
বিদ্যালয়টির
নাম ‘মজার স্কুল’। অথচ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের এই বিদ্যালয়ে নেই কোনো
শ্রেণিকক্ষ, নেই চেয়ার-টেবিল। খোলা আকাশের নিচে পলিথিন বিছিয়ে চলে পাঠদান।
এই বিদ্যালয়ের মূল উদ্যোক্তাদের একজন তাপস দাশ বলেন, এখানকার বেশির ভাগ
ছাত্রছাত্রীরই বাবা-মা নেই। একটা সময় রাস্তায় ভিক্ষা করে ঘুরে বেড়াত যারা,
তারাই এখানকার শিক্ষার্থী। এখানকার শিক্ষার্থীদের অন্য সব বিদ্যালয়ের মতো
নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয় না। এখানে সাধারণ শিক্ষা পদ্ধতিও মেনে চলা হয় না।
পাঠদান চলে মজার ছলে। গল্প, গান, বিভিন্ন রকম মজার খেলার মধ্য দিয়ে চলে
পড়াশোনা। স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, গণনা ইত্যাদি শেখানো হয়। ২০১২ সালে কয়েকজন
যুবকের উদ্যোগে বিদ্যায়টি চালু হয়। প্রায় পাঁচ বছর চলার পর আর্থিক অনটন,
জনবলের সংকট ও জায়গার অভাবে এটি বন্ধ হয়ে যায়। বছরখানেক বন্ধ থাকার পর ২০১৭
সালে বিদ্যালয়টি আবার চালু হয়। বর্তমানে এখানে প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী
রয়েছে। বিভিন্ন মাঠে খোলা আকাশের নিচেই শুক্রবার বাদে সপ্তাহের বাকি ছয়
দিনই চলে পাঠদান। আগের দিন শিশুদের জানিয়ে দেওয়া হয়, পরদিন কোথায় বসা হবে।
দুজন শিক্ষক নিয়মিত পাঠদান করেন। এই দুজনকে নামেমাত্র সম্মানী দেওয়া হয় বলে
তাপস বলেন। আরেক উদ্যোক্তা জলি পাল বলেন, এই বয়সে এসব শিশুর যে রকম
আনন্দঘন পরিবেশ পাওয়ার কথা ছিল, তা তাদের নেই। কিন্তু সব শিশুর একই রকম
শিক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এ দেশে পথশিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি এই পথশিশুদের একটু ভালোভাবে গড়ে তুলতে। আমরা
বিভিন্ন জাতীয় দিবসে তাদের নিয়ে বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করে দিনগুলো
সম্পর্কে তাদের বোঝাতে চেষ্টা করি।’ তাপস দাশ বলেন, ‘এখানে পথশিশুদের
ভিক্ষাবৃত্তি পরিহার, মাদক ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখতে আমরা চেষ্টা করে
যাচ্ছি। আমি মনে করি, মজার স্কুলে এসে তারা অনেক কিছু শিখছে। তাদের শেখার
যথেষ্ট আগ্রহও আছে। প্রতিদিন পাঠদান শেষে এসব শিশুর নাশতার ব্যবস্থা করা
হয়।’ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা পিংকি দাশ ও শিক্ষক আর্য দেবব্রত জানান, এই
শিশুদের পড়াশোনা করানোটা অন্য শিশুদের চেয়ে কঠিন। প্রথম প্রথম ওরা খুবই
দুষ্টুমি করত। তবে এখন সবাই শান্ত হয়েই ক্লাস করে। এখন সবাই পড়তে ও লিখতে
পারে। বিদ্যালয়টি চলে প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। তবে
যদি একটা ভালো শ্রেণিকক্ষ, প্রজেক্টর ইত্যাদি সরঞ্জাম থাকত, তাহলে এসব
শিশুকে আরও সহজে ও ভালোভাবে পড়ানো যেত।
No comments:
Post a Comment