Wednesday, April 19, 2017

একতরফা খেলার ষড়যন্ত্র করছে সরকার- মির্জা ফখরুল



একতরফা খেলার মাধ্যমে সরকার ফের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলের নেতাদের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ তাদের নেতাদের সব মামলা তুলে নিচ্ছে কিন্তু বিএনপি নেতাদের প্রত্যেকটি মামলা নতুন করে চালু করছে। আমাদের সবাইকে জেলের মধ্যে ঢুকিয়ে রেখে তারা একতরফা খেলতে চায়। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই- এই খেলা কখনই এদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না। গতকাল দুপুরে দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, আমরা বার বার বলেছি- আসুন না খোলা ময়দানে, সমান্তরাল ময়দানে একসঙ্গে খেলি। সেটার মধ্যে তারা নেই। এই সরকার রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে বলেই এই মামলা-মোকদ্দমা করে বিএনপিকে মোকাবিলা করতে চায়। মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা নির্বাচনে যেতে চাই, তবে সেজন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। সকল দল যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে তার জন্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জেলে রেখে দেবেন, নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেবেন- আর বলবেন তোমরা নির্বাচনে যাও। তাহলে আমরা নির্বাচনে কিভাবে যাবো? তিনি বলেন, আমরা বার বার বলছি- দেশে গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক কোনো স্পেস নেই। তাই আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সুষ্ঠু নির্বাচন হলে, আমাদের নেতাকর্মীদের মুক্তি দিলে আমরা নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। সকল দলের সমান সুযোগ ছাড়া নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। প্রধানমন্ত্রীর ভুটান সফর নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভুটানের সঙ্গে আমাদের একটা জরুরি বিষয় আছে সেটা হচ্ছে জলবিদ্যুৎ। আমাদের আগে প্রস্তাব ছিল- নেপাল, ভুটান, ভারত ও চীন- এসবের সঙ্গে চুক্তি করা দরকার ছিল। ভারত কখনো দ্বিপক্ষীয় ছাড়া অন্য কোনো দেশকে আনতে চায়নি, যার ফলে টোটাল বিষয়টা করা সম্ভব হয়নি। যদি দেখি ভারতের মতো উনি খালি হাতে ফিরে আসলেন, দিয়ে আসলেন সব কিছু- তখন সেটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, হেফাজতে ইসলামকে বশ করে তাদের সঙ্গে ভাবের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। আমাদের অবস্থান খুব পরিষ্কার আমরা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড করি না। একেকজনের কাছে একেক রকম কথা, এটা আমরা করি না। পিটিয়ে-পুটিয়ে আবার বলেছেন- আসো, তোমাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করি, ভালোবাসা করি। আমরা এর মধ্যে নেই। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম যখন দাবিটা করেছিল তখনই আমরা বলেছি, তাদের সব দাবি নয়, কিছু দাবির সঙ্গে একমত। এখন সরকার ঢাকঢোল পিটিয়ে যা করলেন তা অতীত হয়ে গেছে। এটা (দাওরা হাদিসকে মাস্টার্স সম্মান দেয়া) সনদ আমাদের সরকারের সময় গেজেট হয়ে গিয়েছিল। ভারত থেকে আসা নদীর ঢল ও অতিবৃষ্টিতে নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ফসলহানির বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত যে তথ্য পেয়েছি তাতে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের হাওর এলাকার প্রায় তিন লাখ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়ে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টন চালের উৎপাদন। এসব এলাকায় লাখ লাখ লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে আছেন। সরকারি ত্রাণ তৎপরতা লোক দেখানো ও অপ্রতুল। দুর্গত মানুষরা কিভাবে খেয়েপরে বাঁচবে, কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবে- তা ভেবে মানবেতর দিনযাপন করছেন। মির্জা আলমগীর বলেন, হাওরাঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে, প্রশাসনের উদ্যোগে দলমত নির্বিশেষে কমিটি গঠন করে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রকৃত তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। পরবর্তী ফসল না হওয়া পর্যন্ত তাদের ত্রাণ প্রদান, পুরাতন কৃষি ঋণ মওকুফ, আগামী ফসল উৎপাদনের জন্য সুদবিহীন কৃষি ঋণ প্রদান, কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক, তেলসহ কৃষি উপকরণ সরবরাহ করতে হবে। সেই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত পুনঃনির্মাণ এবং সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, নদীগুলোর ড্রেজিং করতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভারত থেকে আগত ৫৪টি নদীর পানি প্রবাহের ন্যায্য চুক্তি করতে হবে। উজানে ভারত ওইসব নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা শুষ্ক মৌসুমে পানি আটকে রাখে এবং বর্ষা মৌসুমে পানি ছেড়ে দেয়। উল্লেখ্য, গত ১৫ই এপ্রিল বিএনপি মহাসচিব ওইসব এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। সারা দেশে নেতাকর্মীদের নতুন করে হয়রানির অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব সমপ্রতি কারাগারে যাওয়া দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান বাচ্চু, নাটোর জেলা নেতা বাবলু চেয়ারম্যান, আজিজুর রহমান মেম্বার, নওশাদ আলী মাস্টারের মুক্তির দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মো. আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, বিলকিস জাহান শিরিন উপস্থিত ছিলেন।

No comments:

Post a Comment