Saturday, December 9, 2017

ছোটকে আরও ছোট করুন, বড় করবেন না

মানুষ একসময় বনে-জঙ্গলে, পাহাড়-পর্বতে বসবাস করত। ফলমূল ছিল তাদের প্রধান খাদ্য। তাদের কাছে তখন জীবন বাঁচিয়ে রাখাই ছিল বড় বিষয়। তারপর লাখ লাখ বছর ধরে বিভিন্ন যুগ বা সময় পর্ব (প্রস্তর যুগ, লৌহযুগ, তাম্র যুগ ইত্যাদি) পেরিয়ে মানুষ আজ বর্তমান অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। এসব যুগ পেরিয়ে মানুষ একসময় এসে সমাজবদ্ধভাবে বসবাস শুরু করে। আর তখন থেকেই তাদের জীবনব্যবস্থায় পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এমন এক ধরনের বোঝাপড়া তৈরি হয়, যাতে তারা একে অন্যের ক্ষতির কারণ না হয়ে বরং সবাই মিলে নিজেদের রক্ষা করে চলতে পারে। সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করতে করতে একটা সময় এসে মানুষের মধ্যে যখন রাষ্ট্র গঠনের চিন্তা আসে, তখনও তারা ভেবেছিল রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যবস্থাটিও হওয়া দরকার সম্মিলিত সিদ্ধান্তেরই বহিঃপ্রকাশ। সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল- মোটা দাগে সবারই রাষ্ট্র ধারণার ভিত্তি ছিল জনআকাঙ্ক্ষা এবং সবকিছুর কেন্দ্রে ছিল মানুষ। কালের বিবর্তনে রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন হিসেবে উঠে আসে একনায়কতন্ত্রবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ইত্যাদি ধারণা বা মতাদর্শ। এসব মতাদর্শের সরব প্রচার ও প্রয়োগও মানুষকে নিয়েই, মানুষের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে। বলা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রাষ্ট্র সৃষ্টি এবং সেসব রাষ্ট্রে বিভিন্ন মতাদর্শের ভিত্তিতে শাসনব্যবস্থার প্রচলন এবং তা পরিচালনা করা হয়েছে ওই ভূখণ্ডের আমজনতার কল্যাণের লক্ষ্যে। বাংলাদেশের জন্মের দর্শনও এর থেকে ভিন্ন কিছু নয়। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও তিনি স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ডাক দিয়েছিলেন ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে। ওই ভাষণের মুখ্য ডাক ছিল- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। বঙ্গবন্ধুর এ ডাকের মধ্যে দুটি অংশ রয়েছে। ১৯৭১ সালে আমরা আমাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে একটি অংশ পূরণ করতে পারলেও ‘মুক্তির সংগ্রামের’ অংশটুকু আজও প্রবহমান। বোধকরি এ প্রবাহের আসলে কোনো শেষ নেই। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হলে প্রতিনিয়তই আমাদের মুক্তির সংগ্রামের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই সংগ্রামে আমরা সততার সঙ্গে সবাই মিলে যুক্ত হতে পেরেছি কি? সম্প্রতি রাষ্ট্রের ও সরকারের বেশকিছু প্রতিষ্ঠান কিংবা সংস্থা নিয়ে টিআইবির কিছু গবেষণা রিপোর্ট আমাদের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে দেখেছি। সেসব রিপোর্টে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রতিনিয়ত বেশ খানিকটা ভাবিয়ে তুলছে বৈকি! টিআইবির প্রতিবেদন কেন, নিজেরাই তো আমরা প্রতিনিয়ত প্রায় প্রত্যেকের কর্মক্ষেত্রে এসবের কালো ছায়া দেখতে পাচ্ছি। প্রশাসন, বিচারাঙ্গন, পুলিশ, নির্বাচনব্যবস্থা, ভূমি, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সমাজের প্রায় সব ক্ষেত্রে অনিয়ম, অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার, অসঙ্গতি আকারে বড় হচ্ছে। দিন দিন যেন এই স্রোত প্রবল থেকে প্রবলতর হচ্ছে। দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির চেয়ে অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তাই কেবল বেড়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ঢালাওভাবে আমাদের শীর্ষ রাজন্যবর্গের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন না উঠলেও ক্ষমতাসীনদের অনেকেই আজকাল এরূপ প্রশ্নের বাইরে থাকতে পারছেন না। মানুষের অসহায়ত্বের ব্যাপারে আজকাল অপেক্ষাকৃত সৎ জনপ্রতিনিধি বা আমলারা কেউ কিছু করে উঠতে পারছেন না। অন্যায়-অসঙ্গতির আজ আর তেমন কোনো প্রতিবিধান নেই সমাজে, এখন এমন কথা উচ্চারিত হতে শুরু করেছে। যারা আজকাল ক্ষমতাবান কিংবা ক্ষমতার কাছাকাছি ঘুরঘুর করছে, তাদের আত্মকেন্দ্রিকতা এবং ভোগ-বিলাসের প্রতি প্রবলভাবে ঝুঁকে পড়ার ব্যাপারটি এখন সাধারণ মানুষের চর্মচোখে ধরা পড়ছে। যারা ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে ক্ষমতাবান এবং চাটুকার, তাদের অনেকেই আজকাল হঠাৎ করেই সঙ্গতিবিহীন বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কীভাবে তারা তা অর্জন করলেন, তাদের কাছে সে কথা জিজ্ঞেস করার যেন কেউ নেই। যারা এ অন্যায়-অসঙ্গতির প্রতিবিধান করতে পারেন, তারাও যেন সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করছেন। ফলে ব্যাপারটি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যে যেখানে পারছে সে সেখান থেকেই ফায়দা লুটছে বা ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। সমাজে ফায়দা লুটার ব্যাপারটি এখন একটি চেইন প্রক্রিয়ার মতো চালু হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার একজন সহকর্মী আমাদের একটি গল্প শুনিয়েছেন। গল্পটি এমন- এক গোয়ালা রাজার বাড়িতে বেশ কিছুদিন ধরে প্রতিদিন দুই কেজি করে দুধ দিয়ে আসছে। হঠাৎ একদিন এক চাটুকার রাজাকে বললেন- হুজুর, আপনাকে গোয়ালা যে দুধ দিয়ে যাচ্ছে সেই দুধ খাঁটি কিনা, মাপ ঠিক দিচ্ছে কিনা, এসব তো তদারকি করা হচ্ছে না। রাজা ভাবলেন ঠিকই তো। অতঃপর রাজদরবার থেকে বিষয়টি দেখভাল করার জন্য একজনকে দায়িত্ব দেয়া হল। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কিছুদিন যেতে না যেতেই ভাবল- আমার সামনে দিয়ে গোয়ালা রাজার বাড়িতে দুধ দিয়ে যাচ্ছে, আর রাজা মহাশয় সেই খাঁটি দুধ পান করছেন। কিন্তু তার নিজের ভাগ্যে দুধ জুটছে কই? একদিন সে গোয়ালাকে বিষয়টি বলল। গোয়ালা তখন লোকটিকে আলাদাভাবে তার জন্য নিয়মিত মূল্য পরিশোধের ভিত্তিতে আধা কেজি করে দুধ দিতে রাজি হল। লোকটি কয়েক দিন যেতে না যেতেই গোয়ালার দুধের দাম বাকি ফেলল। একপর্যায়ে গোয়ালাকে সে প্রস্তাব দিল রাজা মহাশয়ের দুধ থেকে যেন তাকে প্রতিদিন আধা কেজি করে দুধ দেয়া হয় এবং পানি দিয়ে তা পূরণ করে রাজা মহাশয়ের বাড়িতে দুই কেজি মাপে দুধ সরবরাহ করা হয়। গোয়ালা অনন্যোপায় হয়ে রাজকর্মচারীর কথামতো সেই কাজটি করতে শুরু করল। কয়েকদিন যেতে না যেতে দুধের খাঁটিত্ব নিয়ে রাজার সন্দেহ হল। রাজা একদিন তার কর্মচারীকে ডাকলেন। বললেন, তুমি ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছ না। এরপর রাজা স্বপ্রণোদিত হয়ে গোয়ালা ও কর্মচারী উভয়কে মনিটর করার জন্য বিষয়টি গোপন রেখে আরেকজন কর্মচারীকে নিয়োগ দিলেন। কিছুদিন না যেতেই এই কর্মচারীও একই রোগে আক্রান্ত হল- সেও রাজার জন্য আনা দুধ থেকে আধা কেজি করে দুধ নিয়ে নিতে শুরু করল। ফলে রাজার দুধে খাঁটি ও ভেজালের (পানি) অনুপাত দাঁড়াল ১:১। রাজা দুধের এ দুরবস্থা দেখে একদিন তিনজনকেই ডেকে দুই কর্মচারীকে ভর্ৎসনা করলেন এবং গোয়ালাকে ধমকালেন। ধমক খেয়ে একসময় গোয়ালা বলেই ফেলল, হুজুর আপনি খাঁটি দুধ খাবেন কীভাবে, আপনার গেটে প্রবেশ করার আগেই অর্ধেক দুধ তো আপনার দুই কর্মচারী খেয়ে ফেলে! রাজা তৎক্ষণাৎ দুর্ভাবনায় পড়ে গেলেন, খানিকটা নির্বাকও হয়ে গেলেন। সমাজে এখন অনেকেই বর্তমান সরকারের উন্নয়ন-উদ্যোগকে তারিফ করছে ঠিকই, কিন্তু পাশাপাশি এটাও বলতে শুরু করেছে, উদ্যোগ ব্যয়ের অর্ধেক তো চাটুকাররাই খেয়ে ফেলছে। আর সে কারণে বাঁশ দিয়ে স্কুলগৃহ তৈরি হচ্ছে, বাঁধে কোনোরকম মাটি না ফেললেও বাঁধ নির্মাণের বিল পরিশোধ হয়ে যাচ্ছে ইত্যাদি। এসব ব্যাপারে কেউ কিছু বলছে না, দৃষ্টান্তমূলক প্রতিকার নিয়েও কেউ এগিয়ে আসছে না। এসব কর্মকাণ্ড দেখে সরকারও যেন নির্বাক- কোনো কিছু কুলিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। তবে মানুষ কিন্তু অনন্তকাল ধরে এসব নির্লিপ্ততা মেনে নেয় না। অসঙ্গতির বিরুদ্ধে মানুষ ধীরে ধীরে হলেও একসময় প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। গত কয়েকদিনে পত্র-পত্রিকায় কয়েকটি খবর দেখেছি। একটি খবরের শিরোনাম হচ্ছে- চট্টগ্রামে দিয়াজ হত্যা, প্রতিবাদী মায়ের আমরণ অনশন। দিয়াজ একসময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। পরে হলেন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক। পরিবারের দাবি, দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের নাম উল্লেখ করে এ ব্যাপারে মামলাও করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ কর্র্তৃক প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই কেসে হত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। পরিবার এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করলে আদালতের নির্দেশে কবর থেকে লাশ তুলে দ্বিতীয়বার ঢাকায় লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। এ তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, দিয়াজকে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় আসামিরা গ্রেফতার হচ্ছে না, পুলিশের গাফিলতি বা মিথ্যাচার- সবকিছু মিলিয়ে খোদ সরকারসমর্থক এই ব্যক্তির খুনের বিচারাচারে গাফিলতির বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকার না পেয়ে দিয়াজের অভাগা মা নিজেই অনশন শুরু করেছেন। মায়ের এই প্রতিবাদ ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই। গণমাধ্যমে প্রকাশিত আরেকটি খবরের শিরোনাম- ‘ধর্ষণের বিচারের দাবিতে শাহাজাহানের দৌড়’। খবরে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট মধুপুরে চলন্ত বাসে একটি বহুজাতিক কোম্পানির কর্মী রূপা খাতুনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। একটি সুস্থ সমাজে এ ধরনের ঘটনার বিচার-আচারের জন্য বিচার ও বিচার সহায়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রীয়াশীলতাই মানুষকে আশ্বস্ত করে। কিন্তু বাংলাদেশের সমাজে আজকাল যেন সেই আশ্বাস মিলছে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিচারের জন্যও ব্যক্তিকে মাঠে নেমে জনমত তৈরি করতে হচ্ছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের জন্য জনমত তৈরি করতে টাঙ্গাইলের আদালত চত্বরে মির্জা শাহজাহান নামে এক ব্যক্তি প্রতি বুধবার এক ঘণ্টা করে দৌড়াচ্ছেন। এ দৌড়ের মধ্য দিয়ে একজন শাহজাহান হয়তো সবাইকে মুদিত চোখ খুলতে বলছেন।
এমন আহ্বানে একসময় কিন্তু সাধারণ মানুষেরও চোখ-কান খুলে যাবে। এসব ঘটনা প্রতিকারে যারা ম্যাটার করেন, তাদের চোখ-কান যদি এখনও না খোলে, তাদের মধ্যে যদি উপলব্ধি জাগ্রত না হয়, তারা যদি ন্যায্য করণীয় দ্রুত করতে ব্যর্থ হন, তাহলে কিন্তু মানুষ একসময় তাদের বিরুদ্ধ ফুঁসে উঠবে, তাদেরই ছুড়ে ফেলে দেবে। আমি পেশায় একজন শিক্ষক। ২ ডিসেম্বর একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত এক খবরে দেখেছি, আমাদের শিক্ষামন্ত্রীর এলাকা বৃহত্তর সিলেটের একটি সরকারি কলেজ নিয়মিত পাঠদান না করায় একজন শিক্ষার্থীর মুক্তিযোদ্ধা বাবা প্রতিবাদস্বরূপ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। মেয়েকে প্রাইভেট পড়ানোর সঙ্গতি নেই, তাই তিনি চান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে অন্তত নিয়মিত ক্লাস হোক। শিক্ষকরা ক্লাসে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের পাঠদানটুকু করান। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানটিতে তা হচ্ছে না। এটা শুধু নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের চিত্র নয়- দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিবিম্ব এটি। দেশের একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা ক্লাসে তাদের রুটিনমতো পাঠদান করবেন, এ জন্য অভিভাবককে ‘অবস্থান’ গ্রহণ করে দাবি জানাতে হবে অথবা পাঠদান না করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে হবে- এটা শুনতে কি ভালো শোনায়? আমি এই প্রতিবাদী বাবাকে অভিবাদন জানাই। ক’দিন ধরে দেখছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনের চত্বরে একটি ছোট তাঁবু টানিয়ে একজন ছাত্র অনশন করে যাচ্ছে। তার দাবি হচ্ছে, অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচন ঘোষণা করা হোক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষ কিংবা প্রশাসন দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের নির্বাচন দিচ্ছে না। সেই অর্থে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় এবং বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও একই অবস্থা। ছাত্রসমাজের স্বার্থ সংরক্ষণ, গণতন্ত্রের পরিচর্চা এবং দেশে রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরির জন্য এসব প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠান খুবই জরুরি। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমাবর্তনে এমন কথাও বলেছেন যে, ‘ডাকসু ইলেকশন ইজ আ মাস্ট’। দেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তির এমন উচ্চারণের পরও ডাকসুর দাবিতে একজন শিক্ষার্থীকে আজ অনশনে বসতে হচ্ছে। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সুশীল সমাজ, এমনকি সাধারণ শিক্ষার্থী- তারা আজ কোথায়? আসলে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া আজকাল তাদের এজেন্ডায় এক নম্বরে রয়েছে রাজা, রাজ্য, সাধারণ মানুষ- সবাইকে ঠকিয়ে ‘খাঁটি দুধ খাওয়ার’ প্রতিযোগিতা। এরা ‘আর্নড ইনকামের’ চেয়ে ‘আনআর্নড ইনকাম’ নিয়ে বেশি ব্যস্ত। ভালো কোনো উদ্যোগে মনোযোগ দেয়ার সময় যেন আমাদের কারও নেই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিয়ে যৌক্তিকভাবে কিছু ভাবছে বলে মনে হয় না। তবে আমরা সবাই একটি কথা যেন মাথায় রাখি- উপরে বর্ণিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ওই প্রতিবাদগুলোকে আমরা যেন উপেক্ষা কিংবা অবহেলা না করি। এ ধরনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিবাদ কিন্তু কোনো একসময় ‘বড় বিস্ফোরণে’ রূপ নিতে পারে।
ড. শেখ আবদুস সালাম : অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
skasalam@gmail.com

No comments:

Post a Comment