Thursday, May 4, 2017

ভারতের সঙ্গে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি হয়নি -প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, ভারতের সঙ্গে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার কখনো দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি করেনি, করবেও না। বরং বিএনপিই সরকারে থাকতে চীনের সঙ্গে গোপনে প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছিল। এই চুক্তির ব্যাপারে দেশের জনগণ ও সংসদকে একটি কথাও জানতে দেয়নি। তাই ভারতের সঙ্গে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে- এ ধরনের বিবৃতি সম্পূর্ণ অসত্য, মনগড়া, অবিবেচনাপ্রসূত এবং বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা মাত্র। আমরা ভারতের সঙ্গে যেসব চুক্তি/সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি তার সবই দেশের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে ও দেশের উন্নয়নে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল সংসদ অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ত্রিশ মিনিটের প্রশ্নোত্তরপর্বে একাধিক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা আরো বলেন, আইপিইউ সম্মেলনে বিশ্বের সংসদসমূহ ও জনপ্রতিনিধিগণের স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ও সমর্থনের বিষয়টিই প্রতিফলিত হয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন, এই সফল আন্তর্জাতিক এসেম্বলি দেখে ‘ঘটে যদি পানি’ থাকে তাহলে তারা এসব কথা আর বলবেন না। ২০১৪ সালে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে, তা বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক দেশের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে উপস্থিত থেকে তার সমর্থন দিয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচন সারাবিশ্বই গ্রহণ করেছে। আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এটি একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। প্রশ্নোত্তর-পর্বে প্রধানমন্ত্রী তার ভারত সফরকালে সম্পাদিত ১১টি চুক্তি, ২৪টি সমঝোতা স্মারক এবং দুটি এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপরাটিং প্রসিডিউর)’র বিস্তারিত তথ্য জাতীয় সংসদের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে বলেন, যা কিছুই করেছে তার সবগুলোই জনগণের স্বার্থে, কল্যাণে ও দেশের উন্নয়নে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অনুসৃত পথ ধরেই বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেই দেশকে দ্রুত উন্নয়নের পথে নিয়ে যাচ্ছি। দেশকে দ্রুত উন্নয়নের দিকে ধাবিত করতে এবং দারিদ্র্য নিরসনে যে সব চুক্তি/সমঝোতা সম্পাদিত হয়েছে, তা দ্রুতই আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো।
নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সরকার ইসিকে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে
জাসদের সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে সকল নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে সকল প্রকার সহযোগিতা করার জন্য বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সকল নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুসারে সরকার তথা নির্বাহী বিভাগ সকল ধরনের সহায়তা প্রদান করেছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইন দ্বারা নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করতে সাংবিধানিকভাবে বাধ্য। নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং কেবল সংবিধান ও আইনের অধীন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত সকল নির্বাচনসহ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নবগঠিত নির্বাচন কমিশন পূর্ববর্তী কমিশনের ধারাবাহিকতায় বেশ কয়েকটি নির্বাচন সম্পন্ন করেছে যার সবগুলোই সুষ্ঠু হিসেবে দেশ ও বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।
ভারতের সঙ্গে স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি হয়নি
সংরক্ষিত নারী আসনের বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি ভারত সফরে দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সমুন্নত রেখেই দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে মোট ৩৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক এবং দুটি এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হলে তা বাংলাদেশের জনগণের জীবনমান উন্নীতকরণে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে, যা এই সফরের একটি বড় অর্জন। সংসদ নেতা আরো জানান, সফরকালে দুই দেশ ৬২ দফা সংবলিত একটি যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যাতে দু’দেশের চলমান সম্পর্ক এবং এ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সুস্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। দেশবাসীর অবগতির জন্য ইতিমধ্যেই এই ইশতেহার গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া দু’দেশের জনগণের মধ্যে জনযোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে খুলনা-কলকাতা রুটে যাত্রীবাহী রেল ও বাস চলাচল উদ্বোধন করা হয় এবং বিরল-রাধিকারপুর রুটে পণ্যবাহী রেল চলাচলের উদ্বোধন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত সফরকালে যে সমস্ত চুক্তি/সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে তার সবগুলোর শিরোনাম ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কোনো চুক্তি/সমঝোতা স্মারকই দেশের স্বার্থবিরোধী নয়। তাই ভারতের সঙ্গে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে- এ ধরনের বিবৃতি সম্পূর্ণ অসত্য, মনগড়া, অবিবেচনাপ্রসূত এবং বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা মাত্র। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম এবং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন দেশ। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা- বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে রক্তস্নাত বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি আওয়ামী লীগ সরকার করবে না।

No comments:

Post a Comment