নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
সদর উপজেলার ঈদগাঁও বাজারের ভিতর ফেরি ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত জায়গা ফেরিফেরি নামক জায়গাটি এখন জবর দখলের কবলে ! এমন অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ীদে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জনৈক ফখর উদ্দিন কাজল প্রকাশ কাজল মলই নামক এক ব্যক্তি সরকারি মূল্যবান জমি দখলে নিয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন প্রশাসনকে বৃদ্ধাআঙুলি দেখিয়ে সরকারি জমি দখল করার মতো খুটির জোর কোথায় পেল কাজল মলই?
জানা যায়, ঈদগাঁও স্টেশন একটি ব্যস্ততম ও প্রস্থাবিত উপজেলা হিসাবে কক্সবাজার সদরের অন্যতম গুরুত্ব পুর্ণ এলকা। এ বাজারের ভিতর ফেরি ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত একটি খাস জায়গা দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল জবর দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ফখর উদ্দিন কাজল নামের এক প্রভাবশালী প্রবাসী ব্যাক্তি স্থানীয় চেয়ারম্যান সহ কিছু জনপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গত ২৩ ডিসেম্বর রাতের আঁধারে টিন দিয়ে ফেরিফেরি নামক জায়গাটি ঘেরাও করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেন বাজার ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে ব্যবসায়ী সমিতি সহ স্থানীয় সচেতন মহল উদ্বিগ্ন। অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একটি উন্নতমানের আইফোন উৎকোচ দিয়ে মুখ বন্ধ করে রেখেছে বলে ঈদগাঁও বাজার সহ এলাকার লোকজনের মাঝে সে বলে বেড়াচ্ছে বলে ও জানান ব্যবসীরা। এ জন্য তিনি কোন ব্যবস্থা নিবেনা বলে ও মনে করেন ঈদগাঁবাসী।
বাজার এলকার আবু ছৈয়দ বলেন, বাজারের মধ্যে ফেরি ব্যবসায়ীদের মাথায় আঘাত করার মত কাজটি এখন করছে। দিন দিন ব্যবসায়ীসহ সচেতন মহলের মাঝে ক্ষোভ বাড়ছে। তবুও প্রশাসনের দিকে চেয়ে আছে স্থানীয়রা । সাধারন মানুষ যেভাবে ক্ষেপে আছে যে কোন সময় ঘটতে পারে অপ্রীতিকর ঘটনা। এদিকে এ বিষয়টি নিয়ে ঈদগাঁও বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদ ও আজ কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে দখলমুক্ত করার জন্য আজ(২৬ডিসেম্বর) স্মারকলিপি দেবে বলে জানান ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ সিরাজুল হক। এ বিষযে তারা বলেন, ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মিনহাজ মামুন তাদেরকে স্থাপনা নির্মান না করার জন্য বারন করার পরও কর্ণপাত করছেনা। অসহায় ফেরি ব্যবসায়ী সহ সাধারন ব্যবসায়ীরা এ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ী হাসান বলেন, প্রবাসী ব্যাক্তিটির টাকার কাছে বিক্রি হলো জনপ্রতিনিধিরা? বিবেক কি লোব পেলো? তারা কেন এ অনৈতিক কাজে প্রত্যক্ষ ভাবে সহযোগিতা করছে? এখন দেখা যাচ্ছে , যে কোন সময় সংঘর্ষ হতে পারে। এর দায়ভার কে নেবে ? জনপ্রতিনিধিরা নেবে ?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফেরি ব্যবসায়ী বলেন, স্থানিয় পুলিশ মামলার আসামী ও ১ নং ওয়ার্ডের এমইউপি সহ জনপ্রতিনিধিরা আমাদের পেটে লাথি মারবে কেন ? আমরা সামন্য ফেরি ব্যবসা করে আমাদের অভাবের সংসার চালাই। জায়গাটি তারা দখল করে নিলে আমাদের মরা ছাড়া উপায় থাকবেনা।
এ বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত ফখর উদ্দিন কাজল ও চেয়ারম্যান ইমরুল রাশেদ কে বেশ কয়েকবার ফোন দিয়ে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
বাজারের জমি দখল বিষয়ে জানতে চাইলে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মিনহাজ মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি ফেরিফেরি জায়গাটি দখলের বিষয়টি জেনেছি। আইনানুগ ব্যবস্থা নিব। তবে ইউএনও মহোদয়কে জানালে ভাল হয়।
অন্যদিকে আইফোন দেওয়া সহ ঈদগাঁও বাজারের খাস জমি দখল বিষয়ে জানার জন্য কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নোমান হোসেন এর সরকারী নাম্বারে বারবার ফোন করলেও ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) নাজিম উদ্দিন’র সাথে যোগযোগ করা হলে, তিনি ঈদগাঁও বাজারে জমি দখল বিষয়টি জেনেছেন বলে জানান এবং আজ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলেও নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ভুমি) কাজী আব্দুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার কানে আসছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবো এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments:
Post a Comment