শাহ জেওয়ানাতে এক জনসমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, দেশে এখন দুটি আইন আছে। একটি হলো শরীফ গংদের জন্য। অন্যটি হলো গরিব মানুষদের জন্য। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ পরিবারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, খুনী ও চোরদের শাস্তি দেয়ার জন্য কোনো আইন নেই। বিচার ব্যবস্থার দ্বিমুখী অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে যুব সমাজ। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র দু’জন বিচারক নওয়াজ শরীফকে অযোগ্য ঘোষণা করেছেন। যদি কোনো লজ্জা থাকতো তাহলে নওয়াজ শরীফের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত ছিল। উল্লেখ্য, শাহ জেওয়ানার ওই জনসভায় পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন দলের সহ-সভাপতি, তার পিতা, সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। উপস্থিত ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রানা ফারুক, খালিদ খান খারাল, সিনেটর ফরহাতুল্লাহ বাবর, জামিল সোমরু, প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নীলুম জব্বার ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ আহ্বান করেছিলেন মাখদুম ফয়সাল সালেহ হায়াত। তিনি ১৪ বছর পর তার পূর্বপুরুষদের এই রাজনৈতিক দলে যোগ দেন। পিপিপির শীর্ষ দুই নেতা, পিতা-পুত্র শাহ জেওয়ানার ওই সম্মেলনে যোগ দেন হেলিকপ্টারে চড়ে। সেখানে তারা হযরত শাহ জেওয়ানার মাজার পরিদর্শন করে মোনাজাত করেন। হেলিপ্যাড থেকে ভেনু পর্যন্ত পথে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ। সমাবেশে বিলাওয়াল বলেন, পানামা পেপারস মামলার রায় দৃশ্যত আইওয়াশ। জাতির সঙ্গে এর মাধ্যমে মস্করা করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যা করতে ব্যর্থ হয়েছে সে বিষয়ে কিভাবে কেআইটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে?

No comments:

Post a Comment