Wednesday, June 7, 2017

৬ লাখ টন চাল আমদানি করা হবে

দেশে বর্তমানে গত বছরের এ সময়ের তুলনায় চালে মজুদ কিছুটা কম রয়েছে। হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যার কারণে যে ফসলহানি হয়েছে তা পূরণ করা এবং দেশে চালে মজুদ সন্তোষজনক পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে বিদেশ হতে ৬ লাখ টন চাল আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। গতকাল সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহা. গোলাম রাব্বানীর প্রশ্নের লিখিত জবাবে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকার ইতিমধ্যে ৩ লাখ টন চাল আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। এছাড়া ভিয়েতনামের সঙ্গে জি টু জি পর্যায়ে চাল আমদানির জন্য এমওইউ স্বাক্ষরের লক্ষ্যে বর্তমানে ভিয়েতনামের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করছে। তিনি জানান, দেশের সব মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। সে লক্ষ্যে চলতি অর্থ-বছরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে কর্মাভাবকালীন ৫ মাস প্রতি কেজি ১০টাকা মূল্যে ৫০ লাখ উপকারভোগীর মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা শহরে ওএমএস খাতে আটা বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরদিকে খাদ্য চাহিদা পূরণে ভিজিডি, ভিজিএফ, জিআর ইত্যাদি খাতে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারি দলের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী জানান, হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় খাদ্যশস্যের ক্ষতিসাধন হলেও এতে খাদ্য অভাব দেখা দেয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সরকার অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের পাশাপাশি বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য আমদানির ত্বরিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বিদেশে কর্মী নিয়োগে দালাল প্রতিরোধে কঠোর শাস্তি
সরকারি দলের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি জানান, কর্মী নিয়োগে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য হ্রাসে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং অন্যূন ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ‘ বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩’ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি জানান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দোষী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০১৬ সালে বিদেশে কর্মী প্রেরণ বৃদ্ধি সত্ত্বেও রেমিটেন্স পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। সরকার রেটিটেন্স প্রবাহ হ্রাস পাওয়ার কারণ অনুসন্ধান এ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং এর নামে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ প্রেরণ রেমিটেন্স হ্রাসের অন্যতম কারণ। রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অবৈধ পথে রেমিটেন্স প্রেরণের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, গৃহকর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে শুধু সৌদি আরবের ওপর সরকার নির্ভরশীল নয়। এ পর্যন্ত বিশ্বের ৭০টি দেশে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৩৮৬ জন গৃহকর্মী প্রেরণ করা হয়েছে। এ সকল দেশে গৃহকর্মী প্রেরণ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অন্যান্য দেশেও গৃহকর্মী প্রেরণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

No comments:

Post a Comment