নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
একাদশ সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে দিন দিন সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘুম হারাম হয়ে উঠছে। শুরু হয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সাথে সম্ভাব্য প্রার্থীদের যোগাযোগ। জানা যায়, আওয়ামীলীগের তৃণমূল থেকে যে সব মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অনাস্থ আনা হচ্ছে, তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন না বলে জানা গেছে। মুঠোফোনে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়ার বলেন, মনোনয়ন বোর্ড গঠন হয়নি তাই এখনো পর্যন্ত মনোনয়ন বোর্ড কাউকে মনোনয়ন দেয়নি। কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে এখন পর্যন্ত ছয়জন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন। তারা হলেন, বর্তমান সাংসদ আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক প্রকৌশলী ইসমত আরা ইসমু, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড.সিরাজুল মোস্তফা, সাবেক মহাজোট প্রার্থী পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. আনচারুল করিম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ওসমান গণি, মহেশখালী সাবেক পৌর মেয়র সরওয়ার আজম। তবে ছয়জনই মনোনয়ন পেতে দলীয় হাইকমান্ড পর্যন্ত লবিং চালাচ্ছেন। এদিকে মহেশখালী-কুতুবদিয়া নির্বাচনী এলাকায় সফর করে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে আলোচনায় চলে আসেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির সাবেক-সহ সম্পাদক প্রকৌশলী ইসমত আরা ইসমু। ইসমু মাঠে চলে আসায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ওসমান গণিসহ মনোনয়ন প্রত্যাশি অনেকে পিছে পড়ে গেছে বলে এমন কথার চউর হচ্ছে মহেশখালী-কুতুবদিয়া নির্বাচনী এলাকায়। তিনি প্রকাশ্য মাঠে চলে আসায় এখন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি অনেকে তাকে বড় ফ্যাক্টর মনে করছেন বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিকবোদ্ধরা।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালী কুতুবদিয়া-২ আসনে আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক এমপি হওয়ার পর থেকে এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের বাইরে একটি নিজস্ব বলয় সৃষ্টির অভিযোগ আছে। বর্তমানে দুই উপজেলায় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠন গুলোতে গ্রুপিং চরমে। বর্তমান আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ওসমানের শ্বশুরবাড়ী লোকজন বর্তমান মহেশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন ইব্রাহিম ও তার ভাইফো কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক শরীফ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাধারণ মানুষের অবৈধ চিংড়ি ঘের দখল, এলাকায় আধিফত্য বিস্তার, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ও সন্ত্রাসীদের লালন পালন করায় মূলত এমপি আশেক উল্লাহ রফিক প্রতিবাদ করে বাধা হয়ে দাঁড়ালে তাদের মধ্যে শুরু হয় গ্রুপিং। দলের বিভিন্ন কমসূচিতে চলে পাল্টা-পাল্টি সমাবেশ। গ্রুপিং কখনোও সংর্ঘের রূপ নেয়নি। তবে আশ্চর্য জনক হলেও সত্য যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখে গেছে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ওসমান গণি ও তার চাচা শ্বশুর উপজেলা চেয়ারম্যান হোছাইন ইব্রাহিম। আসলে কে মনোনয়ন চাচ্ছেন বিষয়টি এখনও পর্যন্ত স্পর্ট না হওয়ায় তৃণমূল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আবার অনেকে মনে করছেন এক পরিবারের দুই জন মনোনয়ন চেয়ে কারোও মিশন বাস্তবায়নের জন্য নাটকীয়তার আশ্রয় নিচ্ছেন তো! মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে গোয়ান্দা রিপোর্ট ও দলীয় গোয়েন্দা সূত্রে এগিয়ে আছেন ইসমত আরা ইসমু । মনোনয়ন প্রত্যাশি ৬ জনের মধ্যে ৫ জনের বিরুদ্ধে পাহাড় সমান বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ার সত্বেও কোন বিতর্কিত কর্মকান্ডে ইসমত আরা ইসমুর নাম না থাকায় ক্লিন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এ আসনটিতে এবারের জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ও কেন্দ্রে নিজের অবস্থান দৃঢ করতে পেরেছেন। তবে মহেশখালীর মধ্যে উত্তর প্রান্তে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়া ও সর্বস্তরের মানুষের তার বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে বলে জনশ্রুতি আছে। অপরদিকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ইসমত আরা ইসমু ১/১১ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার রাজ পথে সকল আন্দোলন সংগ্রামে লড়াকু সৈনিকের ভূমিকা পালন করেনছেন। তিনি আওয়ামীলীগের শীর্ষ কয়েকজন মন্ত্রীর খুব আস্থাভাজন হিসাবে পরিচিত। ঢাকা’র স্থায়ী হিসেবে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সাক্ষাত পায়। তৃণমুলে জনপ্রিয়তা ধরে রেখে তিনি সরাসরি দলীয় প্রধানের কাছে মনোনয়নের জন্য জোর লবিং করছে বলে শোনা গেছে। মাঠ পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড ও বিচক্ষণ চৌকস নেতারা গোপনীয়তা রক্ষা করে যদি নির্বাচনী মাঠে জরিপ চালায় এবং জরিফে যদি দুর্নীতি স্বজনপ্রীতি বিহীন ক্লিন হিসেবে ইসমুর নাম উঠে আসে তাকেই নৌকার মাঝি মনোনিত করা হোক বলে তার কর্মী সমর্থকদের দাবী। অন্য সব প্রার্থীর চেয়ে বিভিন্ন গোয়ান্দা রিপোটেও ইসমু ও বর্তমান সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিকের ব্যাপারে ইতিবাচক ধারনা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অর্ধডজন প্রার্থী কেন্দ্রে লবিং জোরদার করলে ইসমত আরা ইসমুর কৌশলে আ´মিক দৌঁড়ে গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে অন্য প্রার্থীরা। আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের দৃষ্টিতে অন্য সব মনোনয়ন প্রত্যাশির চেয়ে তৃণমূলে ও কেন্দ্রে এগিয়ে থেকে প্রকৌশলী ইসমত আরা ইসমুর পক্ষে অনেকটা হৈ- চৈ শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ও তার নির্বাচনী এলাকায়। অনেকে তাকে নিয়ে হিসাব কষছেন। তবে অনেকে মনে করছেন সবাইকে পিছনে রেখে শেষ মেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে দ্বি-মূখী মর্যাদার লড়াই অবর্তীন হবে বর্তমান সাংসদ আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক ও কেন্দ্রীয় নেতা প্রকৌশলী ইসমত আরা ইসমু’র মধ্যে। রাজনৈতিকবোদ্ধরা মনে করছেন, ইসমুর সাথে আওয়ামী লীগের কয়েকজন মন্ত্রীদের সাথে ‘শক্ত লিঙ্ক’ থাকায় তিনি নৌকার মাঝি নির্বাচিত হবেন এমন কথার উদয় হচ্ছে তাঁর নির্বাচনী এলাকায়। তবে দেখা যাক কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের নৌকার মাঝি?। ###

No comments:
Post a Comment