
বেসিক
ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি ও দুর্নীতির মামলায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান
আবদুল হাই বাচ্চুকে আজ জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সকাল ১০টায় দুর্নীতি দমন
কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে তাকে আগেই নোটিশ করা হয়েছে।
তবে বাচ্চু আজ দুদকে হাজির হবেন কিনা এ নিয়ে দুদকের কাছে কোনো তথ্য নেই
বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলেন, বাচ্চু আসবেন বা
আসবেন না এ ধরনের কোনো সংবাদ তিনি (বাচ্চু) কোনো তদন্ত কর্মকর্তাকে
জানাননি। এমনকি না আসতে পারলে কখন আসবেন তার জন্য সময়ের আবেদনও করেননি
তিনি। দুদক কর্মকর্তারা মনে করেন, বাচ্চু তদন্ত মোকাবেলা করবেন। তদন্তের
স্বার্থে দুদকে হাজির হয়ে বেসিক ব্যাংকের ঋণ অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তার
বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের জবাব দেবেন। বাচ্চু যদি হাজির না হন তাহলে আইনি
পদক্ষেপ কী হবে? জানতে চাইলে দুদকের একজন পরিচালক যুগান্তরকে বলেন, আমরা
বিকাল ৫টা পর্যন্ত বাচ্চুর জন্য অপেক্ষা করব। তিনি যদি না আসেন, বড়জোর
আরেকবার নোটিশ দেয়া হবে। আবার দ্বিতীয় দফায় নোটিশ নাও করা হতে পারে। কারণ
তাকে কমিশন থেকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতেই হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে
নোটিশ দেয়া হয়েছিল। বিষয়টি জানার পরও যদি তিনি না আসেন আমরা ধরে নেব তিনি
দুদকে আসতে চাইছেন না। আর এ কারণেই তাকে পুনরায় নোটিশ না দিয়ে তদন্ত শেষ
করা হবে।
এ ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে অন্য পর্ষদ সদস্যরা যে বক্তব্য দিয়েছেন
এবং ঋণ অনুমোদন সংক্রান্ত যে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে তা বিচার বিশ্লেষণ করে
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ১৯ নভেম্বর দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাচ্চুকে নোটিশ দেন। তবে তাকে না পেয়ে তার বাসায় ওই
নোটিশ পৌঁছে দেন তারা। এদিকে রোববার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের আরও দুই
সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। তারা হলেন সাবেক পর্ষদ সদস্য আনোয়ারুল
ইসলাম ও আনিস আহমদ। দুদক কার্যালয়ে এদিন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন পরিচালক
জায়েদ হোসেন খান ও পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের টিম।
জিজ্ঞাসাবাদে এই দুই সদস্য নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে অনিয়ম করে ঋণ
অনুমোদনের তথ্য-প্রমাণ দেখালে তারা ‘চুপ’ হয়ে যান। এই দুই সদস্যসহ ঋণ
অনিয়মের ঘটনায় এ পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদের সাবেক ৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা
হল। অন্য যে সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তারা হলেন- কামরুন নাহার আহমেদ,
অধ্যাপক কাজী আকতার হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন, ফখরুল ইসলাম, একেএম কামরুল
ইসলাম, জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম, শ্যাম সুন্দর শিকদার। দুদকের এই জিজ্ঞাসাবাদ
চলছে ২২ নভেম্বর থেকে। ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক
ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা
ঋণ অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তে নামে দুদক। ঋণপত্র যাচাই
না করে জামানত ছাড়া, জাল দলিলে ভুয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়াসহ
নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিধিবহির্ভূতভাবে ঋণ অনুমোদনের অভিযোগ ওঠে
ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধান শেষে এ অনিয়ম ও
দুর্নীতির ঘটনায় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ১২৯ জনকে আসামি করে ৫৬টি মামলা করে
দুদক। আসামিদের মধ্যে ২৬ জন ব্যাংক কর্মকর্তা এবং বাকিরা ঋণ গ্রহণকারী
প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক জরিপ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত। তবে আসামির তালিকায় বাচ্চু বা
ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের কেউ না থাকায় দুদকের ওই তদন্ত নিয়ে
উচ্চ আদালত থেকে প্রশ্ন ওঠে। চলতি বছর আগস্টে এক মামলার শুনানিতে
সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের
মামলায় বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদকে আসামি না করায় উষ্মা প্রকাশ করেন।
ব্যক্তি যেই হোক না কেন, এ ধরনের মামলায় আসামি করার ক্ষেত্রে ‘পিক অ্যান্ড
চুজ’ যেন না হয় সে বিষয়ে দুদককে সতর্ক করেন আদালত। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দুদক
বেসিক ব্যাংকের পর্ষদের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়। আবদুল হাই
বাচ্চুকে ২০০৯ সালে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০১২
সালে তার নিয়োগ নবায়নও হয়। কিন্তু ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে ২০১৪ সালে
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করার পর চাপের
মুখে থাকা বাচ্চু পদত্যাগ করেন।
No comments:
Post a Comment