Tuesday, June 6, 2017

দ্রুত বিচার আইনে সাজা বাড়ছে

আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধের জন্য শাস্তির মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো হচ্ছে। আইন অনুযায়ী এই অপরাধের জন্য সাজার মেয়াদ আছে দুই থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর। এখন সেটি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ সাত বছর করার প্রস্তাব করে ‘আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) আইন, ২০১৭’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
গতকাল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ অনুমোদনের কথা জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এটা মূলত ২০০২ সালের আইন। দ্রুত বিচার আইনের ৪ (১) ধারা সংশোধন করে শাস্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। বিদ্যমান আইনের শাস্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ করলে ২ থেকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত এবং একই সঙ্গে অর্থদণ্ডে ও দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে, শাস্তি ২ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আইনে অর্থদণ্ড নির্দিষ্ট করা নেই। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সংশোধিত আইনে সাজার মেয়াদ বাড়ানো হলো কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব  বলেন, জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে এটা (শাস্তি) বাড়ানো হয়নি, এটা নিয়মিত কাজ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চাঁদাবাজি, যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা; যানবাহনের ক্ষতিসাধন করা; স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিনষ্ট করা; ছিনতাই, দস্যুতা, ত্রাস ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি; দরপত্র ক্রয়-বিক্রয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি; ভয়-ভীতি প্রদর্শনসহ গুরুতর অপরাধ দ্রুততার সঙ্গে বিচারের জন্য এই আইনটি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আইনে উল্লেখ করা নয়টি আইটেম আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ বলে গণ্য হবে। শাস্তি কেন বাড়ানো হলো- এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অনেকগুলো ফোরাম থেকে প্রস্তাব আসে সাজা পাঁচ বছর পর্যাপ্ত নয়।  স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলাপ করা হয়েছে। কত বাড়ালে ভালো হয়- ওই সাত বছরে সবাই একমত পোষণ করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ২০০২ সালে দ্রুত বিচার আইন জারি করে তখন বলা হয়েছিলো ২ বছর পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে। পরে বিভিন্ন সময় কার্যকারিতার মেয়াদ বাড়ানো হয়। ২০০৪, ২০০৬, ২০১২, সর্বশেষ ২০১৪ সালে এ আইনের কার্যকারিতার মেয়াদ বাড়ানো হয়। ২০১৪ সালে আইনটির কার্যকারিতার মেয়াদ একসঙ্গে ৫ বছর বাড়ানো হয়। ২০১৯ সালের ৭ই এপ্রিল পর্যন্ত দ্রুত বিচার আইনটি কার্যকর থাকবে। বিভিন্ন সময়ে সরকারগুলোর বিরুদ্ধে এ আইনটি ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দমনের অভিযোগ রয়েছে। আইনে ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা না গেলে আরো ৬০ দিন সময় পাওয়া যাবে।

No comments:

Post a Comment