
মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবারের মতো নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল
ঘোষণা করেছেন। এতে রাশিয়া ও চীনকে আমেরিকার অর্থনৈতিক কর্তৃত্বের পথে
প্রাথমিক হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ওপর
ভিত্তি করে সোমবার ঘোষিত ট্রাম্পের নতুন এ নিরাপত্তা পরিকল্পনার মাধ্যমে
তার পূর্বসুরিদের কৌশলগুলোকে কটাক্ষ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, আগের
প্রেসিডেন্টদের পররাষ্ট্রনীতিগুলো ‘ব্যর্থ’ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
উত্তর কোরিয়া ও পাকিস্তানের সমালোচনা করেছেন। একই দিন ওয়াশিংটনের রোনাল্ড
রিগ্যান ভবনে ট্রাম্প এক ভাষণে বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় নতুন যুগের মুখোমুখি
হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চীন ও রাশিয়া আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি।’ বিবিসি
জানায়, রাশিয়া ও চীনকে সমালোচনা করলেও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির
প্রচেষ্টার কথাও বলেন ট্রাম্প। উদাহরণ হিসেবে তিনি সিআইএর গোয়েন্দা তথ্য
প্রদানের কারণে রাশিয়ায় সন্ত্রাসী হামলা প্রতিহতের কথা তুলে ধরেন। ট্রাম্প
বলেন, এ ঘটনায় রুশ প্রেসিডেন্ট আমাকে ও সিআইএকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু
ট্রাম্প তার নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনায় রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে কড়া ভাষা
ব্যবহার করেছেন এবং এ দুই দেশকে ‘সংশোধনবাদী শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সমালোচকরা জানান, নতুন পরিকল্পনায় ট্রাম্প ‘চারটি মূলনীতি’ উল্লেখ করেছেন।
কিন্তু সেখানে মানবাধিকার ও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুর উল্লেখ নেই।
মূলনীতিগুলো হল- মার্কিন জনগণ ও জন্মভূমির সুরক্ষা, আমেরিকার সম্মৃদ্ধি
ত্বরান্বিত করা, শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রদর্শন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব
বৃদ্ধি করা। দীর্ঘ ১১ মাস ধরে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা ৬৮ পৃষ্ঠার এ
পরিকল্পনা তৈরি করেন। বলা হচ্ছে, এ পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের পথে পা বাড়িয়েছেন। মাতৃভূমি
রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ ও অভিবাসী
ভিসা পদ্ধতিতে সংস্কারের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে
জয়ের বিষয়ে উল্লেখ করে ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ২০১৬ সালের নির্বাচনে
মার্কিনিরা ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (আমেরিকাকে পুনরায় মহান করুন) নীতিকে
পছন্দ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আগের নেতারা আমেরিকার মূলনীতি থেকে সরে গেছে
এবং আমেরিকার নিয়তির দর্শনকে হারিয়ে ফেলেছে। তিনি বলেন, এক বছরেরও কম সময়
পরে আমি এটা বলে গর্ব প্রকাশ করছি যে, বিশ্ববাসী খবর শুনেছে এবং এর নিদর্শন
দেখেছে। আমেরিকা আবার ফিরছে এবং আমেরিকা পূর্ণাঙ্গ শক্তিরূপে পুনরায়
ফিরছে। ট্রাম্পের নতুন নিরাপত্তা কৌশলে অর্থনীতি, বাণিজ্য, সীমান্ত
নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসী নীতির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ২০১৫ সালে
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জলবায়ু পরিবর্তনকে জাতীয়
নিরাপত্তার হুমকি মনে করলেও ট্রাম্পের নতুন কৌশলপত্রে সেটিকে হুমকি মনে করা
হয়নি। এছাড়া বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত প্যারিস
চুক্তি ও আন্তঃপ্রশান্ত মহাসাগরীয় বাণিজ্য অংশীদার (টিপিপি) চুক্তি থেকে
আমেরিকাকে সরিয়ে নেয়ার কথা জানান তিনি। এগুলোকে তার প্রশাসনের অন্যতম সফলতা
হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়ার অব্যাহত পরমাণু অস্ত্রের
পরীক্ষা ও উগ্র সন্ত্রাসবাদ বন্ধে পাকিস্তানের পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেয়ার
সমালোচনা করেন ট্রাম্প। নতুন ওই কৌশলে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে একটি
সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। আর তা পরমাণু সংঘাতে রূপ
নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াকে জটিল জাতীয়
নিরাপত্তাসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জে থাকা অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে
ট্রাম্পের প্রথম জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। এ কৌশলে
ঘোষণা করা হয়েছে, মার্কিন শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চীন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মঙ্গলবার এর তীব্র সমালোচনা করে চীন বলছে, ওয়াশিংটনের উচিত পুরনো
‘স্নায়ুযুদ্ধকালীন মানসিকতার পরিবর্তন করা।’ চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
নারী মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেন, যে কোনো দেশ বা যে কোনো রিপোর্টে যখন
সত্যকে বিকৃত করা হয় বা কারও ওপর বিদ্বেষপূর্ণভাবে অপবাধ চাপানো হয় তখন তা
ব্যর্থ হয়।
No comments:
Post a Comment