Saturday, May 13, 2017

বিশ্বে সবচেয়ে ঘনবসতির শহর ঢাকা

বিশ্বে সবচেয়ে ঘনবসতির শহর ঢাকা। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় বসবাস করেন ৪৪ হাজার ৫০০ মানুষ। আর এজন্যই ঢাকার নামের সঙ্গে এ তকমা লেগেছে। ইউএন হ্যাবিটেট-এর এক রিপোর্টে এ কথা বলা হয়েছে বলে খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য গার্ডিয়ান। এতে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিসংখ্যান অফিস থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে ইউএন হ্যাবিটেট এবং সংগৃহীত তথ্য একেবারে নির্ভেজাল। তাতে দেখা গেছে, ঘনবসতির দিক দিয়ে এক নম্বর অবস্থানে আছে ঢাকা। এ তালিকায় রয়েছে এশিয়ার আরো কিছু শহর। যেমন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের মুম্বই। চতুর্থ অবস্থানে আছে ম্যানিলা ও সিঙ্গাপুর। প্রশাসনিক শহরকে তার সন্নিহিত এলাকাগুলোর সঙ্গে তুলনা করে জনঘনত্বের এ হিসাব করা হয়েছে। কিন্তু অন্য হিসাবে ফল কিন্তু ভিন্ন দেখা গেছে। জাতিসংঘেরই ডেমোগ্রাফিক ইয়ারবুকে শুধু ‘সিটি প্রোপারের’ জন্য ডাটা সন্নিবেশিত হয়েছে। এ হিসাবে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতির শহর ম্যানিলা। ইউরোপীয় দেশগুলোতে এর কাছাকাছি রয়েছে প্যারিস, এথেন্স ও বার্সেলোনা। ইউরোপের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর হলো বার্সেলোনা। উত্তর আমেরিকায় সবচেয়ে ঘনবসতির শহর হলো নিউ ইয়র্ক। আর অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে সিডনি। ‘হোয়ার ইজ দ্য ওয়ার্ল্ডস ডেনসেস্ট সিটি?’ শীর্ষক প্রতিবেদনে গার্ডিয়ান আরো লিখেছে, স্বাভাবিকভাবেই শহরগুলো হয় ঘনবসতির। বিভিন্ন গ্রুপের মানুষ তাদের হাতের নাগালে সব পাওয়ার আশায় শহরে ছুটে আসেন। এখানে তাদের সুরক্ষা রয়েছে। আছে পারস্পরিক সুযোগ-সুবিধা। একসঙ্গে সব প্রয়োজন মেটানো যায়। বিশ্ব জনসংখ্যার তাই শতকরা ৫০ ভাগের বেশি এখন নগরবাসী। জনঘনত্ব সাধারণত নির্ধারণ করা হয় কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যাকে এর আয়তন দিয়ে ভাগ করে। এরই ভিত্তিতে বর্তমানে পৃথিবী পৃষ্ঠে ৭০০ কোটি মানুষকে ভূ-আয়তন দিয়ে ভাগ করে দেখা যায়, প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় মোটামুটি ৫০ জন মানুষ বসবাস করছেন।  বিশ্বের পাহাড়ি, মরুময় অথবা অন্য যেকোনো রকম ভূখণ্ডে যদি তাকাই, তাহলে একজন থেকে তার প্রতিবেশীর দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিটার। এক্ষেত্রে বিশ্বে একটি শহরের সীমানা নির্ধারণে কোনো আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা নেই। তাই শহরে বসবাসকারী মানুষের ঘনত্ব বের করা হয়েছে শহরের উপকূলের তুলনায় প্রশাসনিক শহরের তুলনা করে। রিপোর্টে প্রশ্ন রাখা হয়েছে, কী কারণে এ ঘনবসতি? উত্তরে বলা হয়েছে, শহর এলাকায় অগ্রগতি জটিল এবং এটি একটির সঙ্গে অন্যটি সম্পৃক্ত। এমন কিছু ফ্যাক্টর আছে, যার কারণে মানুষ ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে বাধ্য হয়। এর প্রধান কারণ হলো প্রাকৃতিক সীমারেখা। মালদ্বীপের রাজধানী মালে মাত্র ৫.৮ বর্গকিলোমিটারের একটি দ্বীপ শহর। এখানে জনবসতি এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি। এখানে কোনো আকাশচুম্বী ভবন নেই। নেই কোনো দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য। তা সত্ত্বেও সেখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনবসতি ২৩ হাজার। এই ঘনবসতির আরেকটি কারণ আত্মরক্ষামূলক সীমানা। আয়রন যুগ বা লৌহ যুগ থেকে, পাহাড়ি দুর্গ থেকে মধ্যযুগীয় কেল্লা- সব স্থানেই লোকজনকে উৎসাহিত করা হয়েছে দেয়াল দিয়ে সুরক্ষিত স্থানে গাদাগাদি করে অবস্থান করতে।

No comments:

Post a Comment