Tuesday, April 11, 2017

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে জনগণের আশা পূরণ হয়নি : মির্জা ফখরুল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে সফরে দেশের মানুষের আশা পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ যা চেয়েছিল, ন্যুনতম আমার পানি বাঁচার জন্যে, আমার বেঁচে থাকার জন্যে, প্রায় তিনভাগের এক ভাগ মানুষ যে নদীর ওপর নির্ভর করে, কোটির উপরের বেশি মানুষে জীবন চলে, সেই নদীর পানির একটা মীমাংসা হবে, চুক্তি হবে। দুখজনক হলো সেটা হয়নি। হয়নি শুধু নয়, প্রধানমন্ত্রী নিজেই তার সফরের ফলাফল সম্পর্কে বলেছেন, ম্যায় পানি পাঙ্গা, মুচকো বিদ্যুৎ মিলা গা। কুচ তো মিলা। অর্থাৎ উনি নিজেই বলেছেন, মেলেনি, কোনোটাই মেলেনি, শুধু কুচ মিলেছে। সেটা বিদ্যুতের কথা বলেছেন তাও আবার পয়সা দিয়ে কিনতে হবে। উনি নিজেই বলে দিয়েছেন, আমাদের আর কিছু বলার আছে বলে আমি মনে করি না।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ‘আমার দেশ’ পত্রিকাটি বন্ধের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। ২০১২ সালের এদিনে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ করে দেয় সরকার।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, উনারা চিৎকার করে বলছেন, দুই দেশের সম্পর্ক উচ্চতর পর্যায়ে। একবারে স্পিরিচ্যুয়াল লেভেলে চলে গেছে। তো ভালো কথা। আমরা তো মাটির মানুষ আমাদের মাটিতে ফসল ফলাতে হয়, আমাদের নদীতে মাছ তুলতে হয়, জীবন-জীবিকা চালাতে হয়। আমাদের সরকার নতজানু। তারা নতজানু পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে চলছে, তারা আদায় করতে পারবে না।
জিয়াউর রহমানের শাসনামলে গঙ্গা ব্যারেজ নিয়ে পানি সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনাদের মনে আছে- ফারাক্কা ব্যারেজ নিয়ে এই একই অবস্থা চলছিলো। জিয়াউর রহমান সাহেব সেটা জাতিসংঘে তুলেছিলেন, পরে বাধ্য হয়ে ভারত যেভাবে হোক একটা চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছিলো।
সরকার দেশকে একদলীয় শাসনে নিয়ে গেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা ২০০৯ সাল থেকে একথা বলে এসছি- আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র –এই দুইটা একসঙ্গে চলে না। তাদের চরিত্র এতটুকু বদলায়নি। ’৭৫ সালে যে কাজটি করেছিলো, সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়ে চারটি পত্রিকা রেখেছে, সব রাজণৈতিক দল নিষিদ্ধ করে দিয়ে একদলীয় শাসনের মতো ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করেছিলো, সেই জায়গা থেকে তার তো সরেনি, শুধু তার কৌশলটা পাল্টিয়েছে।

No comments:

Post a Comment