
হঠাৎ
মেঘনা নদীতে গত তিন দিন ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ মাছ। অসময়ে ইলিশ ধরা পড়ায়
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সাত হাজার জেলে পরিবার মহাখুশি। এ কারণে
বাজারে ইলিশের দাম আগের চেয়ে কমেছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে মেঘনা নদীতে ইলিশ
ধরা পড়ছে। এক যুগ ধরে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত আছেন জেলে আবদুল আজিজ। তিনি
বলেন, শীত মৌসুমে নদীতে ইলিশ মাছ কম ধরা পড়ে। গত বৃহস্পতিবার রাতে মেঘনা
নদীর কাটাখালী এলাকায় তিনি জাল ফেলেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর দেখতে পান পুরো
জাল ইলিশে ভর্তি। পরে মাছগুলো কাটাখালী আড়তে এনে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি
করেন।
গত পাঁচ বছরে শীত মৌসুমে এত ইলিশ ধরা পড়তে দেখেননি তিনি। রায়পুর
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী,
দক্ষিণ চরবংশী, উত্তর চর আবাবিল, দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়নের ৭ হাজার ২৩০
জেলে পরিবার রয়েছে। তারা মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। মাছ ধরা ও
বিক্রি করাই তাদের পেশা। এবার অসময়ে নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় জেলে
পরিবারের লোকজনের মুখে হাসি ফুটেছে। রায়পুর পুরান বেড়ির মাছের আড়তের
ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, আড়তে আগে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ কেজি ইলিশ
বিক্রি হতো। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত এক টন করে ইলিশ
বিক্রি হচ্ছে। দামও আগের চেয়ে কমেছে। মেঘনাপাড়ের সাইজুদ্দিন মোল্লার ঘাটের
ব্যবসায়ী মো. জহির মিয়া বলেন, গতকাল শনিবার প্রায় ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ
মাছের হালি (চারটি) এক হাজার টাকা দিয়ে কিনেছেন। অথচ এ মাছ চার-পাঁচ দিন
আগে দুই হাজার টাকা ছিল। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন,
‘মেঘনা পাড়ের চারটি আড়ত ঘুরে দেখেছি প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। নদীতে পানি বেড়ে
যাওয়ায় অসময়ে ইলিশ ধরা পড়ছে।’
No comments:
Post a Comment