Thursday, November 30, 2017

মোবাইল প্রেমের ফাঁদ, গণধর্ষণের শিকার ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীকে গণধর্ষণ করেছে মেয়েটির প্রেমিক ও তার বন্ধুরা। গত সোমবার রাতভর সিদ্ধিরগঞ্জের উত্তর কদমতলী এলাকায় একটি ফ্যাট বাসায় আটক রেখে ওই ছাত্রীর প্রেমিক আব্দুস সালাম ও তার পাঁচ-ছয়জন বন্ধু ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ ঘটনার প্রধান আসামি আব্দুস সালামকে (৩৫) পুলিশ গ্রেফতার করেছে। জানা যায়, সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া ওই ছাত্রীর সাথে আব্দুস সালাম মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এক বছর ধরে প্রেমের অভিনয় করে আসছিল। একপর্যায়ে গত সোমবার বিকেল ৪টায় মেয়েটিকে ফুঁসলিয়ে আব্দুস সালাম তার বন্ধু ইমরানের ভাড়া করা উত্তর কদমতলী এলাকার আব্দুল হাকিম সিকদারের ছয়তলা বাড়ির তৃতীয়তলার পশ্চিম পাশের ফ্যাটে নিয়ে যায়। এরপর ওই ফ্যাটে রাতভর আটক রেখে আব্দুস সালাম ও তার বন্ধুরা ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে।
গত মঙ্গলবার সকাল ৭টায় মেয়েটি বাসায় ফিরে তার মায়ের কাছে ঘটনাটি জানালে রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রাতেই গোদনাইল এনায়েতনগর এলাকার রহমত আলী মোল্লার ভাড়াটিয়া বাড়ি থেকে আব্দুস সালামকে গ্রেফতার করে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই রাকিবুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত আসামি আব্দুস সালাম কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার আল্লাহর দরগা এলাকার নাজিমউদ্দিনের ছেলে। সে গোদনাইল নিট কনসার্ন গ্রুপের নিটিং সেকশনের শ্রমিক। গ্রেফতারকৃত আসামি আব্দুস সালাম বিবাহিত ও তার তিন বছর বয়সের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার মিয়া জানান, গণধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষিতা নিজেই বাদি হয়ে আব্দুস সালামসহ পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেছে। এ ঘটনায় মূল আসামি আব্দুস সালামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওই ছাত্রীকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নাটোরে সাঁওতাল প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ
নাটোর সংবাদদাতা জানান, নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ধর্ষণের শিকার সাঁওতাল এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের ১০ দিনের মাথায় সালিসি বৈঠকে ২০ হাজার টাকায় আপস করা হয়েছে। একই সাথে ধর্ষণকারী হিসেবে অভিযুক্ত যুবককে জনসমক্ষে ৫০ বেত্রাঘাতের নির্দেশও দেয়া হয় বৈঠকে। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পাঁচুড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রাম্য প্রধান ও সাঁওতালদের ধর্মগুরু জন বেসরা বলেন, ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধীর পরিবার, ধর্ষকের পরিবার ও স্থানীয় গ্রামের লোকজনের সমন্বয়ে গত মঙ্গলবার রাতে এক গ্রাম্য সালিস বৈঠক ডাকা হয়। এতে অভিযুক্ত মিঘারেল কিসকুকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও ৫০ বেত্রাঘাত প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সালিসে তাকে বেত্রাঘাত করা হয় এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ২০ হাজার টাকা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়। এ ছাড়া পরবর্তী সময় মিঘারেল কিসকুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পেলে এক লাখ টাকা সমাজে জমা দিয়ে গ্রাম ত্যাগেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ওই সালিসে। তবে তাকে নিয়ে কিছু দিন আগে অপর এক অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ইতঃপূর্বে তার বিরুদ্ধে একাধিক চুরিরও অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন গ্রামপ্রধান। ধর্ষণের শিকার ওই প্রতিবন্ধীর বাবা সালিসের সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করে বলেন,
আমি ঢাকায় চাকরি করি, তাই মামলায় জড়াতে চাইনি। এ ছাড়া গ্রামে বাস করে সমাজের সিদ্ধান্ত অমান্য করতে পারিনি। স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার পাঁচুড়িয়া গ্রামে ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী ওই নারীর বাবা-মা ঢাকায় গার্মেন্টে চাকরি করায় বাড়িতে তার ছোট এক বোন ও এক ভাই বসবাস করে। গত ১৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় ছোট বোন গির্জায় প্রার্থনা করতে গেলে একই গ্রামের পাউলুস কিসকুর ছেলে মিঘারেল কিসকু (১৮) ওই প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ করে। গত ২০ নভেম্বর ওই প্রতিবন্ধী নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে জিজ্ঞাসাবাদে তার ছোট বোন ঘটনাটি জানতে পারে। পরে বিষয়টি আত্মীয় ও গ্রামপ্রধানদের জানানো হলে ২১ নভেম্বর গ্রামপ্রধান ও স্থানীয়রা গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে এক দফা বিষয়টি সমাধানের জন্য বসেন। এতে সুরাহা না হলে ২২ নভেম্বর সকালে ওই প্রতিবন্ধীর ছোট বোন তাকে নিয়ে বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে চিকিৎসক ওই নারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। গত মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি নিয়ে আপস করা হয়।

No comments:

Post a Comment