
মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্যায়ভাবে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী
হিসেবে ঘোষণার পর মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে যে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়,
তা নিতান্তই নাজুক প্রতিক্রিয়া ছিল। জেরুজালেম নিয়ে মার্কিন ঘোষণার পর
চলতি সপ্তাহে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কান্ট্রিজ বা
ওআইসির একটি সম্মেলন বসে। তবে এখানে যে নেতাগুলো অংশ নিয়েছেন তারা সবাই
ক্লান্ত-শ্রান্ত বৃদ্ধ মানুষ। বহু বছর ধরে আমরা তাদের কথা শুনে আসছি। এদের
মধ্যে ফিলিস্তিনের বয়োবৃদ্ধ প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের চেয়ে আর কেউই এতটা
বিষণœ ছিলেন না। ওআইসির এ সম্মেলনে ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানের
অংশ নেয়ার কথা ছিল। তবে এর মধ্যে কয়েকজন সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেননি। যারা
উপস্থিত ছিলেন তাদের কেউ কেউ এমনিতেই খুবই বৃদ্ধ ও জরাজীর্ণ। উদাহরণস্বরূপ
আলজেরিয়ার বুতেফ্লিকা। অন্যদিকে কেউ ইয়েমেনের ওপর বোমাবর্ষণ করছেন বা অন্য
আরব রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কটূক্তিতে ব্যস্ত রয়েছেন। তারা পূর্ব জেরুজালেমকে
ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা করে তা মেনে নিতে ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের’
প্রতি দাবি জানিয়েছেন। তারা এমন একটি রাষ্ট্রের রাজধানী ঘোষণা করেছেন, যার
কোনো অস্তিত্বই নেই এবং সেটা কখনও হবেও বলে মনে হয় না। যে সংস্থাটি
ইতিমধ্যে দু-দু’বার নিজের নাম পরিবর্তন করেছে, এমন একটি সংস্থার পক্ষ থেকে
কেবল হাততালিই সার। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জনগণের জন্য আশা বলি, উদ্যোগ বলি,
ন্যায়বিচার বলি দেয়ার মতো সংস্থাটির কিছুই নেই। বিশ্বমঞ্চে ওআইসি এখন আর বড়
কোনো শক্তি নয়। সংস্থাটির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মুসলিম নেতাদের কারোরই আর
মেয়াদ নেই। তারা কতিপয় ব্যর্থ রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন। ইস্তাম্বুল
সম্মেলনে তাদের উপস্থিতির জন্য তাদের না ছিল কোনো নৈতিকতা, না ছিল কোনো সৎ
সাহস। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার কারণে এই ভদ্রলোকগুলোর কেউ
কেউ ভেবেছিলেন, জাতিসংঘ সম্ভবত এ অঞ্চলের নতুন মধ্যস্থতা হতে পারে।
জেরুজালেম ও পশ্চিম তীর এবং অন্যান্য বহু জায়গায় জাতিসংঘ নামের এই প্রাচীন
গাধার বাগাড়ম্বরই সার। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটেও সংস্থাটি তার নিজের
গতিতেই চলবে।
কাউকে তোয়াক্কা না করেই জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা
করেছে আমেরিকা। আমেরিকা শুধু তখনই উদ্বিগ্ন হবে, ওআইসির সম্মেলনে অংশ নেয়া
বৃদ্ধ মানুষগুলো যখন প্রকৃত সাহসী হয়ে উঠবেন। আর মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি
প্রক্রিয়া থেকে আমেরিকা নিজেই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে আমার মনে হয়
না হোয়াইট হাউস যদি ফোন করে, তাহলে মাহমুদ আব্বাস ফোন না ধরে রেখে দেবেন।
তবে ওআইসির নেতারা হয়তো আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক করার কথা বিবেচনা
করবেন কিংবা সম্পর্ক ছিন্ন করবেন। এক সময় তারা একবার এটা করেছে। তবে এবার
সেটা আর ঘটছে না। কেননা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র সৌদি আরব
মার্কিনিদের বয়কট করছে না। তারা বয়কট করছে প্রতিবেশী দেশ কাতারকে।
অন্যদিকে ইরান দেখার অপেক্ষায় রয়েছে লেবানন নিয়ে সৌদি আরব কোনো অনর্থ করে
কিনা। লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন নিজেই তার দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র,
নীরবতা ও জাতিগত নিধনের বিপদ সম্পর্কে কথা বলেছেন। তিনি কোনো দার্শনিক নন।
সেনাবাহিনীর সাবেক এক জেনারেল তিনি। কিন্তু বিষয়টি ঠিক ধরতে পেরেছেন। এদিকে
জেরুজালেম ইস্যুতে মাহমুদ আব্বাস যদি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক
আদালতে চ্যালেঞ্জ করতেন তাহলে তা বিচক্ষণের মতো কাজ হতো। কিন্তু
ফিলিস্তিনের এই নেতা এতই অনুৎসাহী ও দুর্নীতিপরায়ণ যে, এমন পদক্ষেপের কথা
স্বপ্নেও ভাবেন না তিনি। আর সমস্যাটা এখানেই। কারও বিপরীতে যদি ট্রাম্পের
মতো একজন দাম্ভিক প্রেসিডেন্ট থাকে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের সুরক্ষার
জন্য তার দরকার অন্তঃপ্রাণ কিছু যুবক, আন্তর্জাতিক আইনজীবী, মধ্যস্থতাকারী ও
অভিজ্ঞ কূটনীতিক।
No comments:
Post a Comment