
অর্থমন্ত্রী
আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘দুর্নীতি নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত। দুর্নীতি
নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা খুব জোরেশোরে চলে। দুর্নীতি বন্ধে দুদক, আদালত
বানানো হয়েছে। কিন্তু তাতে খুব একটা ফল পাওয়া যাচ্ছে, তা বলা যেতে পারে
না।’ আজ শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক
সম্মেলন কেন্দ্রে প্রবাসী বাংলাদেশি দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্কলার্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশি দিবস পালন
উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অর্থমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি বন্ধে
তথ্যপ্রযুক্তির (আইসিটি) চেয়ে বড় হাতিয়ার আর নেই। সরকারের পেমেন্ট-রিসিভ
সিস্টেমে ব্যাপকভাবে আইসিটি ব্যবহার হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী এ সময় দুর্নীতি
বন্ধে আইসিটির গুরুত্ব বোঝাতে সিলেটের মদন মোহন কলেজের একটি অভিজ্ঞতা তুলে
ধরেন। মুহিত বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও মদন মোহন কলেজের টাকাপয়সার খুব অভাব
থাকত। সবচেয়ে বেশি যে আয় হতো ছাত্র ভর্তি করে, সেখান থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষ
সামান্য টাকা পেত। কারণ, বেশির ভাগ টাকা বড় ভাইয়েরা নিয়ে যেত। একজন ছাত্র
ভর্তিতে ১০০ টাকা খরচ হয়েছে, তার ২০ টাকা কলেজ পেত আর ৮০ টাকা বড় ভাইয়েরা
নিয়ে যেত।
সেই কলেজের আয় ছিল ৮ লাখ টাকা। ভর্তি অনলাইন করায় কলেজের আয় বেড়ে
৮০ লাখ টাকা হয়ে গেছে।’ দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং দেশের উন্নয়নে
প্রবাসী বাংলাদেশিরা কাজ করছেন। তাঁদের এই অবদানের স্বীকৃতি দিতে
প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশি দিবস পালন করা হচ্ছে। প্রবাসী
বাংলাদেশিদের অবদান বিবেচনায় সরকারের প্রতি দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করার
দাবি জানিয়েছে আয়োজকেরা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই অতিথিরা প্রবাসী দিবসের লোগো
উন্মোচন করেন। লোগোর নকশা করেছেন শিল্পী হাশেম খান। প্রবাসী দিবসের থিম
সংয়ের সঙ্গে নাচের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। স্কলার্স বাংলাদেশ
ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট এম ই চৌধুরী শামীম বলেন, দক্ষিণ
এশিয়ার অনেক দেশেই রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রবাসী দিবস পালন করা হয়। বছরের এই সময়ে
বড় দিন ও ইংরেজি নববর্ষের ছুটি থাকায় প্রবাসীদের দেশে আসতে সুবিধা হয়, তাই
৩০ ডিসেম্বর প্রবাসী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্কলার্স বাংলাদেশ
ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী দিলারা আফরোজ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও
বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা
কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ, ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার
অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট এনাম আলী, স্কলার্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের
উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এ কে আবদুল মোমেন, স্কলার্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের
উপদেষ্টা নুরুন্নবী।
No comments:
Post a Comment