
ঢাকা
উত্তর সিটি করপোরেশনে নতুন যুক্ত হওয়া হরিরামপুর এলাকার আবর্জনা
সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) ফেলতে দিচ্ছে না করপোরেশন
কর্তৃপক্ষ। হরিরামপুর এলাকায় যাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহ করেন
তাঁরা জানিয়েছেন, গতকাল শনিবার সকালে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরে থাকা এসটিএসে
আবর্জনা ফেলতে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। আবর্জনা সংগ্রহকারীদের অভিযোগ,
ডিএনসিসির অঞ্চল-১ উত্তরার সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো.
মহসীনকে ভ্যানগাড়ি প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা দিতেন তাঁরা। তখন আবর্জনা
ফেলতে কোনো সমস্যা হতো না। মাসিক টাকা বন্ধ করার কারণেই এখন তাঁদের এসটিএসে
আবর্জনা রাখতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
কর্মকর্তা কমোডর আব্দুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, ‘উত্তরখান, দক্ষিণখান ও
হরিরামপুরের আবর্জনা এসটিএসে জমা রাখতে আমিই নিষেধ করেছি। কারণ এসটিএস থেকে
যে ঠিকাদার আবর্জনা সংগ্রহ করেন, তাঁর সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ আবর্জনা
সংগ্রহের চুক্তি হয়েছিল। এই তিন এলাকার আবর্জনা অনেক বেশি। এভাবে চলতে
থাকলে আবর্জনার নির্ধারিত পরিমাণ ছাড়িয়ে যাবে এবং ঠিকাদার তা সংগ্রহ করবেন
না। তখন ডিএনসিসির ১ নম্বর ওয়ার্ড উত্তরা থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করা সম্ভব
হবে না। কিন্তু হঠাৎ নিষেধাজ্ঞায় বিপাকে পড়েছেন হরিরামপুরের আবর্জনা
সংগ্রহকারীরা। বাসাবাড়ি থেকে সংগৃহীত ভ্যানভর্তি আবর্জনা তাঁরা এখন কোথায়
নিয়ে রাখবেন? এ প্রসঙ্গে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক বলেন, তাঁরা আগে যেভাবে,
যেখানে আবর্জনা ফেলতেন, সেখানেই আপাতত ফেলতে বলা হয়েছে। তিনি জানান,
করপোরেশনে নতুন যুক্ত এলাকায় সেবা দিতে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি কাজ
করছে। শিগগিরই পরিকল্পনা অনুযায়ী সেবা চালু করা হবে। নতুন করে সেবা পেতে
একটু ধৈর্য ধরতে হবে বলেও জানান তিনি। আবর্জনা সংগ্রহকারীরা জানান, তাঁরা
২০০৩ সালে হরিরামপুরের আবর্জনা সংগ্রহ শুরু করেন। শুরুতে উত্তরা ১২ নম্বর
সেক্টরের ‘ময়লার মোড়ে’ আবর্জনা জমা রাখা হতো। সেখান থেকে করপোরেশনের গাড়ি
আবর্জনা নিয়ে যেত। ২০১৬ সালে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে কবরস্থানের পাশে
বিষেশায়িত সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন চালু হলে অন্যান্য সেক্টরের মতো
তাঁরাও সেখানে আবর্জনা জমা রাখতেন। গত বছর উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের এসটিএস
চালু করা হয়। স্টেশনটি কাছে হওয়ায় পরবর্তী সময়ে সেখানেই আবর্জনা জমা রাখতে
শুরু করেন তাঁরা। আট মাস ধরে এভাবেই চলে আসছে। এ বিষয়ে কমোডর আব্দুর
রাজ্জাক বলেন, হরিরামপুরকে নিয়ে যেহেতু নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে, এর জন্য
তাঁদের ধৈর্য ধরতে হবে। উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, উত্তরায় সিটি
করপোরেশনের তিনটি এসটিএস আছে। এগুলো উত্তরা ৪, উত্তরা ১০ ও উত্তরা ১২ নম্বর
সেক্টরে। এই সবগুলো স্টেশনেই ১ নম্বর ওয়ার্ড উত্তরার বাইরের আবর্জনা ফেলতে
নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তরা ১০ নম্বর
এসটিএসের সামনে আবর্জনাভর্তি ভ্যানগাড়ির সারি। চালকেরা অপেক্ষা করছেন
আবর্জনা রাখার অনুমতির জন্য। এসটিএসের ফটকের সামনে একটি নোটিশ ঝোলানো দেখা
যায়। তাতে লেখা, অঞ্চল-১ ওয়ার্ড নম্বর-১ (উত্তরা) ব্যতীত বহিরাগত কোনো
বর্জ্য এসটিএসে ফেলা নিষেধ—আদেশক্রমে কর্তৃপক্ষ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।
এই এসটিএসের দারোয়ান মো. মনির বলেন, ‘শুক্রবার আমাকে বলা হয়েছে
হরিরামপুরের ভ্যানচালকদের আবর্জনা ফেলতে নিষেধ করে দিতে। আজ (শনিবার) সকালে
অফিসে ডেকে আমাকে আগে নোটিশটি গেটে ঝুলিয়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি
সেভাবেই কাজ করেছি।’ হরিরামপুর থেকে কত দিন ধরে এসটিএসটিতে আবর্জনা ফেলা
হচ্ছে জানতে চাইলে মনির জানান, উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরে এসটিএসের শুরু
থেকেই তাঁরা সেখানে আবর্জনা ফেলছেন। আবর্জনা সংগ্রহকারীদের মতে,
হরিরামপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ২২টি ভ্যানগাড়িতে আবর্জনা সংগ্রহ করা
হয়। মালিক আছেন সাতজন। সবগুলো ভ্যানের আবর্জনাই ১০ নম্বর সেক্টরের এসটিএসে
রাখা হতো। আবর্জনা সংগ্রহকারী ভ্যানগাড়ির মালিক মো. নাগর বলেন, ‘ময়লা রাখতে
না দেওয়ার বিষয়টি আমাদের আগে জানানো হয়নি। এসে দেখি এই অবস্থা।’ মো. নাগর,
মো. শহীদসহ কয়েকজন সংগ্রহকারী দাবি করেন, গত তিন মাস তাঁরা ভ্যানপ্রতি
মাসিক টাকা সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে দিচ্ছিলেন না। সে
জন্যই এই টালবাহানা শুরু হয়েছে। এ অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য উত্তরা
অঞ্চল-১-এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মহসীনকে
একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও
তিনি সাড়া দেননি। টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক
বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করেছি। আর্থিক লেনদেনের কোনো প্রমাণ তাঁরা
দেখাতে পারেননি।’
No comments:
Post a Comment