নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
টেকনাফের উপকুলে জেলেদের জালে আটকা পড়া প্রায় দেড় মন ওজনের সেই বিশাল পোয়া মাছটি অবশেষে বিক্রি হলো দেড় লাখ টাকায়। দু’দিন আগে হাঙ্গর ধরা পড়ার পর পোয়াটি ধরা পড়লো।
জানা যায়, টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ উত্তর পাড়ার বাসিন্দা মোঃ ইউনুছের মালিকানাধীন ইঞ্জিন চালিত একটি মাছ ধরার নৌকা শনিবার ২৩ ডিসেম্বর সকালে বঙ্গোপসাগরের মাছ শিকারে যায়। নৌকার জেলেরা সাগরের অনতিদূরে জাল ফেলে দুপুরে জাল টানার এক ফাঁকে তারা ছোট বড় মাছের সাথে একটি বড় আকারের পোয়া মাছ আটকা পড়তে দেখে মাছটি নৌকায় তুলে নেয়। পরে পশ্চিমপাড়া খালের ভাঙ্গার মাথায় মাছটি তোলা হলে অসংখ্য ক্রেতা দরদাম করার পর সাবরাং নোয়াপাড়ার ফিরোজ আহমদ নামে একজন মাছ ব্যবসায়ী ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যে ইউনুছের নৌকার জেলেদের কাছ থেকে মাছটি ক্রয় করেন। তাৎক্ষণিক ক্রেতা আরো ২০ হাজার টাকা লাভ করে মোঃ এবাদুর রহমান নামে আরেক ব্যবসায়ীর নিকট মাছটি বিক্রি করেছেন বলে জানিয়েছেন।
নৌকার মাঝি বাদল জানিয়েছেন ‘মাছটির বাজার মূল্যে প্রায় ২ লাখ টাকার কাছাকাছি হবে। তবে মাছটি দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণের আমাদের কাছে তেমন ব্যবস্থা না থাকায় কম সময়েই মাছটি বিক্রি করে দিয়েছি। আমরা হয়তো মাছটি আরো সময় অপেক্ষা করলে বা অন্য কোথাও বিক্রি করলে আরো বেশি দাম পেতাম। এখন যে দাম পেয়েছি তাতেও আমরা সবাই খুশি’।
নৌকার মালিক মোঃ ইউনুছ বলেন ‘শনিবার সকালে নৌকার মাঝি বাদলের নেতৃত্বে জেলে আব্দুর রশিদ, রাহমত, রহিম ও বদাইয়াসহ ২৪ জনের একটি জেলে দল প্রতিদিনের মতো সাগরে জাল ভাসাতে যায়, এসময় জালে একটি বড় পোয়া মাছ আটকা পড়ে। তবে এত বড় মাছ সাধারণতঃ জালে আটকা পড়েনা। জেলেরা আমার সাথে আলাপ করে মাছটি উপযুক্ত মূল্যে বিক্রি করেছে’।
উল্লেখ্য, এর আগে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর গ্রামের জেলেদের জালে ধরা পড়েছিল বিশাল আকৃতির হাঙর। বিস্ময়কর হাঙরটি দেখতে নয়াপাড়া ঘাটে ভীড় জমিয়েছে শত শত মানুষ। উপস্থিত মানুষের ভাষ্য মতে, ২৫ মণেরও বেশি ওজনের হাঙরটির নাম হচ্ছে ‘সোয়াইন’।
২১ ডিসেম্বর হাঙরটি নুর মোহাম্মদ জেলের জালে ধরা পড়ে। মাঝি নুর মোহাম্মদ বলেন ‘মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে শামলাপুর নয়াপাড়া নৌকার ঘাট থেকে গভীর বঙ্গোপসাগরে প্রতিদিনের ন্যায় মাছ ধরতে গিয়ে হাঙরটির সন্ধান মিলে। কিন্তু আমরা ৫ জন মিলেও এই বিশাল আকৃতির হাঙরটি ধরে নৌকায় তুলা আমাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ছিল, অবশেষে হাঙরটিকে জাল দিয়ে ঘিরে দুর্বল করে দড়ির সাহায্যে বেঁধে আমাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি এবং আজ ঘাটে নৌকা ভিড়িয়ে দিই। তারপর টেনে ডাঙ্গায় তুলি। অনেক দরকষাকষির পর পরিশেষে হাঙরটির দাম প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা নিশ্চিত করেন নৌকার মালিক নুরুল আলম (৩৫)। হাঙরটি ক্রয় করেছেন শামলাপুরের মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসিম ও তাঁর ব্যবসায়িক পার্টনার।

No comments:
Post a Comment