
পঞ্চগড়ের
বোদা পৌরসভার ২৮ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. হকিকুল
ইসলামের ভরাডুবি হয়েছে। মূলত বিএনপির দুজন প্রার্থী হওয়ায় আওয়ামী লীগের
প্রার্থী ওয়াহিদুজ্জামান জয়ী হন। এ ছাড়া জনপ্রিয় প্রার্থীকে মনোনয়ন না
দেওয়া ও দলীয় কোন্দলের জেরেই বিএনপির প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে বলে অনেকে
মনে করছেন। এমনকি তিনি জামানত হারিয়েছেন। বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী, সমর্থক ও
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু পৌর নির্বাচন নয়, এর আগের বিভিন্ন
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও বিএনপির ভরাডুবির জন্য দায়ী মূলত বিএনপিই।
বিএনপির অধিকাংশ নেতা-কর্মীর দাবি, পঞ্চগড়-২ আসনভুক্ত বোদা ও দেবীগঞ্জ
উপজেলায় স্থানীয় বিএনপির কান্ডারি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য
ফরহাদ হোসেনের হীনম্মন্যতা, একগুঁয়েমি ও নেতিবাচক রাজনৈতিক বিভিন্ন
কর্মকাণ্ডের কারণে এখানে জনপ্রিয়তা থাকার পরও বিএনপি বারবার বিপর্যয়ের মুখে
পড়ছে। শুধু তাঁর সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার অভাবেই এখানে বিএনপির কোন্দল ঠেকানো
যাচ্ছে না।
আর অবস্থার এতটাই অবনতি হয়েছে যে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা
ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের প্রভাবশালী নেতারা পৌর নির্বাচনে বিএনপির
প্রার্থীর পক্ষে জনসংযোগ ও ভোটপ্রার্থনা করেও কাজ হয়নি। অথচ পঞ্চগড়-২ আসনের
সাবেক সাংসদ ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোজাহার হোসেনের মৃত্যুর পর এই
আসনে ফরহাদের রাস্তা পরিষ্কার হয়ে যায়। অবশ্য মোজাহার ছিলেন সৎ ও জনপ্রিয়
নেতা। তবে মনোনয়ন ও আধিপত্য নিয়েই এখানে মোজাহার ও ফরহাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব
ছিল। কিন্তু মোজাহারের মৃত্যুর পর এখানে বিএনপির মনোনয়ন চাওয়ার মতো দ্বিতীয়
কোনো নেতাও নেই। অথচ ফরহাদ প্রয়াত সাংসদ মোজাহারের সমর্থনপুষ্ট নেতা-কর্মী
বা সমর্থকদের একত্র করতে পারেননি। কোন্দল নিরসনেও তিনি ব্যর্থ। মোজাহারের
অনুপস্থিতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফরহাদ তাঁর স্থানটিও দখলে নিতে পারেননি।
পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ
সম্পাদক মো. আক্তার হোসেন পেয়েছেন ৪ হাজার ১৯৬ ভোট ও বিএনপির মনোনীত
প্রার্থী মো. হকিকুল ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৪ ভোট। এই দুই প্রার্থী মোট
ভোট পেয়েছেন ৫ হাজার ৫১০। আর আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ওয়াহিদুজ্জামান
পেয়েছেন ৫ হাজার ২০৯টি। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী মনে করেন, যদি
বিএনপির কোন্দল না থাকত, একজন প্রার্থী দেওয়া হতো, তাহলে ভোটের ফলাফল
বিএনপির ঘরেই যেত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌর বিএনপির এক নেতা বলেন,
‘কেন্দ্রীয় নেতা ফরহাদের কারণে পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জামানত
হারিয়েছেন।’ বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আক্তার হোসেন বলেন, ‘উপজেলা বিএনপির
৪০ জনের মধ্যে ৩৮ জন ও পৌর বিএনপির ২৭ জনের মধ্যে ২৪ জন আমাকে মনোনয়নের
জন্য মতামত দিয়েছিলেন। আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় এমন ফলাফল হয়েছে। এ জন্য
একজন কেন্দ্রীয় নেতাই দায়ী।’ তবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য
ফরহাদ মুঠোফোনে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তৃণমূলের
মতামতের ওপর ভিত্তি করে দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড দলীয় প্রতীক মনোনয়ন
দিয়েছে। তবে আমি প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা ও সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে প্রতীক
বরাদ্দের কথা বলতে চাইলে আমাদের মহাসচিব (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) আমাকে
এ বিষয়ে মতামত দিতে নিষেধ করেন। পরে তাঁরা যাঁকে যোগ্য মনে করেছেন,
তাঁদেরই ধানের শীষ প্রতীক দিয়েছেন। এতে আমার কোনো হাত বা ভূমিকা ছিল না।’
No comments:
Post a Comment