
বাংলাদেশের
বিদ্যুৎ খাতে বড় আকারের প্রকল্প নিচ্ছে ভারতের রিল্যায়েন্স গ্রুপ। এর অংশ
হিসেবে নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট এলাকায় স্থাপন করা হবে ৭৫০ মেগাওয়াটের একটি
বিদ্যুৎ কেন্দ্র। আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) মাধ্যমে এ
কেন্দ্রটি পরিচালনা করা হবে। এ লক্ষ্যে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় স্থাপন করা
হবে একটি এলএনজি টার্মিনাল। বিশাল এ কর্মযজ্ঞে প্রায় শত কোটি ডলার ব্যয়
হবে। এ প্রকল্পে ঋণ ও গ্যারান্টি বাবদ ৫৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার দেবে এশীয়
উন্নয়ন ব্যাংক থেকে (এডিবি)। এডিবির বোর্ড সভায় ইতিমধ্যেই ঋণের প্রস্তাব
অনুমোদন পেয়েছে। মঙ্গলবার এডিবির ঢাকা আবাসিক মিশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ
বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এডিবির বেসরকারি খাত
পরিচালন বিভাগের মহাপরিচালক মাইকেল ব্যরো বলেন, এডিবির অংশীদারিত্বে
রিলায়েন্সের এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়ন সম্ভব
হবে। রিলায়েন্সকে সরাসরি অর্থায়ন এবং গ্যারান্টি প্রদানের মাধ্যমে
বাংলাদেশে অন্য বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে আসছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশটিতে
প্রাকৃতিক গ্যাসে একক নির্ভরতা পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলছে। বাড়তি চাহিদার
কারণে গ্যাসের মজুদে চাপও বাড়ছে। এ অবস্থায় বিদ্যুতের উৎসের বৈচিত্র্য
বাড়ানো প্রয়োজন। এলএনজি আমদানি দেশটির গ্যাসনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকে
থাকতে সহায়তা করবে। তা ছাড়া এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশ্ববাজারে
বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে বলেও আশা করছে এডিবি। এডিবি জানিয়েছে,
বাংলাদেশে এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে প্রাথমিকভাবে মেঘনাঘাটে
৭৫০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটিতে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। বাংলাদেশে নিজেদের
বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা পর্যায়ক্রমে ৩ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার
পরিকল্পনা রয়েছে রিলায়েন্সের। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি
চুক্তির আওতায় এসব কেন্দ্র থেকে উৎপাদন করা বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করা
হবে। রিলায়েন্স পাওয়ারের সিইও ভেনুগোপাল রাও বলেন, বাংলাদেশে প্রস্তাবিত
ব্যক্তি খাতের প্রকল্পে এডিবির ঋণ ও গ্যারান্টি রিলায়েন্সের জন্য একটি
গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় এ প্রকল্পটি একটি
গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
No comments:
Post a Comment