Tuesday, December 26, 2017

আতিক-তাবিথ ভোটের মাঠে

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপনির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এক্ষেত্রে প্রার্থী বাছাইয়ে দেয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এমন প্রার্থীকেই দলীয় মনোনয়ন দেয়ার কথা ভাবছেন উভয় দলের নেতারা। প্রার্থী হিসেবে অনেকের নাম আলোচনায় থাকলেও আ’লীগ ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলাম ও বিএনপিতে তাবিথই এগিয়ে রয়েছেন। দলের হাইকমান্ড থেকে তাদের দু’জনকে সবুজ সংকেতও দেয়া হয়েছে। সবুজ সংকেত পেয়েই নির্বাচনের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন তারা। তাবিথ গতবার নির্বাচন করলেও আতিক এবার নতুন প্রার্থী। ব্যবসায়ী মহলে তার যথেষ্ট পরিচিত আছে। এখন সাধারণ ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ শুরু করেছেন তিনি। ইতিমধ্যে তেজগাঁও ও ফার্মগেট এলাকায় তার ছবি দিয়ে ব্যানার টাঙানো হয়েছে। এসব ব্যানার-পোস্টারে তাকে শাসক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার জন্য নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে। অপরদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তাবিথও নির্বাচনী কাজ শুরু করেছেন। নগরবাসীকে নতুন স্বপ্ন দেখানোর লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরিতে হাত দিয়েছেন। জানতে চাইলে পোশাক ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজেএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ঘোষণা অনেক বাকি। তফসিল হবে, দলীয় ফোরামে আলোচনা হবে, তারপর। ইতিমধ্যে গণসংযোগ করার ইঙ্গিত পেয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, উত্তরের আটটি আসনের চারজন সংসদের সঙ্গে ইতিমধ্যে দেখা করেছি। যদি দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় এবং জনগণ আমাকে নির্বাচিত করেন তবে প্রয়াত মেয়র আনিস ভাইয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করা হবে আমার প্রথম কাজ।
এছাড়া কিভাবে সবাই ঢাকায় শান্তিতে বসবাস করা যায়, মানুষের নিরাপত্তা বাড়ানো যায়, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি করা যায়, যানজট থেকে মুক্তি পাওয়া যায়- এসব নিয়ে আমার নিজস্ব পরিকল্পনা আছে, আস্তে আস্তে সেগুলো বাস্তবায়ন করব। জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের গত নির্বাচনে দলের প্রধান সমন্বয়কারী ও প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক খান যুগান্তরকে বলেন, আমরা প্রার্থিতার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে আলোচনা করেছি। এটা নিয়ে একটা জরিপও হচ্ছে। তফসিল ঘোষণা হলে মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আইনগত যে জটিলতার কথা বলা হচ্ছে সেটা থাকলে থাকবে, না থাকলে নেই কিন্তু দল তো বসে থাকবে না। দল প্রার্থী ঘোষণা করবে এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিও নেবে। আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়,গত সপ্তাহে আতিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। তখনই তাকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য যুগান্তরকে বলেন, সে দিনের প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে আতিককে নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে, তিনিই আমাদের সম্ভাব্য প্রার্থী। ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে দলের ভেতর থেকে আগ্রহী অনেকে। এরা হলেন- সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, ঢাকা উত্তরের সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, সাবেক সংসদ সদস্য ও চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী, ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ও সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার প্রমুখ। এর বাইরে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আতিকুল ইসলাম এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি একে আজাদ, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডা. এইচবি ইকবাল প্রমুখ। এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপনির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। বড় কোনো কিছু না ঘটলে বিএনপি তাকেই মনোনয়ন দেবে। ইতিমধ্যে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাকে সবুজ সংকেতও দিয়েছেন। সিনিয়র কয়েক নেতা ও জোটের শীর্ষ এক নেতা সম্প্রতি তার সঙ্গে দেখা করে প্রার্র্থী বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের প্রার্থী ঠিক আছে। সময় হলেই জানা যাবে। বিএনপির সিনিয়র কয়েক নেতা যুগান্তরকে জানান, চেয়ারপারসনের মনোভাব দেখে বোঝা যাচ্ছে তাবিথকেই তিনি প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করে রেখেছেন। তার এমন মনোভাবের কারণে সম্ভাব্য অন্যান্য প্রার্থী মনোনয়ন পেতে ততটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। মনোনয়ন পাচ্ছেন এমনটা ধরে নিয়েই আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন তাবিথ আউয়াল। নির্বাচনী কৌশল নিয়ে অনেকের পরামর্শ নিচ্ছেন। ইশতেহার তৈরির কাজে হাত দিয়েছেন। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি ইশতেহার নগরবাসীর সামনে তুলে ধরতে চান তিনি। এ লক্ষ্যে তার কাছের কয়েকজনকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন।
দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিগত সময়ের নির্বাচনে প্রার্থীদের ইশতেহারগুলো পর্যালোচনা করছেন। ঢাকার পাশাপাশি উন্নত দেশের মেয়রদের দেয়া ইশতেহারগুলোও সংগ্রহ করছেন। সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো আগামী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করতে চান তিনি। তাবিথের ইশতেহার তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন হবে কিনা এ নিয়ে নানা মহলে সংশয় থাকলেও আমাদের প্রস্তুতি পিছিয়ে নেই। নির্বাচনের আগে আনুষঙ্গিক কাজগুলো শেষ করার চেষ্টা চলছে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ইশতেহার তৈরির দিকে। ঢাকাবাসীকে নতুন স্বপ্ন দেখানোর মতো ইশতেহার ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে। ওই নেতা আরও বলেন, বিএনপির হাইকমান্ড ছাড়াও দেশের বিশিষ্টজন, নগর পরিকল্পনাবিদসহ সংশ্লিষ্টদের মতামত নেয়া হচ্ছে। তাবিথ আউয়াল বর্তমানে বিদেশে থাকায় এ ব্যাপারে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তার বাবা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু যুগান্তরকে বলেন, প্রার্থী চূড়ান্ত করা নিয়ে এখনও দলে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে এবারও তাবিথকেই মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। তাবিথকে বাদ দেয়ার কোনো কারণ দেখছি না। গত নির্বাচনে নবীন হিসেবে সে খুব ভালো করেছে। দলমত নির্বিশেষে সবার মধ্যে একটা আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। তাই সবদিক বিবেচনা করে এবারও তাবিথকে মনোনয়ন দেয়া হবে বলে আশা করি। সূত্র জানায়, তাবিথ ছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কাজ শুরু করেছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদ। প্রার্থী হতে তিনি নানা মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

No comments:

Post a Comment