নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
জুয়া আর অশ্লীনতার দখলে চকরিয়ার বদরখালীতে বিজয় মেলা চলছে । সেখানে লাকি কুপনের নামে জুয়া, সংস্কৃতির নামে উলঙ্গ নৃত্যের পাশাপাশি ইয়াবা কারবারিদের ইয়াবা সেবন ও ধর্ষন চর্চা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ লোকজন বিপদগামীর পাশাপাশি বেড়েছে উঠতি বয়সের যুবকদের মদ্যপান। আর এতে করে ভবিষ্যত প্রজন্মের অন্ধকার দেখছেন সচেতন মহল। ফলে আইন শৃঙ্খলায় ঘটছে চরম অবনতির আংশঙ্কা সচেতন মহলের। এদিকে মেলা আয়োজকদের দাবী তারা লটারী ও নাচগানের জন্যও অনুমতি নিয়েছে। গত ২৮ডিসেম্বর থেকে ফুলতলা এলাকায় ভেরাইটি শো, জুয়া, সার্কাসের নামে উলঙ্গ নৃত্যের পাশাপাশি ইয়াবা কারবারিদের ইয়াবা সেবন ও ধর্ষন চর্চার মত কু-কর্ম ও চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গত ২৯ ডিসেম্বর চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বখতিয়ার আলম বদরখালীতে গিয়ে এ ব্যপারে মেলা কমিটিকে সতর্ক করলে ও তারা দুর্লোভের বশবর্তী হয়ে রাত ১০ টার পর আবারও অশ্লীনতা দিয়ে মেলার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ যেখানে আওয়ামীলীগের উপজেলা নেতৃবৃন্দ এসে উদ্ভোধন করেন। উপজেলা নেতৃবৃন্দ যে পেন্ডেলে বিজয় মেলা উদ্বোধন করেন সেই পেন্ডেলেই এখন অননুমোদিত লটারী পেন্ডেল বলে জানালেন বদরখালী মাতারবাড়ী পাড়ার পাড়ার মোঃ কবির। এলাকার সচেতন অভিভাকদের অভিযোগ মেলায় প্রবেশের জন্য ছাত্ররা বাড়ী থেকে টাকা ও জিনিসপত্র চুরি করছে। সবচেয়ে বড় কথা রাতে নাচগানের জন্য ছাত্রদের বাড়ীতে ধরে রাখতে অভিভাবকরা হিমশিম খাচ্ছে। তাছাড়া চকরিয়ার ইয়াবা স¤্রাট বদরখালীর জিয়াবুল সিন্ডিকেট এখন সক্রিয় হয়ে দেশীয় মদ, ইয়াবা আর হিরোইনের ব্যবসা ওপেন করে রেখেছে। মদ ব্যবসায়ী মকছুদের স্ত্রীরও এখন পোয়াবার। বদরখালীর হেলাল নামক সাবেক এক এমইউপি'র ও ক্ষমতাসীন দলের একজন ক্ষমতাধর এক ব্যাক্তির তত্বাবধানে এ অনৈতিক কাজ চলছে বলে জানান মগনামা পাড়া এলাকার সাবেক এক জন প্রতিনিধি। বদরখালী পুলিশফাঁড়ী সহ প্রশাসনের নিকট এলাকার জনসাধরন ফোন করে ও ব্যক্তিগত ভাবে এর অভিযোগ দিলেও তাদের ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে সচেতন মহলে। ষ্টেইজ করে বিজয়গাঁথা আলোচনার কথা থাকলে ও চলছে জুয়া ও লটারী। এতে উঠতি বয়সের সব স্কুল-কলেজ পডুয়া শিক্ষার্থী ও গ্রাম্য যুবকসহ দূর-দূরান্তের বিকৃত মানসিকতার মানুষের সমাগম মোহিত করে রেখেছে। সামনে এস এস সি ও দাখিল পরীক্ষার্থীরা মাইকের হুলুস্তুল বাজনা আর বিভিন্ন প্রকার আওয়াজে লেখাপড়ার দারুন বিঘœ ঘটছে বলে জানান এক ছাত্র অভিভাবক। বিজয় মেলার আয়োজন করে প্রতিদিন লটারীর নামে পুরো চকরিয়ায় মাইকিং করে ২০টাকা টিকেট বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পক্ষান্তরে নামে মাত্র পুরস্কার দিচ্ছে বিজয়ীর মাঝে। রাত ১০টার পর থেকে সার্কাসের নামে রাত ব্যাপি চলে পথভ্রষ্ট মহিলা শিল্পীর উলঙ্গ নৃত্য। এতে জেলা প্রশাসনের দেয়া শর্তগুলো মানছেনা আয়োজকেরা। এরপরও স্থানীয় প্রশাসন এসব দেখেও রহস্যজনক কারণে না দেখার ভান করে যাচ্ছে। হেলাল মেম্বার ও শেখ নামের এক আওয়ামী নেতা সহ মেলা কমিটির নেতাদের দাবী প্রশাসন ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে এসব করছেন তারা। এদের দাবী শুধু বিজয় মেলা করলে এখানে কোন দর্শক আসবে না। তাই বিনোদনের জন্য টুকটাক নৃত্যের এ আয়োজন। এছাড়া বিজয় মেলার ব্যয়কৃত পুঁজি উদ্ধারে জুয়ার আসর বসাতে হয়েছে। এ খাতে আয়ের বিশাল একটি অংশ সকল স্থরের দায়িত্বশীলদের ঘাটে ঘাটে বিলি করতে হচ্ছে। এমনকি এসব অনৈতিক কর্মকান্ডের খবর প্রচার ও প্রকাশ না করার জন্যে মিডিয়া কর্মীদেরকেও ম্যানেজ করা হচ্ছে। স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ কয়দিন পরেই এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার অনুষ্টিত হবে। বিজয় মেলার নামে আয়োজিত এসব অশ¬ীল কর্মকান্ডে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ব্যাঘাত হচ্ছে।
মেলার অশ্লীল নৃত্য ও জুয়া এবং মেলার ডজন মাইকের শব্দ দুষণে অতিষ্ট জনগোষ্টি রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছেনা এমনও অভিযোগ করেন স্থানিয়রা। এছাড়াও মেলা এলাকার পাশে কিছু মাদক ষ্পটে চলছে মদ, ইয়াবা ও পতিতা বানিজ্য। স্থানীয় লোকজন অতিষ্ট হয়ে উঠলেও বিজয় মেলার নাম জড়িত থাকায় মামলার ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।
এদিকে প্রবীন আওয়ামীলীগের একজন ত্যাগী নেতা সংগত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামীলীগের সুদিনে মৌসুমী পাখীদের অভাব হচ্ছে না। তারা নিজেদের আখের গোছানোর নামে যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে। একারণে দলের ভাবমুর্তি কোথায় গিয়ে দাড়াচ্ছে তা দলের বর্তমান কান্ডারীরা দেখেও দেখছে না। অথচ এসব অপকর্মের অর্থ যোগান দিতে গিয়ে উঠতি বয়সের যুব সমাজ চুরি-চামারীসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে।
সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে এ নিয়ে ঝড় উঠে। এ বিষয়ে কমেন্টসে মিজানুর রহমান খান লিখেন-এদের অত্যাচারে আর যেন বাচতে মন চায় না,সারা দিন লটারির মাইকের আওয়াজ রাতে গান এ যেন এক নির্যাতন,এর একটা সমাধান চাই??? আলোর পথের যাত্রি আইডি থেকে লিখেন- বদর খালীর লোকদের প্রধান আয়ের উৎস গান আর নৃত্য,, এখম তো চেয়ারম্যান বলিখেলা বন্ধকরে দিছি তো তাই আর কোন উপায় না পেয়ে বিজয় নাম দিয়ে বেহায়াপনা করে আর জুয়ার আসর বসিয়ে অসৎ উপায়ে আয় করছে..... হাসান মালেক আইডিতে মাইকিং এর শ্লোগান লিখেছেন এভাবে-জাতীর জনক বঙ্গবন্ধূ শেখ মজিবুর রহমান বাংলাদেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন,,,,,তাই বদরখালীর আওয়ামী নেতৃবৃন্দ বদরখালীকে বিজয় মেলা নাম দিয়ে জুয়া খেলা চালিয়ে নতুন করে বিজয় দিবস উৎজাপন করতেছে,,,,,,,বিশ দিন ব্যাপি বিজয় মেলা,,,,,,,,আসুন লটারী নিয়ে জিতে নিন,,,এই বিজয়ের মাসে টেলিভিশন,,,,হায়রে বদরখালী এই লজ্জা বদরখালী বাসী রাখবে কোথায়,,, হে আল¬াহ এদেরকে হেদায়েত করুন। হাফিজ মোহাম্মদ ইউসুপ লিখেন-বিজয় মেলার নামে বেশ্যা মেলা চলতেছে,সাংবাদিক আপনি একটু সাবধানে চলা ফেরা করবেন বিপদ আসতে পারে। তাছাড়া অনেকে অনেক মন্তব্য যাহা মেলার নামে কি চলতেছে তাহার ইঙ্গিত বহন করে।
এলাকার সচেতন মহল বলেন, বদরখালীতে দুটি পুলিশ ফাঁড়ী থাকতে কি ভাবে উলঙ্গপনা চলে তা ভাবতে কষ্ট হয়। অনেকে বদরখালী পুলিশ ফাঁড়ীর আইসি এসআই অরুন ও জড়িত আছে বলে অভিযোগ করেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বদরখালী যুবলীগের সভাপতি ইউনুছ বাঙ্গালী বলেন, ভাই ব্যানারে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা লিখা আছে , তাই কোন মন্তব্য করতে রাজী নই । আমি এর সাথে জড়িত নয়।
বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আলী বলেন , আমি বাইরে ছিলাম , কি হচ্ছে জানিনা। খারাপ কিছু শুনিনাই।
প্রবীন জননেতা মোঃ জোবায়ের বিএসসি বলেন , আমি অসুস্থ তাই কিছু জানিনা, বলতে পারবোনা।
বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান বলেন, কি বলবো? বিজয়মেলার নামে বেহায়াপনার ঢল। উদ্বোধনের দিন উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে গেলাম। আর কোন দিন স্মৃতিচারন তো হয়ইনি, লটারীর নামে ১০/১৫টি মাইকের মাধ্যমে কুপন বিক্রির শব্দে থাকাও কষ্টকর।
বদরখালী পুলিশ ফাঁড়ীর আইসি এসআই অরুন কে বার বার তার মোবাইল ফোন ০১৯১৭২৬০২৪২তে ফোন করলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বখতিয়ার আলম দৈনিক কক্সবাজার ৭১ কে বলেন, তিনি গত ৩০ ডিসেম্বর মেলায় গিয়ে জুয়ার আসর ও অশালীন নাচগান বন্ধ করে দিয়েছেন। এখনই ফোর্স পাঠাচ্ছি আবার। যে কোন অনৈতিক কাজ পুলিশ সমাজে হতে দেবনা।

No comments:
Post a Comment