
ম্যানচেস্টার
হামলার আলামত প্রকাশ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া। এতে বৃটেনের জন্য
ওই সন্ত্রাসী হামলার তদন্ত বিঘ্নিত হতে পারে। এ জন্য বিষয়টি নিয়ে গভীর
উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বৃটেন। আজ বৃহস্পতিবার ন্যাটো সম্মেলনে এ বিষয়ে
বৃটেনের উদ্বেগের কথা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সামনে
তুলে ধরবেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। ওই হামলার আলামত, বিশেষ করে
হামলার পরের ধ্বংসাবশেষ, বিভিন্ন উপাদানের ছবি প্রকাশ হওয়ায় এ ঘটনায় বৃটিশ
সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষোভে অগ্নিশর্মা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে
বলা হয়েছে, নিউ ইয়র্ক টাইমস সহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মিডিয়ায় ওইসব
আলামতের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সোমবার দিবাগত রাতে ম্যানচেস্টার
অ্যারিনা কনসার্ট হলে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ২২ জন। এর
মধ্যে রয়েছে অনেক শিশু। এ ছাড়া আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬৪ জন। এ ঘটনার আলামত
প্রকাশ করায় বৃটিশ সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন বিবিসির
নিরাপত্তা বিষয়ক সাংবাদিক গর্ডন কোরেরা। তিনি বলেছেন, বৃটিশ সরকারের
কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন এসব আলামত ফাঁসের জন্য হোয়াইট হাউজের চেয়ে
যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগই হলো মূল ‘কালপ্রিট’। ফলে ক্ষোভে ফুঁসছে বৃটেন। এ
নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনে কথা হবে ডনাল্ড
ট্রাম্প ও তেরেসা মে’র মধ্যে। ওদিকে হামলাকারী সালমান আবেদির সঙ্গে কোন
নেটওয়ার্কের যোগসূত্র আছে কিনা তা তদন্ত করছে বৃটিশ পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার
ভোরে গোয়েন্দারা নিয়ন্ত্রিত একটি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এ সময় তারা
ম্যানচেস্টারের মস সাইডে একটি বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। বিবিসির খবর
অনুযায়ী, আবেদির বড়ভাই ইসমাইল আবেদি সহ মোট ৬ জন পুরুষ ও এক নারীকে আটক
করেছে পুলিশ। ম্যানচেস্টার, উইগান ও নুনেটন থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। তবে
কোন অভিযোগ ছাড়াই ওই আটক নারীকে পরে ছেড়ে দেয় পুলিশ। ওদিকে সালমান আবেদির
পিতা ও এক ছোটভাই লিবিয়ায় রয়েছেন জঙ্গিদের জিম্মায়। তবে ম্যানচেস্টার
হামলার ২৪ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে সালমান আবেদির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে
দেয় যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া। নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশ করা হয় ‘সম্ভাব্য
বিস্ফোরক’-এর ছবি। এতে ভীষণ ক্ষুব্ধ হোয়াইট হল ও বৃটিশ পুলিশ প্রধানরা। এসব
ছবি প্রকাশ করে দেয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বৃটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অ্যাম্বার রাড। পাশাপাশি তিনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দিয়েছেন যাতে, এ ঘটনা
দ্বিতীয়বার না ঘটে। এ আহ্বান জানানো সত্ত্বেও ওইসব ছবি পরে বৃটিশ মিডিয়ায়তে
পুনঃপ্রকাশ করা হয়। তাতে দেখা যায় বোমা হামলায় রক্তের দাগ। হামলাকারীর
ব্যাকপ্যাক। একে দ্বিতীয় পর্যায়ের তথ্য ফাঁস বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
বৃটেনের জাতীয় পুলিশ প্রধানদের কাউন্সিল বলেছে, সরকারের অনুমতি ছাড়া এ সব
ছবি প্রকাশ করা আস্থা লঙ্ঘন করার সামিল। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, এসব তথ্য ফাঁস হওয়ায় তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
বিষয়টি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের নজরে এনেছেন। উল্লেখ্য, হামলাকারী
সালমান আবেদিকে নিয়ে প্রথম রিপোর্ট প্রকাশ করা হয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
সেখানকার টেলিভিশন নেটওয়ার্ক সিবিএস এবং এনবিসি প্রথমে তাকে হামলায়
সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করে
No comments:
Post a Comment