
যুক্তরাষ্ট্রে
হিটলারের উত্থান হতে পারে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট
বারাক ওবামা। ইকোনমিক ক্লাব অব শিকাগোতে দেয়া এক বক্তৃতায় ১৯৩০-এর দশকে
নাৎসি জার্মানির উত্থানের উল্লেখ করে মার্কিন গণতন্ত্রের দুর্বলতার
ব্যাপারে হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ট্রাম্পের নেতৃত্বে
যুক্তরাষ্ট্রে বর্ধিষ্ণু উগ্র স্বাদেশিকতার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। মঙ্গলবারের ওই বক্তৃতায় এক
প্রশ্নোত্তরপর্বে ওবামা তার শ্রোতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিপদ ক্রমেই বাড়ছে।
গণতন্ত্রের এই বাগানটিকে আমাদেরকে অবশ্যই পরিচর্যা করতে হবে। নইলে সবকিছু
খুব দ্রুতই ভেঙে পড়তে পারে।’ তিনি বলেন, ১৯৩০-এর দশকে জার্মানিতে এমনটাই
ঘটেছিল। তৎকালীন উইমার রিপাবলিকের গণতন্ত্র এবং উচ্চ স্তরের সাংস্কৃতিক ও
বৈজ্ঞানিক অর্জন সত্ত্বেও হিটলারের উত্থান ঘটেছিল। তিনি আরও বলেন, তার
উত্থানের কারণে ৬০ লাখ লোক মারা গিয়েছিল। সুতরাং এ বিষয়ে আপনাদের মনোযোগ
দিতে হবে। ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, এই বক্তৃতায় ওবামা যদিও ট্রাম্পের নাম
উল্লেখ করেননি, তবে অনেকেই মনে করছেন এ মন্তব্য তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও
তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘আমেরিকাকে আবার মহান করে তোলো’
প্রতিপাদ্যকে লক্ষ্য করে করেছেন। অনেকের মতে, ট্রাম্প তার প্রতিপাদ্যের
মাধ্যমে উগ্র জাতীয়তাবাদকে উসকে দিয়েছেন। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিরোধী আবেগে ইন্ধন জোগানোর অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের
নভেম্বরে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ানো কয়েকটি ভিডিও নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে
পোস্ট করেন ট্রাম্প। ব্রিটেনের চরম ডানপন্থী ‘ফার্স্ট’ দলের তিনটি
উসকানিমূলক মুসলিমবিদ্বেষী ভিডিও নতুন করে টুইট করেন তিনি। এ নিয়ে
আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এতে যোগ দেন ব্রিটেনের
প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মেসহ অনেকে। ট্রাম্প ভিডিওগুলো টুইটারে শেয়ার
করার পর তেরেসা এর প্রতিবাদ করেন। তিনি বলেন, মুসলিমবিদ্বেষী টুইট রি-টুইট
করে ট্রাম্প ‘ভুল’ করেছেন। এতে ট্রাম্প কোনোরকম অনুতপ্ত হননি। উল্টো
তিনি আর একটি টুইট করে বলেন, ‘আমার দিকে নয়। বরং তেরেসার উচিত যুক্তরাজ্যে
যেভাবে ‘ইসলামী সন্ত্রাসবাদ’ ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর
দেয়া।’
No comments:
Post a Comment