Thursday, May 4, 2017

৫৭ ধারার বিভ্রান্তি দুর্বলতা দূর করা হবে: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বাক-স্বাধীনতা ব্যাহত করাসহ তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার যেসব বিভ্রান্তি ও দুর্বলতা রয়েছে সেগুলো দূর করা হবে। গতকাল ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাটের সঙ্গে বৈঠকের পর আইনমন্ত্রী এ কথা জানান। আপনি বলেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা থাকছে না। আসলে কী থাকছে, কী থাকছে না- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, আইসিটি অ্যাক্ট হয়েছিল মূলত ইলেকট্রনিক সিগনেচার লিগালাইজ (আইনগত ভিত্তি দিতে) করার জন্য। কিন্তু পরে ৫৭ ধারাটা যুক্ত করা হয়েছে। আপনারা যেসব কনসার্ন (উদ্বেগ) তখন ৫৭ ধারা সম্পর্কে দেখিয়েছিলেন তখন বলেছিলাম ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নামে একটি নতুন আইন হচ্ছে। সেখানে এই সব কনসার্ন যেগুলো আছে সেগুলো অ্যাড্রেসড হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট) এখন আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) জন্য আছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সেই ভেটিংয়ে এই ৫৭ ধারার যেই কনফিউশনগুলো (বিভ্রান্তি) ছিল, উইকনেসগুলো (দুর্বলতা) ছিল সেগুলো দূর করা হবে। ৫৭ ধারা সম্পর্কে যে বক্তব্য ছিল, যে মুক্ত বক্তব্য রাখার যে স্বাধীনতা তা ব্যাহত করছে, সেটা দূরীকরণ হবে। শেখ হাসিনা সরকার কোনোভাবে এই ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন বন্ধ করবেন না। এবং করার কোনো ইচ্ছা, অভিপ্রায় এই সরকারের নেই। তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে- এ বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, যেগুলো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সেগুলো অপরাধের কারণে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমি এগুলো নিয়ে কথা বলতে চাই না। মামলা তদন্তে ও কোর্টে থাকলে আমি কোনো কথা বলি না। তিনি বলেন, মামলা তদন্তেও যদি থাকে, কোর্টেও যদি থাকে আপনারা আশ্বস্ত থাকতে পারেন আপনারা ন্যায়বিচার পাবেন। এর মধ্যে কোনো দুই কথা নেই। প্রেস কাউন্সিল থাকলেও ৫৭ ধারায় মামলা করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নতুন সময় ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক আহমেদ রাজুকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। মুন্সীগঞ্জে এক সাংবাদিক একটি পোস্টে লাইক দিয়েছে, তাকেও ৫৭ ধারায় মামলা দিয়ে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আপনারা যে স্পেসিফিক (সুনির্দিষ্ট) মামলাগুলোর কথা বললেন সে মামলাগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সব সময়ই একটি খুব শক্তিশালী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। সেটা রাষ্ট্রদূত বলেছেন। সেক্ষেত্রে আমরা অনেক ব্যাপারেই আলোচনা করেছি যেগুলো আমাদের সম্পর্কের মধ্যে প্রাসঙ্গিক। পৃথিবী যে সব নিরাপত্তার বিষয়ে হুমকির সম্মুখীন হয়েছে সেগুলোও আলোচনায় আসে। ভালো সম্পর্ক থাকলে কথাবার্তার আদান-প্রদান হতে হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের বিষয়ে গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) দেয়া তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেলে মানি লন্ডারিং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭ হাজার ৫৮৫  কোটি ডলার বা ৬ লাখ ৬ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা- জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, দেশে এন্টি মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট আছে। এই রিপোর্টের সত্যতা পাওয়ার পর এই আইনে কোনো অপরাধ পাওয়া যায় তাহলে এই আইনে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছাড়াও আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক উপস্থিত ছিলেন।

No comments:

Post a Comment