Sunday, October 8, 2017

শেখ হাসিনা 'বিপন্ন মানবতার লাইট হাউজে' পরিণত হয়েছেন: ওবায়দুল কাদের

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা 'বিপন্ন মানবতার লাইট হাউজে' পরিণত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
আজ (রোববার) রাজধানীর হোটেল রেডিসনের সামনে বিআরটিএ'র মোবাইল কোর্ট পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নতুন করে আর যেন রোহিঙ্গাদের জনস্রোত আসতে না পরে, সেজন্য জাতিসংঘকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’
রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের অবস্থান বর্ণনা করে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমাদের সব কিছুর জন্য ধৈর্য ধরতে হবে। ঠাণ্ডা মাথায় কাজ করতে হবে। আমরা যদি তাদের ফাঁদে পা দেই, তাহলে গোটা অঞ্চলের ক্ষতি হবে।’
নতুন করে রোহিঙ্গারা আসলে তাদের জন্য সীমানা খোলা থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যখন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন আমি তখন আলাপ করেছিলাম টেলিফোনে। আমাদের যারা নিরাপত্তার দায়িত্ব আছে তারা অনেকেই বলেছিল এখন যেভাবে রোহিঙ্গা আসছে আমরা বর্ডার বন্ধ করে দিব কিনা? তখন প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, আমরা যখন মানবিক কারণে সীমান্তের দরজা খুলে দিয়েছি; তখন আবার কি এমন কারণ ঘটল যে আমাদের মানবিক যে দৃষ্টিকোণের পরিবর্তন ঘটল? যে পর্যন্ত বিশ্ব জনমত এবং জাতিসংঘের চাপে সহিংসতা বন্ধ না হবে, আমরা জোর করে দরজা বন্ধ করে দিব না। আমাদের মানবিক দৃষ্টিকোণটা একেক সময় একেক রকম হতে পারে না।’
এত শরণার্থীর ভার রাষ্ট্র কিভাবে বহন করবে জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘আপনারা কি বলেন তাড়িয়ে দিব? নদীতে ফেলে দিব? সাগরে ফেলে দিব? এটা কি হয়? এটা কি মানবিকতা? এটা মানবিক একটা বিপর্যয়। এই মানবতার যে উদারচিত্ততা আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেখিয়েছেন, সেই জন্যই তো তিনি বিপন্ন মানবতার লাইট হাউজে পরিণত হয়েছেন। আমি মনে করি এ জন্য ধৈর্য ধরতে হবে। আমাদের কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে।’
বিএনপির সমালোচনার জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যদি কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হত, তাহলে মিয়ানমারের সুর নরম হল কিভাবে? মিয়ানমার তাদের অবস্থান অনড় বুঝিয়েছিল, এখন তো মিয়ানমারের মন্ত্রী আসার পর একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের সুর যদি নরম না হতো, অবস্থানের যদি পরিবর্তন না হতো; তাহলে মিয়ানমারের মন্ত্রী কিভাবে বাংলাদেশে আসে, আলোচনা করে? জয়েন্ট ওয়ার্কিং করে?’
বিএনপির সমালোচনা করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিএনপি কতটা আন্তরিক? তাদের কনসার্নটা শুধু রাজনীতির। দেশে তিন দফা বন্যা হল কিন্তু তিনি (খালেদা) না এসে দিনের পর দিন শুধু আসি আসি বলে আশা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি আসেন নাই। তাদের ১ নাম্বার যিনি (খালেদা জিয়া) তারই তো রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কোনো চিন্তা আছে বলে মনে হয় না। আর বাকিরা এসে শুধু প্রেস বিফ্রিং করছে।’
চীন-ভারতকে সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর যে মানব বোঝা চেপেছে, তাদের স্বদেশে ফিরে যেতে আপনারা সহযোগিতা করুন। আমাদের দেশ তিন দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের অর্থনীতি, পরিবেশের উপর চাপ আছে। কক্সবাজারে পর্যটনের উপর একটা প্রভাব আছে। সেই সব চিন্তা করে আমাদের প্রতিবেশী অন্যান্য বড় বড় দেশ, বন্ধু দেশ এবং বিশ্ব জনমতের কাছে আমাদের অনুরোধ; বিশেষ করে জাতিসংঘের কাছে যত দূত সম্ভব এই বাড়তি জনসংখ্যা- আমাদের উপর যা চেপেছে তাদের যেন তাদের স্বদেশ ফেরত নেওয়া হয়। আর প্রতিবেশীর ঘরে যদি আগুন লাগে, তাহলে সেই আগুনের আচ তাদের ঘরেও লাগবে। তাই প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই যেন তারা এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসে।’

No comments:

Post a Comment