
ডিবি
পরিচয়ে আসামি ধরতে গিয়ে জনরোষে পড়ল পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড
ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা। শনিবার রাতে রাজধানীর
মৌচাক ফরচুন মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, মাজহারুল ইসলাম ইরান নামে এক
ব্যবসায়ীকে ধরতে গেলে ব্যবসায়ীরা ভুয়া ডিবি সন্দেহে সিটিটিসি সদস্যদের আটক
এবং তাদের গাড়ি ভাংচুর করে। খবর পেয়ে রমনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে
অবরুদ্ধ সদস্যকে উদ্ধার করে। পরে সিটিটিসি সদস্যরা ব্যবসায়ী ইরানকে
গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, জনতার আক্রমণে তাদের ১১ সদস্য আহত
হয়েছেন। এ ঘটনায় রমনা থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০
জনকে আসামি করে পৃথক ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী
জানান, রাত পৌনে ৯টার দিকে রাজধানীর মৌচাক ফরচুন মার্কেটের ৫নং গেটে হঠাৎ
চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শোনা যায়। সেখান থেকে বাঁচাও বাঁচাও আওয়াজ আসতে
থাকে। তখন মার্কেট ও এর আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে যায়। তারা দেখতে পান চারজন
ব্যক্তি একজনকে ঘিরে ধরেছে। ঘিরেধরা ব্যক্তি চিৎকার করছে। এ সময় লোকজন কী
হয়েছে জানতে চাইলে সিটিটিসি সদস্যরা বলেন, আমরা ‘ডিবির লোক’ আসামি ধরতে
এসেছি। উপস্থিত লোকজন তাদের কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা পরিচয়পত্র
দেখাননি। এরপরই বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। খবর
পেয়ে রমনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে। ফরচুন মার্কেটের
ব্যবসায়ী ‘সাগরিকা এন্টারপ্রাইজের’ মালিক মো. শামসুল হক যুগান্তরকে বলেন,
রাত তখন পৌনে ৯টা। মার্কেটের ৫নং গেটে চিৎকারের শব্দ শুনে এগিয়ে যাই।
সেখানে গিয়ে দেখতে পাই দুইজন লোক এক ব্যক্তিকে মার্কেটের পাশে অবস্থিত
টেলিফোন বক্সের পাশে ফেলে টানাটানি করছে। অপর দুইজন পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এ
সময় ওই ব্যক্তি বলেন, আমি মার্কেটের একজন সদস্য, ঐশ্বরিয়া শাড়ি বিতানের
মালিক। আমাকে বাঁচান। তখন আমি ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলি। কেন তাকে আটক
করা হচ্ছে জানতে চাই। তখন তারা বলেন, আমরা ডিবির লোক। তার বিরুদ্ধে
ওয়ারেন্ট রয়েছে।’ শামসুল হক জানান, যারা গ্রেফতার করতে এসেছিল তাদের কাছে
কোনো পুলিশের সরঞ্জাম ছিল না। তারা যে ডিবি পুলিশের সদস্য এটা বোঝার উপায়
ছিল না। ফরচুন মার্কেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর সাবেক
ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুর রহিম যুগান্তরকে বলেন, ‘একটি সাদা হায়েস গাড়িতে করে ৫
থেকে ৬ জনকে আসতে দেখি। তারা মার্কেটের পাশে গাড়ি থামিয়ে একজনকে আটকের
চেষ্টা করে। এ সময় ওই ব্যক্তি চিৎকার করতে থাকে। তার চিৎকারে প্রায় হাজারের
মতো লোক সেখানে জড়ো হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ভুয়া ডিবি সদস্য বলে তাদের
মারধর এবং গাড়িটি ভাংচুর করে।’ এ ঘটনায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ১২
জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জন এবং রমনা থানা পুলিশ বাদী
হয়ে দুই জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০০ জনের বিরুদ্ধে মোট দুটি মামলা
করেছে। রমনা থানার ডিউটি অফিসার এসআই আমেনা খানম যুগান্তরকে বলেন,
‘পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দেয়া, গাড়ি ভাংচুর, আসামি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা,
মালামাল চুরির অপরাধে পুলিশের ঢাকা মহানগর কাউন্টার টেরোরিজমের স্পেশাল
অ্যাকশন গ্রুপের এসআই মাইনুদ্দীন ওফর ফারুক বাদী হয়ে একটি এবং রমনা থানার
এসআই জুলফিকার বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেছেন।’ ফরচুন শপিংমল দোকান মালিক
সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন যুগান্তরকে বলেন,
‘অপরাধ করলে অপরাধের শাস্তি পাবে, সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায়
আসামি ধরা হয়েছে তা আইনসিদ্ধ কিনা সেটা দেখার বিষয় রয়েছে। যে ঘটনা ঘটেছে
সেটি দুঃখজনক।’ মামলার বাদী সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের এসআই
মাইনুদ্দীন ওফর ফারুক যুগান্তরকে বলেন, ‘তেজগাঁও শিল্প অঞ্চল থানায় দায়ের
করা ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির একটি মামলায় ব্যবসায়ী মাজহারুল ইসলাম ইরানকে
গ্রেফতার করতে গিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু সেখানে পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে।’
No comments:
Post a Comment