
জুনিয়র
স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ফলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এবারও
পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকে মেয়েরাই এগিয়ে রয়েছে। তিন বছর ধরে
মেয়েরা তাদের এ অবস্থান ধরে রেখেছে। পরীক্ষায় মেয়েদের উপস্থিতি, পাসের হার ও
জিপিএ-৫ সবই বেশি। তবে সার্বিকভাবে গতবারের চেয়ে এবার রাজশাহী শিক্ষা
বোর্ডে পাসের হার ২ দশমিক ২৪ ভাগ কমেছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের
হার ৯৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এর মধ্যে মেয়েদের পাসের হার ৯৬ দশমিক ২১ আর ছেলেদের
৯৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। গতবার বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এর
মধ্যে মেয়েদের পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৯২ এবং ছেলেদের ৯৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭ হাজার ৬৩৩ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্রী ২১
হাজার ২৩ এবং ছাত্র ১৬ হাজার ৬১০ জন। এবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ২ হাজার
৯৭৩টি বিদ্যালয় থেকে মোট ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৫১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ
নিয়েছিল। পাস করেছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৫৩০ জন। এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী
বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে ৩টি। ১ হাজার ৩৫টি বিদ্যালয় থেকে শতভাগ
শিক্ষার্থী পাস করেছে। গতবার এর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫১৭টি। এবারও কেউ পাস
করেনি এমন বিদ্যালয় রয়েছে ৫টি। গতবার এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ১টি।
রাজশাহী নগরে দুটি সরকারি বালিকা বিদ্যালয় রয়েছে।
এর মধ্যে সরকারি বালিকা
বিদ্যালয় (হেলেনাবাদ) থেকে ১৩২ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। তাদের একজন ছাড়া সবাই
জিপিএ-৫ পেয়েছে। নগরের সরকারি পিএন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২১১ জন
পরীক্ষা দিয়েছিল। শিক্ষার্থীদের ৬ জন ছাড়া সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। এই
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌহিদ আরা বলেন, শৃঙ্খলাই হচ্ছে সাফল্যে
চাবিকাঠি। মেয়েরা অপ্রয়োজনে বাইরে যায় কম। শৃঙ্খলা মেনে চলে বেশিক্ষণ বাসায়
থাকে। তিনি মনে করেন, এসব কারণে শ্রেণিকক্ষেও মেয়েদের উপস্থিতি এবং ফলাফলে
তারা সব দিক দিয়ে এগিয়ে থাকে। রাজশাহী নগরের বহরমপুর এলাকার গৃহিণী মমতাজ
বেগমের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস এবার জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাঁর
মতে, মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে একটু বাধ্য হয়। কথামতো চলে। পড়াশোনায় বেশি
মনোযোগী হয়। মনে হয় এসব কারণেই ওরা এগিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তরুণ কুমার সরকার প্রথম আলোকে
বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় মেয়েরা অনেক অনুপ্রাণিত। তারা একটু বেশি বাসায়
থাকে। মনোযোগী বেশি হয়। পাসের হার কমে যাওয়ার ব্যাপারে তরুণ কুমার সরকার
বলেন, এটা খুবই সামান্য। পরীক্ষার আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে
শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
No comments:
Post a Comment