
উত্তর
কোরিয়া সীমান্তে শরণার্থী শিবির নির্মাণ করছে চীন। প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে
চীনের ৮৮০ মাইল (১৪১৬ কিলোমিটার) সীমান্ত রয়েছে। দীর্ঘ এই সীমান্ত বরাবর
পাঁচটি শরণার্থী নির্মাণ শুরু করেছে বেইজিং। উত্তর কোরিয়ায় কিম জং উনের
সরকারের পতন হলে সীমান্তে মানুষের ঢল আছড়ে পড়তে পারে। সেই আশঙ্কায়
পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে এসব শরণার্থী শিবির তৈরি করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে
চীনের রাষ্ট্রীয় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান দ্য চায়না মোবাইলের
বরাত দিয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এক প্রতিবেদনে খবরটি প্রথম প্রকাশ করে। খবর
দ্য গার্ডিয়ানের। গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগ ও চীনের অন্যান্য ওয়েবসাইটে
দ্য চায়না মোবাইলের একটি নথি ফাঁস হয়ে যায়। এই নথিতে দেশটির জিলিন প্রদেশের
সীমান্তে পাঁচটি শরণার্থী শিবির নির্মাণের পরিকল্পনার কথা রয়েছে। চীনের
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সোমবার এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে
শরণার্থী শিবিরগুলোর ব্যাপারে নিশ্চিত করে জানাতে অস্বীকার করেন। লু কাং
নামের ওই মুখপাত্র বলেন, ‘এ ধরনের কোনো প্রতিবেদন আমি দেখিনি।’ পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির নথি থেকে শরণার্থী শিবির তৈরির বিষয়টি আগেই সরিয়ে
দেয়া হয়। কেননা বিদেশি সাংবাদিকরা প্রায় এ ধরনের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে
থাকেন। এগুলো দেশটিতে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বা অসুবিধাজনক বিবেচনা করা
হয়। তবে ফাঁস হওয়া নথিতে চায়না মোবাইলের এক কর্মকর্তার নাম এমনকি ফোন
নম্বরও রয়েছে। তিনিই নথিটি ফাঁস করেছিলেন। তবে মঙ্গলবার তার ফোনে যোগাযোগ
করা হলে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। উত্তর কোরিয়ায়
একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বা কিম জং উনের সরকারের পতনের
ব্যাপারে বেইজিংয়ে ক্রমেই উদ্বেগ বাড়ছে, শরণার্থী শিবির নির্মাণের
পরিকল্পনা তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বেইজিংয়ের রেনমিন
বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর কোরিয়া বিশ্লেষক চেং জিয়াওহে বলেন, ‘এই মুহূর্তে
কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা চরমে। একটি সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রান্তে রয়েছে এই
অঞ্চল। একটি বড় শক্তি ও প্রতিবেশী দেশ হিসেবে চীনের সব ধরনের পরিকল্পনা
থাকা উচিত।’
No comments:
Post a Comment