
রাজনীতিবিদদের
সঙ্গে ইফতার করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাজধানীর বসুন্ধরা
কনভেনশন সেন্টারের ‘নবরাত্রি হলে’ রাজনীতিবিদদের সম্মানে তিনি এ ইফতার
মাহফিলের আয়োজন করেন। ইফতারের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন আমন্ত্রিত অতিথিদের
টেবিলে টেবিল ঘুরে তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ২০দলীয় জোটের শরিক দল
ছাড়াও খালেদা জিয়ার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ইফতারে অংশ নেন বিকল্পধারা
বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী,
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের
আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক
হাবিবুর রহমান তালুকদার। সাড়ে ৬টার দিকে খালেদা জিয়া ইফতার অনুষ্ঠানে
পৌঁছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চেয়ারপারসনকে নিয়ে
মাহমুদুর রহমান মান্না ও আসম আবদুর রবের টেবিলের কাছে যান। এই দুই নেতার
সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন খালেদা জিয়া। তিনি এই দুই নেতার স্বাস্থ্যের খবর
নেন। নেতারা জানান, আবদুর রবের স্ত্রী তানিয়া রবের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে
খালেদা জিয়া প্রশ্ন করেন তিনি এখন ঢাকায় থাকেন কিনা। পরক্ষণেই সে টেবিলে
এসে যোগ দেন সাবেক প্রেসিডেন্ট একিউএম বদরুদ্দৌজা চৌধুরী। এ তিন নেতার
সঙ্গে প্রায় ১০ মিনিট গল্প করেন খালেদা জিয়া। নেতারা জানান, আলোচনার
একপর্যায়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের জন্য মাহমুদুর রহমান মান্নাকে অভিনন্দন
জানান বি. চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আপনাকে অভিনন্দন। আপনি নতুন দল করেছেন।’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এ সময় মান্নাকে অভিনন্দন জানান।
ইফতার অনুষ্ঠানের মূলমঞ্চে ওঠার আগে খালেদা জিয়া জামায়াতের কয়েকজন নেতার
সঙ্গে কথা বলেন। মঞ্চে উঠেই ২০ দলীয় জোটের শরিক নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়
করেন। এ সময় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীকে
উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘কেমন আছেন? আপনাকে তো দেখা যায় না।’ পরে
তিনি ইফতারে অংশ নেয়ার জন্য রাজনীতিবিদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ধন্যবাদ
জানান। ইফতারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে মূল মঞ্চে বসে ইফতার করেন সাবেক
প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারা সভাপতি প্রফেসর ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী,
এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম, জামায়াতের নায়েবে আমীর
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ
মুহাম্মদ ইবরাহীম বীরপ্রতীক, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর,
জাতীয় পার্টি (জাফর) ডা. টি আইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরী, ইসলামী ঐক্যেজোটের এম
এ রকিব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর নুর হোসেন কাসেমী, খেলাফত
মজলিশের মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান
জেবেল রহমান গানি, জাগপার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেহেনা প্রধান, এনডিপি
চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ,
চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মর্তুজা, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা.
মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ পিপলস লীগের সভাপতি গরীবে নেওয়াজ, ন্যাপ
ভাসানী সভাপতি আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এ এইচ এম
কামরুজ্জামান, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমেদ,
বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের, ডেমোক্রেটিক লীগের
সাইফুদ্দিন মণিসহ জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। এ ছাড়া বিএনপি স্থায়ী
কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান,
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, বিকল্পধারার
মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত
হোসেন সেলিম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার, মাসুদ সাঈদী,
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, যুগ্ম
সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় দলের সভাপতি সৈয়দ এহসানুল
হুদা, জাগপা সভাপতি সদ্যপ্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে ব্যারিস্টার
তাসমিয়া প্রধান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ
প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ইফতারে অংশ নেন।
No comments:
Post a Comment