Wednesday, December 13, 2017

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তিতে বৈশ্বিক নজরদারি দরকার: ইইউ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তিটির বাস্তবায়ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চরম সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রত্যাবাসন চুক্তিটি শুভ সূচনা। মঙ্গলবার স্ট্রসবার্গে ইইউ সংসদের প্লেনারি সেশনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিতর্কে ইইউর বিদেশনীতি প্রধান ও সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট ফেডেরিকা মোগেরিনি এ মন্তব্য করেন। চুক্তির প্রশংসা করে তিনি বলেন, বহু বছরের নিষ্ক্রিয়তার পর এটি সঠিক পথে প্রথম পদক্ষেপ। ঘণ্টাখানেক ধরে চলা পূর্ব নির্ধারিত এ বিতর্কে আরও বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য (এমইপি) অংশ নেন। বিতর্ক শেষে বৃহস্পতিবার ইইউ সংসদে একটি প্রস্তাব পাসের সিদ্ধান্ত হয়। বিতর্কে অংশ নিয়ে মোগেরিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সংকটের সমাধানে শুরুর দিক হতে পারে। তবে এতে আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার সংযুক্তি প্রয়োজন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ দূর করতে কাজ করবে ইইউ। মিয়ানমারকে আনান কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়নে চাপ দেয়া হবে।  মোগেরিনি বলেন, মিয়ানমারের দায়িত্ব হচ্ছে রাখাইনের পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো, যাতে রোহিঙ্গারা সেখানে নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে  ফিরে যেতে পারে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বসহ তাদের শিক্ষা, মৌলিক সামাজিক সেবাসহ সব অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ইইউর শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করে যাবে তার সংস্থা। বিতর্কে সুইডেনের এমইপি সুরাইয়া পোস্ট বলেন,  রোহিঙ্গা পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের। রাখাইনে গণহত্যা চলছে। মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যথায় দেশটির ওপর অস্ত্র ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ সব সুবিধা বাতিল করতে হবে। এস্তোনিয়ার সদস্য উরমাস পয়েট বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হতে হবে। মিয়ানমার সরকারকে বলতে হবে তারা কতদিনের মধ্যে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেবে। অন্যথায় মিয়ানমারে ইইউর বিনিয়োগ স্থগিত করতে হবে। ব্রিটেনের এমইপি বশীর আহমেদ বলেন, মিয়ানমারে গণহত্যা চলছে বলে মনে হয়। দেশটির বিরুদ্ধে ইইউকে নেতৃত্ব দিতে হবে। জার্মানির এমইপি ওয়ার্নার লেনয়েন বলেন, মিয়ানমারে আদৌ কোনো গণতন্ত্র নেই, সেখানে সেনাবাহিনীই সব।

No comments:

Post a Comment