Saturday, December 23, 2017

পাবনায় লক্ষ্যমাত্রার ১০ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে পেঁয়াজ আবাদ

চলতি রবি মওসুমে পাবনায় পেঁয়াজ ও রসুন আবাদের লক্ষ্যমাত্রার ধরা হয়েছিল ৪৯ হাজার হেক্টরে। তবে লক্ষমাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ বেশী হয়েছে। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তা হলে এবার পেঁয়াজ ও রসুনের আশাতীত ফলন হবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার কৃষি শ্রমিকের মজুরি বেশি। পেঁয়াজ-রসুন রোপনের জন্য প্রতিটি শ্রমিকের দিন হাজিরা গড়ে ৪৫০ টাকা। তবে বাজারে রাসায়নিক সার এবং কম্পোস্ট সারের জোগান রয়েছে ভাল। পাবনা কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতর (খামার বাড়ী) সূত্রে জানা যায়, পাবনার সুজানগর উপজেলায় ২০ হাজার হেক্টরে দুই লাখ ৮৪ হাজার টন, সাঁথিয়ায় ১১ হাজার হেক্টরে এক লাখ ৫৪ হাজার টন, পাবনা সদরে পাঁচ হাজার হেক্টরে ৭০ হাজার টন, ঈশ্বরদীতে এক হাজার ৫০০ হেক্টরে ২১ হাজার টন, বেড়ায় দুই হাজার হেক্টরে ২৮ হাজার টন, ফরিদপুরে এক হাজার হেক্টরে সাড়ে ১৪ হাজার টন, চাটমোহরে এক হাজার ৫০০ হেক্টরে সাড়ে ২১ হাজার টন, ভাঙ্গুড়ায় এক হ্াজার হেক্টরে ১৪ হাজার টন ও আটঘড়িয়ায় এক হাজার হেক্টর জমিতে ১৪ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। জেলার সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয় সুজানগর উপজেলায়। এ ছাড়া ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে রসুন আবাদ হয়েছে। চলতি রবি মওসুমে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধান করা হয়েছে ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে চার লাখ ৭৬ হাজার টন। এবার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ হাজার হেক্টরের বেশী জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। অর্থাৎ ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক লাখ ৪০ হাজার টন বেশী পেঁয়াজ উৎপাদন হবে। গত বছর শিলাবৃষ্টিতে পেঁয়াজের উৎপাদন কম বাজারে পিঁয়াজের দাম বেশী হয়েছে। অর্থৎ পিঁয়াজ দাম পাঁচগুন হয়ে যায়। দাম বেশি হওয়ায় কৃষকেরা তাই ঝুঁকেছে পেঁয়াজ আবাদে। এবার পেঁয়াজ এর দানা (বীজ) বিক্রি হয় বেশি দামে। গত বছর প্রতি কেজি বীজ বিক্রি হয়েছিল এক হাজার ৫০০ টাকা দরে। এবার বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি চার হাজার থেকে চার হাজার ৫০০ টাকা দরে। রসুন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য হয়েছে এক লাখ ৮০ হাজার টন। গত বছর মওসুমের শুরু থেকেই রসুনের বাজার ছিল চড়া। এবার কৃষকেরা রসুন চাষের জন্য আশ্বিন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই জমি প্রস্তুত রাখে। চলনবিল এলাকার কৃষকেরা বন্যার পানি নামার পরপরই বিনা চাষে রসুন রোপন করে থাকে। জেলায় সবচেয়ে বেশি রসুন আবাদ হয়ে থাকে চাটমোহরে। প্রতি হেক্টরে পেঁয়াজ উৎপাদন গড় হিসাব ধরা হয়েছে ১৪ টন এবং রসুন উৎপাদন মাত্রা ১২ টন। পাবনার কৃষকরা পেঁয়াজ ও রসুনের জমিতে সেচ দেয়া শুরু করেছে। কোথায়ও ৩টি আবার কোন কোন এলাকায় ৪টি সেচ দেয়া হয়। গত ৬-৭ বছর ধরে পাবনার কৃষকেরা পেঁয়াজ ও রসুনের জমিতে সেচ দেয়া শুরু করেছে। এই অঞ্চলের কৃষকেরা পিয়াজ ও রসুনের জমিতে রাসায়নিক সারের পাশাপাশি কম্পোস্ট সার ব্যবহার করছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এ ব্যাপারে কৃষকদের উৎসাহ দিচ্ছে। ট্রিপল সুপার ফসফেট (টি.এস.পি), মিউরেট অব পটাশ (এমপি) এবং ইউরিয়া সারের দাম কমায় কৃষকেরা পরিমাণ মত সার প্রয়োগ করতে পারছে। দেশে সর্বাধিক পেঁয়াজ উৎপাদন হয় পাবনা জেলায়। পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভূতি ভূষণ সরকার জানান, এবার পিঁয়াজ বীজ এর দাম বেশি ছিল এবং বীজের মানও ভাল ছিল। সুজানগর উপজেলার মানিকহাট, উলাট, বামনদি, চরদুলাই,
বনকোলা এলাকার কৃষকরা জানান, এবার পেঁয়াজ বীজে ভাল চারা হয়েছে। বিস্তীর্ন গাজনা বিল এলাকা এবং সাঁথিয়ার ঘুঘুদহ বিল এলাকার গৌরিগ্রাম, বিষ্ণুপুর, ক্ষেতুপাড়া, চরপাড়া, রঘুরামপুর, মাছগ্রামের কৃষকেরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জমিতে চারা রোপন করছে। ক্ষেত মজুরদের দারুণ চাহিদা। প্রতিদিন একজন ক্ষেত মুজুরকে দিতে হচ্ছে নগদ ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। এছাড়া এক বেলা খাবার দিতে হচ্ছে। চর দুলাই গ্রামের আদর্শ কৃষক মোত্তালিব মিয়া জানান, প্রতি বিঘা জামিতে পেঁয়াজ বীজ রোপনে শ্রমিক প্রয়োজন হয় ২০ জন। এই ২০ জন শ্রমিকের শ্রম মূল্য ও খাবার বাবাদ খরচ হয় ১০ হাজার টাকা থেকে ১১ হাজার টাকা। রাসায়নিক সার ও কম্পোস্ট সার এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা এবং সেচ খরচ লাগবে, ৫০০ টাকা। নিড়ানী খরচ লাগবে দুই হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া উত্তোলন ও পরিবহন খরচ যোগ হলে প্রতি বিঘায় খরচ হয় প্রায় ১৩ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় পেঁয়াজ উৎপাদন হয় গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ মন। মৌসুমের শুরুতে প্রতিমন পেয়াজ কৃষককে বিক্রি করতে হয় এক হাজার টাকা মন দরে। অর্থাৎ কৃষক পায় ৪৮ থেকে ৫০ হাজার টাকা। মধ্যসত্ত্বভোগী ফরিয়ারা মূলতঃ পেঁয়াজের লভ্যাংশ হাতিয়ে নেয়। পাবনায় আবাদ হচ্ছে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ ৮০ হাজার টন। চলনবিল এলাকায় বিনাচাষে রসুন আবাদ হয়ে থাকে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই রসুন বীজ রোপন করে দেয়া হয়। মাটিতে জো থাকলে দ্রুত চারা গজায়। পেঁয়াজের শিকড় পঁচা ও লেদা পোকার কবল থেকে রক্ষা পেতে কৃষকরা নিম তেল ও ভেষজ ওষুধ ব্যবহার করতে শুরু করেছে।

No comments:

Post a Comment