
ঘূর্ণিঝড়
মোরার আঘাতে লণ্ডভণ্ড উপকূলের জনপদ। ঘর ও গাছ চাপায় মারা গেছে ৯ জন। আহত
হয়েছে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। পূর্ব প্রস্তুতি থাকায় ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে বলে
দাবি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে উপদ্রুত
এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণসহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আক্রান্ত এলাকার
মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেশবাসী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ঘূর্ণিঝড়ের
প্রভাব থেমে যাওয়ার পর আশ্রয়কেন্দ্র থেকে গতকালই সাধারণ মানুষ যার যার
বাড়ি-ঘরে ফিরে যান। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, উপদ্রুত এলাকার ক্ষয়ক্ষতি
নিরুপণ করেই ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেয়া হবে।
কক্সবাজারে গাছ চাপায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে মারা গেছেন একজন। বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতে মারা গেছেন ৩ জন। ভোলায় আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার পথে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপকূল এলাকায় শত শত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে গাছ-পালা।
কক্সবাজারে নিহত ৫: কক্সবাজারে মোরার আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়েছে উপকূলের জনপদ। জেলার বিভিন্ন স্থানে ২০ হাজারের অধিক কাচা বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। গাছ চাপায় ২ জন ও স্ট্রোকে এক জনসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক। নিহতরা হলেন- কক্সবাজারের সদর উপজেলার গজারিয়া এলাকার শাহিনা আক্তার (১০), শেকুয়া এলাকার আব্দুল হামিদ (৪০) ও নুনিয়াছড়া এলাকার বদিউল আলমের স্ত্রী মরিয়ম বেগম। মরিয়ম আতঙ্কিত হয়ে স্ট্রোক করে প্রাণ হারান। পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, আগে থেকেই শারীরিক ভাবে দুর্বল ছিল ওই মহিলা। গতকাল রাতে বাতাস শুরু হলে ভয়ে তার মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে ২০ হন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিভিন্ন সড়কে গাছ পড়ে কক্সবাজার চট্টগ্রাম সড়ক ও কক্সবাজার টেকনাফ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে টেকনাফ উপকূল দিয়ে অতিক্রম করে ঘূর্ণিঝড়টি। প্রবল ঘূর্ণি বাতাস আর প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়ায় কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন অতিক্রম করেছে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় মোরা। কক্সবাজার উপকূলে ঝড়ের গতিবেগ ৮০ হলেও তা টেকনাফে ১০০ কিলোমিটার ও সেন্টমার্টিনে ১৩৫ কিলোমিটার উপর ঝড়ো হাওয়ায় প্রবাহিত হয়। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে। সেন্টমার্টিনের পরে রয়েছে টেকনাফের শাহপরী দ্বীপ, সাবরাং ও বাহারছড়া ইউনিয়নের একাংশ, দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং, দক্ষিণ ধুরুং, আলী আকবর ডেইল, মহেশখালীর কুতুবজুম, ধলঘাট, মাতারবাড়ী, পেকুয়ার মগনামা, উজানটিয়াসহ উপকূলের আরো কয়েকটি এলাকা। তবে প্রচণ্ড বাতাসের আঘাতে কমবেশি বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে কাঁচা ঘরবাড়ি, গাছগাছালি, পানের বরজের ক্ষয়ক্ষতির কথাও জানান তিনি। পেকুয়ার মগনামা, রাজাখালি, উজানটিয়ায় কয়েকশ’ কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও চিংড়ি মাছ চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চকরিয়া বদরখালি, রামপুরায়ও কয়েকশ’ ঘরবাড়ি, মাছ চাষের ক্ষতি হয়েছে। এখানে কয়েক হাজার লোককে আশ্রয় কেন্দ্রে এনে রাখা হয়। মহেশখালীর ধলঘাটা কুতুবজোম, মাতারবাড়ি এ তিনটি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কয়েকশ’ ঘরবাড়ি, পান বরজ বিলীন হয়ে গেছে। প্রাণহানি এড়াতে এসব এলাকার প্রায় ৫ হাজার লোককে আশ্রয় কেন্দ্র নিয়ে আসা হয়। উখিয়াতে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে সমুদ্র এলাকায় বাড়িঘর ভাঙচুর হয়েছে। শহরের সমিতি পাড়া, কুতুবদিয়া পাড়া, বিমানবন্দর এলাকা ক্ষতি হয়েছে। রাতে লোকজন সরানো হয়েছে। ৫ হাজার লোকের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। জেলা প্রশাসক জানান, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে আমরা প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে চেষ্টা করছি। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে কয়েক দিন লাগবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে সকল অফিস আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। জানতে চেয়েছে ক্ষতির পরিমাণ। পর্যাপ্ত ত্রাণদেয়ার কথাও জানানো হয়েছে, যাতে কোনো লোক অনাহারে মারা না যায়। তিনি আরো জানান, আমরা দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত ছিলাম। জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩ লাখ লোক আশ্রয় কেন্দ্রে ছিল। একজনও না খেয়ে থাকেনি।
চরপাড়া এলাকার এবাদুল্লাহ (৫৫) জানান, পরিবারের ৭/৮ জন নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়েছিলেন তিনি। নাজিরার টেক এলাকার বাসিন্দা সাদিয়া বেগম জানান, ঝড়ের আঘাতে ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। এখন ছোট ৩ শিশুসসহ ৬ জনের সংসার, কোথায় থাকবো, কিভাবে চলবো বুঝতে পারছি না। সেন্টমার্টিনের বিশিষ্ট নাগরিক মুজিবুর রহমান জানান, সেন্টমার্টিনে কাঁচা ঘরবাড়ি, গাছগাছালি সব বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এখানে মানুষ দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে।
কক্সবাজারে গাছ চাপায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে মারা গেছেন একজন। বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতে মারা গেছেন ৩ জন। ভোলায় আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার পথে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপকূল এলাকায় শত শত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে গাছ-পালা।
কক্সবাজারে নিহত ৫: কক্সবাজারে মোরার আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়েছে উপকূলের জনপদ। জেলার বিভিন্ন স্থানে ২০ হাজারের অধিক কাচা বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। গাছ চাপায় ২ জন ও স্ট্রোকে এক জনসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক। নিহতরা হলেন- কক্সবাজারের সদর উপজেলার গজারিয়া এলাকার শাহিনা আক্তার (১০), শেকুয়া এলাকার আব্দুল হামিদ (৪০) ও নুনিয়াছড়া এলাকার বদিউল আলমের স্ত্রী মরিয়ম বেগম। মরিয়ম আতঙ্কিত হয়ে স্ট্রোক করে প্রাণ হারান। পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, আগে থেকেই শারীরিক ভাবে দুর্বল ছিল ওই মহিলা। গতকাল রাতে বাতাস শুরু হলে ভয়ে তার মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে ২০ হন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিভিন্ন সড়কে গাছ পড়ে কক্সবাজার চট্টগ্রাম সড়ক ও কক্সবাজার টেকনাফ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে টেকনাফ উপকূল দিয়ে অতিক্রম করে ঘূর্ণিঝড়টি। প্রবল ঘূর্ণি বাতাস আর প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়ায় কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন অতিক্রম করেছে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় মোরা। কক্সবাজার উপকূলে ঝড়ের গতিবেগ ৮০ হলেও তা টেকনাফে ১০০ কিলোমিটার ও সেন্টমার্টিনে ১৩৫ কিলোমিটার উপর ঝড়ো হাওয়ায় প্রবাহিত হয়। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে। সেন্টমার্টিনের পরে রয়েছে টেকনাফের শাহপরী দ্বীপ, সাবরাং ও বাহারছড়া ইউনিয়নের একাংশ, দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং, দক্ষিণ ধুরুং, আলী আকবর ডেইল, মহেশখালীর কুতুবজুম, ধলঘাট, মাতারবাড়ী, পেকুয়ার মগনামা, উজানটিয়াসহ উপকূলের আরো কয়েকটি এলাকা। তবে প্রচণ্ড বাতাসের আঘাতে কমবেশি বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে কাঁচা ঘরবাড়ি, গাছগাছালি, পানের বরজের ক্ষয়ক্ষতির কথাও জানান তিনি। পেকুয়ার মগনামা, রাজাখালি, উজানটিয়ায় কয়েকশ’ কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও চিংড়ি মাছ চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চকরিয়া বদরখালি, রামপুরায়ও কয়েকশ’ ঘরবাড়ি, মাছ চাষের ক্ষতি হয়েছে। এখানে কয়েক হাজার লোককে আশ্রয় কেন্দ্রে এনে রাখা হয়। মহেশখালীর ধলঘাটা কুতুবজোম, মাতারবাড়ি এ তিনটি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কয়েকশ’ ঘরবাড়ি, পান বরজ বিলীন হয়ে গেছে। প্রাণহানি এড়াতে এসব এলাকার প্রায় ৫ হাজার লোককে আশ্রয় কেন্দ্র নিয়ে আসা হয়। উখিয়াতে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে সমুদ্র এলাকায় বাড়িঘর ভাঙচুর হয়েছে। শহরের সমিতি পাড়া, কুতুবদিয়া পাড়া, বিমানবন্দর এলাকা ক্ষতি হয়েছে। রাতে লোকজন সরানো হয়েছে। ৫ হাজার লোকের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। জেলা প্রশাসক জানান, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে আমরা প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে চেষ্টা করছি। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে কয়েক দিন লাগবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে সকল অফিস আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। জানতে চেয়েছে ক্ষতির পরিমাণ। পর্যাপ্ত ত্রাণদেয়ার কথাও জানানো হয়েছে, যাতে কোনো লোক অনাহারে মারা না যায়। তিনি আরো জানান, আমরা দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত ছিলাম। জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩ লাখ লোক আশ্রয় কেন্দ্রে ছিল। একজনও না খেয়ে থাকেনি।
চরপাড়া এলাকার এবাদুল্লাহ (৫৫) জানান, পরিবারের ৭/৮ জন নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়েছিলেন তিনি। নাজিরার টেক এলাকার বাসিন্দা সাদিয়া বেগম জানান, ঝড়ের আঘাতে ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। এখন ছোট ৩ শিশুসসহ ৬ জনের সংসার, কোথায় থাকবো, কিভাবে চলবো বুঝতে পারছি না। সেন্টমার্টিনের বিশিষ্ট নাগরিক মুজিবুর রহমান জানান, সেন্টমার্টিনে কাঁচা ঘরবাড়ি, গাছগাছালি সব বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এখানে মানুষ দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে।
No comments:
Post a Comment