Wednesday, May 24, 2017

বৃটেনজুড়ে শোকের ছায়া

শোকে স্তব্ধ বৃটেন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ ম্যানচেস্টার হামলায় প্রায় বাকরুদ্ধ। বৃটেনজুড়ে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। যেকোন সময় আরো হামলার আশঙ্কা রয়েছে। তা সত্ত্বেও নিহতদের স্মরণে সব শ্রেণি পেশার মানুষ মঙ্গলবার সমবেত হয়েছিলেন। সেখানে নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট সাফি রুসেস (৮), জর্জিনা (১৮) সহ সবার প্রতি প্রাণখুলে প্রার্থনা করা হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন জর্জিনার মা লেসলি ক্যালান্ডার। এ সময় সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আলবার্ট স্কয়ারে সেই শোকমিছিলে সামিল হয়েছিলেন বিভিন্ন রাজনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি। এমন শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে লন্ডন, বার্মিংহাম, বৃস্টল, নিউক্যাসল, গ্লাসগো এবং বেলফাস্টে। আলবার্ট স্কয়ারে মেয়ের প্রতি মা লেসলি একটি হলুদ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় একজন যুবক তাকে চাদরে আবৃত করে সান্তনা দেন। সতর্কতা উপেক্ষা করে কয়েক হাজার মানুষ ম্যানচেস্টারের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে সমবেত হন। এ সময় তাদের কণ্ঠে প্রতিধ্বনি ওঠে তাদেরকে কেউ পরাস্ত করতে পারবে না। ভয়ে ভীত করতে পারবে না। আলবার্ট স্কয়ার থেকে আশপাশের সড়কে তখন জনতার ভিড় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অনেকের হাতে ছিল পোস্টার, পতাকা, প্লাকার্ড। তাতে লেখা ‘আই লাভ ম্যানচেস্টার’। হামলায় নিহত সবচেয়ে ছোট্ট সাফি রুসেস ও জর্জিনা ক্যালান্ডারের প্রতি শোক, শ্রদ্ধা জানাতে তাদের পরিবারের সঙ্গে সহমর্মিতা জানাতে যোগ দেন বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ। নিহত এ দুটি বালিকার বাস ছিল দু’মাইলেরও কম দূরত্বে। কনসার্টে উপস্থিত ছিলেন সাফির মা লিসা ও তার বড় মেয়ে। তারা মারাত্মক জখম হয়েছেন। অবস্থা সঙ্কটজনক বলে জানানো হচ্ছে। মঙ্গলবারের ওই শ্রদ্ধা-সমাবেশে সাফির স্কুলের অনেক শিক্ষার্থীও যোগ দেয়। তারা মার্ক স্কয়ারে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। নিহতদের স্মরণে উড়ানো হয় গোলাপী বেলুন। দু’মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ  সময় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে। একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদতে থাকে। স্থানীয় অধিবাসী গিলিয়ান ব্লাকলি বলেছেন, আমাদের মনের অবস্থা কি তা আজ বলতে পারবো না। আমাদের মুখে কোন ভাষা নেই। আমাদের হৃদয়ে স্পন্দন স্মিমিত। আমরা সমবেদনা জানাই অন্য সব নিহত ও আহতদের প্রতি। একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশপ জন গোডার্ড। তিনি বলেন, আমরা এখানে সমবেত হয়েছি জর্জিনা ও সাফির প্রতি সম্মান জানাতে। সম্মান, শ্রদ্ধা জানাই অন্যদের প্রতিও। এ সময় সেখানে উপস্থিত অভিভাবকরা একে অন্যের হাত শক্ত করে ধরে রাখেন। শিশুরা অঝোরে কাঁদতে থাকে। সমাবেশে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রাড, লেবার নেতা জেরেমি করবিন, স্পিকার জন বারকাউ, ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সমাবেশে তারা বক্তব্য রাখেন সমবেদনা প্রকাশ করে। এসব সমাবেশে যোগ দেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিমও।

No comments:

Post a Comment