Saturday, December 9, 2017

তামাবিল বন্দর দিয়ে কয়লা আমদানি বন্ধ ১৭ দিন

সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ১৭ দিন ধরে কয়লা আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। পাশাপাশি বেকার হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক। উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে কয়লানির্ভর শিল্প কারখানায়। তামাবিল বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কয়লা আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে এতথ্য পাওয়া গেছে। তামাবিল কাস্টমের সুপার ইকবাল হাসান ও বন্দরের সহকারী পরিচালক পার্থ ঘোষ জানান, বন্দরের চার্জ দিতে অপারগতার কথা জানিয়ে ২০ নভেম্বর থেকে আমদানি বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। ১৬-১৮ নভেম্বরের রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান ভিত্তি ধরে তারা বলেন, ‘২০ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর- এ ১৭ দিনে সরকার ১ কোটি ৬৮ লাখ ৪৫ হাজার ৮০৪ টাকা রাজস্ব হারিয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বন্দর কর্তৃপক্ষ লেবার চার্জসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন চার্জ ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে। যদিও অন্যান্য বন্দরে এসব চার্জ তুলনামূলক কম। কয়লা ব্যবসায়ী শেখ আজিজুল হক সুজা যুগান্তরকে বলেন, ‘আগে বন্দরে হলি ডে ট্যাক্স ছিল না, এখন নেয়া হয়। এছাড়া নানা ধরনের চার্জ নেয়া হচ্ছে। এ কারণে আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।’ তিনি বলেন, বন্দর দিয়ে কয়লা আমদানি না হওয়ায় শুধু সরকারের রাজস্ব লোকসান নয়, কয়লানির্ভর শিল্পে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে ইটভাটায়।
কয়লা আমদানি বন্ধের কারণে দাম বেড়েছে ইটের। এখন প্রতি হাজার ইটের মূল্য ৯ হাজার টাকা। সিলেট চেম্বার অব কর্মাসের সহ-সভাপতি এমদাদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ব্যবসার ভরা মৌসুমে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা চরম হতাশ। প্রতিদিন ব্যবসায়ীদের ১০-১৫ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে। এছাড়া বন্দরের প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, বিষয়টি সুরাহা করার জন্য একাধিকবার বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে। কিন্তু সুরাহা না হওয়ায় তারা বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানি বন্ধ রেখেছেন। এ ব্যাপারে তারা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। জানা গেছে, শুক্রবার তামাবিল কয়লা-পাথর আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি সরোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল সিলেট থেকে ঢাকা গেছে। তারা অর্থমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করবেন।

No comments:

Post a Comment