Sunday, December 10, 2017

বৃষ্টিতে রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ চরমে

বঙ্গোপসাগরে নিন্মচাপের প্রভাবে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার থেকে আকাশ মেঘলা, সেই সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি এবং শৈত্যপ্রবাহ বইতে শুরু করেছে। ফলে জনজীবন বিশেষ করে রোহিঙ্গারা জবুথবু হয়ে পড়েছে। উখিয়ার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শনিবার সকালে কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্র্থী ক্যাম্প ঘুরে বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার রাত থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা কাহিল হয়ে পড়েছে। বেড়েছে বিভিন্ন রোগ-বালাই। রোহিঙ্গা বস্তির মাঝি আয়ুব আলী জানান, সর্দি, কাশি, হাঁচিসহ সংক্রামক ব্যধিতে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হলেও ঘরের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি জানান, বৃষ্টির কারণে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে রাস্তা-ঘাট কাদায় একাকার হয়ে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কুতুপালং স্বাস্থ্য ক্লিনিকের কর্তব্যরত চিকিৎসক রনজিৎ বড়ুয়া জানান, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ডিপথেরিয়াসহ বিভিন্ন রোগ-বালাই দেখা দিচ্ছে। শুক্রবার থেকে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত ৫ শতাধিক শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
শৈত্যপ্রবাহের কারণে বেশিরভাগ লোক বাড়ি থেকে বের হয়নি। শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে দেখা গেছে মানুষের ভিড়। ব্যবসায়ীরা জানান, রোহিঙ্গাদের বিতরণ করা শীতবস্ত্র খোলা বাজারে বিক্রি হওয়ার কারণে অন্য বছরের তুলনায় এবার তা কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। নিন্ম ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন অনায়াসে তা কিনতে পারছে। বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, আকাশ মেঘলা, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও শীতের প্রভাবে রোহিঙ্গাদের যাতে দুর্ভোগে পড়তে না হয় সে জন্য প্রচুর পরিমাণ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন এনজিও সংস্থাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন জানান, শৈত্যপ্রবাহে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডিপথেরিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১০৫-এ দাঁড়িয়েছে। এ রোগে শনিবার পর্যন্ত ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করে মেডিকেল টিমগুলোকে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
৭ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা নিবন্ধিত : মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা উখিয়া-টেকনাফে ১২ অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। সরকার এসব রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর থেকে শনিবার পর্যন্ত ৭ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু নোমান মোহাম্মদ জাকের হোসেন।

No comments:

Post a Comment