
ছোটবেলা
থেকেই মেয়েটা খুব ভালো নাচত। চার বছর আগে ক্যানসারে তার একটি পা কেটে ফেলা
হয়। সবাই ভেঙে পড়লেও অঞ্জলি ভেঙে পড়েনি। কাঠের পা লাগিয়ে নাচার চেষ্টা
করে সে। কিন্তু কাঠের পায়ে শুধু চলাফেরা করা যায়। নাচা যায় না। নাচ চালিয়ে
যাওয়ার জন্য যে ধরনের কৃত্রিম অঙ্গ প্রয়োজন হয়, তা খুবই ব্যয়সাপেক্ষ।
অবশেষে কাঠের পা খুলে রেখে এক পায়ে নাচার চেষ্টা শুরু করে অঞ্জলি। প্রথমে
পারত না।
বারবার মুখ থুবড়ে পড়ে যেত। কোনো কিছুতে ভর দিয়ে আবার উঠে
দাঁড়াত। টানা চার বছরের চেষ্টার পর এখন এক পায়েই দুরন্ত গতিতে নাচছে
ভারতের সুভাষগ্রামের ওই কিশোরী। আগামী সপ্তাহে কলকাতায় প্রথম বড় মঞ্চে তার
অনুষ্ঠান। অঞ্জলির নাচের শিক্ষক কুন্তল বর্ধন জানান, ‘আমি ওকে সুধা
চন্দ্রনের নাচের সিডি দেখিয়েছিলাম। বলেছিলাম, উনি কাঠের পায়ে নাচেন। কিন্তু
তুমি এক পায়েই নাচবে। সেখানেই তুমি সবার থেকে আলাদা হবে’। শিক্ষকের সেই
কথাকেই জীবনের মন্ত্র করে নিয়েছিল ওই কিশোরী। সব বিপর্যয় কাটিয়ে উঠে আবার
স্কুলে যাচ্ছে অঞ্জলি। সে এখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বাবা পোশাকের কারখানায়
সামান্য বেতনে কাজ করেন। মা গৃহবধূ। অঞ্জলি বলে, ‘লেখাপড়াটা অনেক দূর
চালাতে চাই। তবে আমার কাছে সবচেয়ে আগে নাচ। ভবিষ্যতে নাচকেই পেশা করতে চাই।
সংসারের দায়িত্ব নিতে চাই’।
No comments:
Post a Comment