Saturday, May 13, 2017

‘রাশিয়া তদন্তই কমিকে বরখাস্তের অন্যতম কারণ’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন, এফবিআই পরিচালক জেমস কমিকে বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প শিবিরের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে চলমান তদন্তই তিনি বিবেচনায় নিয়েছেন। উল্লেখ্য, জেমস কমি ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তাকে বরখাস্ত করার কারণ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সুপারিশকে কারণ হিসেবে তুলে ধরলেও, বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হচ্ছিল কমিকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নিয়ে রাখেন ট্রাম্প। এনবিসি নিউজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে খোদ ট্রাম্পই ওই প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করলেন। এ খবর দিয়েছে সিএনএন।
খবরে বলা হয়, এনবিসি নিউজের লেস্টার হলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জেমস কমিকে বরখাস্তের কারণ জানতে চাওয়া হয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, চলমান রাশিয়া-সংক্রান্ত ওই তদন্ত নিয়ে তার অসন্তোষ ছিল। তার বিশ্বাস, ওই তদন্ত চলছিল ডেমোক্রেটদের কারণে। তার ভাষ্য, ‘প্রকৃতপক্ষে আমি যখন এটা (বরখাস্ত) করার সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি নিজেকে বললাম, ট্রাম্প ও রাশিয়া নিয়ে এই তদন্তটা পুরো বানোয়াট একটা গল্প। এটা আসলে ডেমোক্রেটদের নির্বাচন হারের একটা অজুহাত।’
সিএনএন’র খবরে বলা হয়, এফবিআই’র এই রাশিয়া-সংক্রান্ত তদন্তই কমিকে বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প বিবেচনায় নিয়েছেন, তা এই মন্তব্য থেকে অনেকটাই বোঝা যায়। কিন্তু তার এই মন্তব্য এক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের বলা কথাবার্তার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস থেকে বলা হয়, ট্রাম্প কমিকে বরখাস্ত করেছেন শুধুমাত্র এ কারণে যে, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নিজেই ওই বরখাস্তের সুপারিশ করেন। বুধবার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কেলায়েন কনওয়ে ও হোয়াইট হাউসের অন্যান্য কর্মকর্তারা একই সুরে কথা বলেন। পেন্স যেমন বলেছিলেন, ‘ট্রাম্প বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেখিয়েছেন। তিনি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সুপারিশে এই পদক্ষেপ নেন।’ কিন্তু একই দিন পরে ট্রাম্প নিজেই বলেন, তিনি কমিকে বরখাস্ত করেছেন কারণ ‘সে খুব ভালো কাজ করছিল না।’
পরের দিন বৃহস্পতিবার এনবিসি টিভিতে ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরো সোজাসাপ্টা মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল যা-ই বলুন না কেন, কমিকে তিনি বরখাস্ত করতেনই। ট্রাম্প আরো স্বীকার করেন, কমির এই বরখাস্তের ফলে রাশিয়া সংক্রান্ত ওই তদন্ত আরো বিলম্বিত হবে। উল্লেখ্য, রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, গত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তারা ট্রাম্পকে জিততে সহায়তা করেছিল হ্যাকিং-এর মাধ্যমে। এ নিয়ে কংগ্রেস ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করছে। জেমস কমির এফবিআই এই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ-ও অভিযোগ রয়েছে, ট্রাম্প শিবিরের অনেক শীর্ষ কর্তাব্যক্তির সঙ্গে রাশিয়া ও দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার সম্পর্ক ছিল। এ নিয়েও তদন্ত চলছে। সমালোচকরা বলছেন, জেমস কমিকে সরিয়ে ট্রাম্প ওই তদন্ত বিঘ্নিত করার চেষ্টাই করেছেন। তবে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ অভিযোগ অস্বীকার করেন যে, তিনি এফবিআই’র রাশিয়া সংক্রান্ত তদন্ত নস্যাৎ করার চেষ্টা করছেন। ট্রাম্প বলেন, ওই তদন্ত সঠিকভাবে হতে হবে। অনেক সমালোচক, ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের কর্মকাণ্ডেরও মিল পাচ্ছেন। কুখ্যাত ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত নিক্সন অভিসংশনের মুখে পদত্যাগ করেন। তার আগে তিনি তার বিরুদ্ধে তদন্ত ধামাচাপা দিতে আইন মন্ত্রণালয়ের বহু কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেন।
আরো একটি বিষয় নিয়েও পরস্পরবিরোধী অবস্থা তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ হাকাবি স্যান্ডার্স বলেছিলেন, এফবিআই পরিচালককে বরখাস্তের ফলে তদন্ত এখন বিশুদ্ধভাবে শেষ হবে।
এমনকি যে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সুপারিশ ট্রাম্প আমলে নিয়েছেন বলে দাবি করছিল হোয়াইট হাউস, খোদ তিনিই তাকে বলির পাঠা বানানোর প্রতিবাদে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন। অপরদিকে হোয়াইট হাউস এবং ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বলা হয়, কমি এফবিআই কর্মীদেরও আস্থা হারিয়েছেন। কিন্তু এফবিআইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অ্যান্ড্রু ম্যাক্যাবে এই কথা অস্বীকার করেন। তিনি সিনেটের এক শুনানিতে বলেন, এফবিআইতে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে কমির প্রতি। তিনি নিজেও কমির সঙ্গে কাজ করতে পেরে প্রচণ্ড ভাগ্যবান বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে নতুন এফবিআই পরিচালক হিসেবে আপিল বিভাগের বিচারপতি পদে ওবামা আমলে মনোনীত বিচারক মেরিক গারল্যান্ড, যাকে চূড়ান্ত করেনি রিপাবলিকানরা, তার নাম বাতাসে ভাসছে। তাকে মনোনীত করলে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান- উভয় শিবিরের সমর্থন মিলতে পারে বলা হচ্ছে। কিন্তু রাশিয়া ইস্যু তদন্তে ট্রাম্পের মনোনীত কোনো এফবিআই পরিচালক নন বরং নিরপেক্ষ একজন বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগের দাবি বন্ধ হয়নি ডেমোক্রেট শিবিরে।

No comments:

Post a Comment